ত্রিভাষা শব্দকোষ প্রকাশ: ভাষা ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধনে নতুন সংযোজন

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০২৬

ত্রিভাষা শব্দকোষ প্রকাশ: ভাষা ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধনে নতুন সংযোজন

Manual8 Ad Code

নিজস্ব সংবাদদাতা | ঢাকা, ০২ জুন ২০২৬ : বাংলা, সাঁওতালি ও ইংরেজি—এই তিন ভাষার পারস্পরিক সংযোগ, অনুবাদ ও শিক্ষাগত প্রয়োজনে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে ‘ত্রিভাষা-শব্দকোষ’।

বিশিষ্ট গবেষক ও অভিধানপ্রণেতা দিলীপকুমার দত্ত রচিত এই শব্দকোষটি সম্প্রতি নবকলেবরে প্রকাশিত হয়েছে। ভাষা-গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আদিবাসী সংস্কৃতি-অনুরাগীদের কাছে গ্রন্থটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Manual8 Ad Code

বর্তমান সময়ে বহুভাষিক শিক্ষা, আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক ভাষার সংরক্ষণ ও বিকাশের প্রশ্নে অভিধানের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলা, সাঁওতালি ও ইংরেজি ভাষার শব্দভাণ্ডারকে একত্রে উপস্থাপন করার এই উদ্যোগকে অনেকেই সময়োপযোগী এবং গবেষণামূলক কাজ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক

প্রকাশকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রিভাষিক এই শব্দকোষটি শিক্ষার্থীদের ভাষা-অধিগমনে বিশেষ সহায়তা করবে। বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা সাঁওতালি ভাষার শব্দ ও ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবেন, আবার সাঁওতালি ভাষাভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ও ইংরেজি শব্দের অর্থ ও প্রয়োগ বোঝাও সহজ হবে। ফলে ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

Manual3 Ad Code

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সাঁওতালি ভাষা নিয়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং অনুবাদচর্চার ক্ষেত্র ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। কিন্তু উপযুক্ত অভিধান ও রেফারেন্স গ্রন্থের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। এই নতুন শব্দকোষ সেই শূন্যতা অনেকাংশে পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অভিধান প্রণয়নের জটিলতা

একটি অভিধান রচনা নিজেই একটি দীর্ঘমেয়াদি ও শ্রমসাধ্য কাজ। সেখানে তিনটি ভিন্ন ভাষার শব্দ, অর্থ, ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহারিক দিককে একত্রে উপস্থাপন করা আরও কঠিন। ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, এমন কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাষাগুলির ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য, ব্যাকরণ, শব্দতত্ত্ব এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।

এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জীবনকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মূল্যায়নে বলেছেন—
“অভিধানের মাধ্যমে মনের বিচিত্র ঔৎসুক্য মেটানো, উপযুক্ত শব্দ সন্ধানের মননশীল অ্যাডভেঞ্চার কম থ্রিলিং নয়। আলোচ্য অভিধানটি তন্নিষ্ঠ পরিশ্রমের ফল। তার জন্য প্রয়োজন তিনটি ভাষার আঙ্গিক, প্রকরণ, প্রায়োগিক কৌশল, ব্যাকরণের খুঁটিনাটির উপর দখল। এই দক্ষতা যে দিলীপকুমারের অনেকটাই আছে তার প্রমাণ আলোচ্য অভিধানের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে। আদিবাসী সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলা ভাষাভাষীদের সেতুবন্ধন আরও সমৃদ্ধ হবে।”

অধ্যাপকের এই মন্তব্য অভিধানটির গবেষণামূলক মূল্য ও প্রাসঙ্গিকতার দিকটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

বাংলা ও সাঁওতালি ভাষার মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

সাঁওতালি ভাষা ভারতের অন্যতম প্রধান আদিবাসী ভাষা এবং সংবিধানের অষ্টম তফসিলভুক্ত ভাষাগুলির মধ্যে একটি। দীর্ঘকাল ধরে এই ভাষার সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি, গান, ইতিহাস এবং জীবনধারা ভারতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। তবুও মূলধারার ভাষাভাষীদের কাছে সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতির অনেক দিক এখনও অজানা।

Manual5 Ad Code

এই ত্রিভাষা শব্দকোষ বাংলা ভাষাভাষী সমাজের কাছে সাঁওতালি ভাষাকে আরও সহজ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে সাঁওতালি ভাষাভাষীদের জন্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষার শব্দার্থ ও ব্যবহার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। ফলে ভাষাগত দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষক ও অনুবাদকদের জন্য মূল্যবান সম্পদ

ভাষাবিদদের মতে, এই অভিধান শুধুমাত্র সাধারণ পাঠক বা শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; গবেষক, অনুবাদক, শিক্ষক এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্তরে সাঁওতালি ভাষার ব্যবহার বাড়ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বহুভাষিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলা–সাঁওতালি–ইংরেজি সমন্বিত একটি অভিধান নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্যও কার্যকর সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রকাশনা ও প্রাপ্তি

‘ত্রিভাষা-শব্দকোষ’ গ্রন্থটির রচয়িতা দিলীপকুমার দত্ত। গ্রন্থটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। বইটি প্রকাশ করেছে বীরুৎজাতীয় প্রকাশনা।

বইটি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বইয়ের দোকান, কলেজ স্ট্রিটের একাধিক বিপণি, শান্তিনিকেতন, বর্ধমান, সোদপুর ও শ্রীরামপুরের নির্বাচিত বইয়ের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বুবুক, বাতিঘর এবং তক্ষশীলা বইঘরেও বইটির প্রাপ্যতা রয়েছে।

অনলাইনেও বইটি সংগ্রহ করা যাবে birutjatio.org ও Amazon-এর মাধ্যমে।

ভাষা সংরক্ষণ ও জ্ঞানচর্চার পথে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ

Manual3 Ad Code

বিশ্বায়নের যুগে ছোট ভাষা ও আঞ্চলিক ভাষাগুলির সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা, সাঁওতালি ও ইংরেজিকে এক সূত্রে বেঁধে নির্মিত ‘ত্রিভাষা-শব্দকোষ’ কেবল একটি অভিধান নয়; এটি ভাষাগত বহুত্ব, সাংস্কৃতিক সহাবস্থান এবং জ্ঞান-বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আদিবাসী ঐতিহ্য ও ভাষাগত সম্পদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটি দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিমনস্ক মহল।

প্রাপ্তিস্থান-
Whatsapp – 9475453795
কলেজস্ট্রিট: প্রতিক্ষণ, দে বুকস্টোর (দীপু), প্ল্যাটফর্ম, গল্পগুচ্ছ, ধ্যানবিন্দু।
সোদপুর: পাপাঙ্গুল ঘর।
শ্রীরামপুর: Vestpocket
শান্তিনিকেতন: রামকৃষ্ণ বুক স্টোর, সুবর্ণরেখা, বইঘর শান্তিনিকেতন।
বর্ধমান: নবনী বুকস্টল, রেলওয়ে হুইলার স্টল। বাংলাদেশ: বুবুক, বাতিঘর, তক্ষশীলা।

অনলাইন: birutjatio.org, Amazon

Amazon
https://amzn.in/d/0iWyFmDm

ত্রিভাষা-শব্দকোষ
দিলীপকুমার দত্ত
বিনিময়- ৭৫০/-

প্রকাশক– #বীরুৎজাতীয়
#বীরুৎজাতীয় #bookstagram #নতুনবই #birutjatio #dictionary #sabdakosh #অভিধান #অলচিকি #সাঁওতালি #ত্রিভাষা

বীরুৎজাতীয়র সম্পূর্ণ ক্যাটালগটি দেখতে নিচের দেওয়া লিংক-এ ক্লিক করুন:
https://drive.google.com/file/d/1BEBgxVpP25INDgYmwyTpDCTK8-kDj2N3/view?usp=sharing

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ