রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী কাজী মতিউর রহমান জহুরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২৬

রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী কাজী মতিউর রহমান জহুরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৭ এপ্রিল ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সুপরিচিত রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও সফল ব্যবসায়ী কাজী মতিউর রহমান জহুরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২৭ এপ্রিল)।

দিনটি উপলক্ষে তাঁর পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে।

কাজী মতিউর রহমান জহুর ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৌলভীবাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তিনি শ্রীমঙ্গল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত ছিলেন।

Manual8 Ad Code

শুধু রাজনীতিই নয়, একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষাবিস্তার এবং দরিদ্র মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান শ্রীমঙ্গলের মানুষ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, সদালাপী ও মানবিক গুণাবলিতে ভরপুর একজন মানুষ। তাঁর স্নেহশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ তাঁকে সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল।

তাঁর পুত্র কাজী কামরুল ইসলাম বাবুল, যিনি বনফুল নাট্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পিতার আদর্শকে ধারণ করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, “কাজী মতিউর রহমান জহুর ছিলেন একজন সৎ, আদর্শবান ও জননিবেদিত রাজনীতিবিদ। তাঁর মৃত্যুতে শ্রীমঙ্গলবাসী একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবককে হারিয়েছে। তাঁর আদর্শ ও কর্ম আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন, ব্যবসায়ী মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দোয়া মাহফিল, কোরআন খতম এবং স্মরণসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।

কাজী মতিউর রহমান জহুরের জীবন ও কর্ম শ্রীমঙ্গলের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করেন তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

কাজী জহুর এক অনন্য প্রেরণা
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

নিশীথের নীরব ক্ষণে থেমে থাকা সময়
স্মৃতিরা জেগে ওঠে, বয়ে আনে বিষণ্ন স্রোতধারায়,
পাঁচটি বছর পেরিয়ে গেল, তবু আজও মনে হয়—
তিনি আছেন নীরবে, এই জনপদের প্রতিটি হাওয়ায়।

Manual2 Ad Code

শ্রীমঙ্গলের পথে পথে যে নামটি উচ্চারিত,
মানুষের হৃদয়ে লেখা, শ্রদ্ধায় অমলিন, অমরিত,
কাজী মতিউর রহমান জহুর—প্রিয় এক আলোকধারা,
রাজনীতি আর মানবতায় যাঁর ছিল দীপ্তি সারা।

Manual4 Ad Code

একটি জীবন মানেই শুধু জন্ম-মৃত্যুর হিসাব নয়,
তার ভেতরে থাকে কত স্বপ্ন, সংগ্রাম, অজস্র জয়,
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে যে পথচলা,
সেই পথ আজও দীপ্যমান, অন্ধকারে জ্বলে আলো।

ছাত্রলীগের দিনগুলোতে উত্তাল তরুণ প্রাণ,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ ছিল দৃপ্ত, অবিচল জ্ঞান,
রাজনীতির মাঠে তিনি ছিলেন সাহসী সৈনিক,
জনগণের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন নিরন্তরিক।

পৌর আওয়ামী লীগের দায়িত্ব যখন কাঁধে নিলেন,
মানুষের দুঃখ-সুখে নিজেকে সঁপে দিয়ে মিললেন,
ক্ষমতার মোহে নয়, সেবায় ছিল তাঁর বিশ্বাস,
তাই আজও মানুষ তাঁকে স্মরণ করে নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস।

ব্যবসার জগতেও তিনি ছিলেন সেবার প্রতীক,
সততা ছিল পাথেয়, পথ ছিল না কখনো সংকীর্ণ বা সংকটময় দীক্ষা-বিহীন,
পরিশ্রমে গড়া সাফল্য, মানুষের সাথে বন্ধন,
একটি নাম হয়ে উঠেছিল আস্থার এক অনুক্ষণ।

গৃহের মাঝে ছিলেন তিনি স্নেহময় পিতা, স্বামী,
সন্তানদের চোখে তিনি আদর্শের উজ্জ্বল ভূমি,
পরিবারের প্রতিটি কোণে তাঁর স্নেহের ছায়া,
আজও যেন ঘুরে বেড়ায়, নীরবতায় বেদনার মায়া।

হৃদযন্ত্র থেমে গেল এক নিঃশব্দ রাত্রিতে,
কিন্তু থামেনি তাঁর পথচিহ্ন মানুষের স্মৃতিতে,
লাইফ লাইন ক্লিনিকের সেই শেষ প্রহরের ক্ষণ,
আজও যেন প্রতিধ্বনি তোলে অশ্রুসিক্ত মন।

মৃত্যু তো এক অনিবার্য সত্য, চিরন্তন নিয়ম,
তবু কিছু মানুষের প্রস্থান হয় গভীর অনুপম,
তাঁদের চলে যাওয়া মানে শূন্যতা নয় কেবল,
একটি যুগের অবসান, নীরবতায় ভারাক্রান্ত আকাশ-তল।

বনফুল নাট্য সংস্থার স্বপ্নে যে বীজ বোনা,
তার মূলে ছিল তাঁরই আদর্শের সোনা,
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণা,
মানুষ গড়ার পথে ছিল তাঁর অটল প্রত্যয়ধ্বনি।

আজ পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীর এই গম্ভীর প্রহরে,
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা মিশে যায় নীরব অশ্রু-নহরে,
স্মৃতির পাতায় জেগে ওঠে তাঁর প্রতিটি হাসি,
মানুষের মাঝে বেঁচে থাকা—এই তো জীবনের খাঁটি রাশি।

যে মানুষটি কখনো হারিয়ে যান না সময়ের ভিড়ে,
মানবতার আলো হয়ে থাকেন যুগের পরে যুগ ঘিরে,
তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই হৃদয়ের গভীরতায়,
তিনি আছেন, থাকবেন—এই বাংলার প্রতিটি মমতায়।

হে প্রিয় জহুর, আপনার পথ আমাদের পথপ্রদর্শক,
আপনার আদর্শ আমাদের কাছে অম্লান আলোক,
যতদিন এই মাটি, এই মানুষ, এই স্বপ্ন বেঁচে থাকবে,
ততদিন আপনার নাম শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হবে।

শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করি আজ নীরব প্রার্থনায়,
আপনার আত্মা থাকুক শান্তির অনন্ত ছায়ায়,
মানুষের ভালোবাসা হোক আপনার চির সঙ্গী,
ইতিহাসে লেখা থাকুক আপনার জীবনরঙী।

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ