বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ এবং তাদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি

প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২৬

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ এবং তাদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি

Manual4 Ad Code
  • বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে সনাকের মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৪ জুন ২০২৬ : বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, শক্তিশালী তদারকি এবং শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সনাকের আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের বক্তারা।

তারা বলেছেন, শিশুশ্রম নির্মূলে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, তার কার্যকর বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রবিবার (১৪ জুন ২০২৬) সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা।

‘শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই: শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শহরের মৌলভীবাজার সড়কে প্রাইম ব্যাংকের সামনে কর্মসূচির আয়োজন করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), টিআইবি শ্রীমঙ্গল।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে শিশুশ্রম কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হলেও এখনও বহু শিশু বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই ও পুনর্ব্যবহার সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ঘটনা এবং সামাজিক বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

তারা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের অধিকাংশ কার্যক্রম অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হওয়ায় সেখানে শিশুশ্রম শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, শ্রম অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ, নিয়মিত মনিটরিং এবং খাতটির কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

Manual6 Ad Code

মানববন্ধন শেষে সনাক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাক শ্রীমঙ্গলের সহ-সভাপতি কাজী আক্তার। টিআইবি শ্রীমঙ্গলের কো-অর্ডিনেটর মো. আবু বকর সভা সঞ্চালনা করেন।

Manual4 Ad Code

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সনাকের সাবেক সভাপতি ও ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দ্বীপেন্দ্র ভট্টাচার্য; সাবেক সভাপতি, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ নেসার আহমদ, সদস্য জিডিসন প্রধান সুছিয়াং, রহিমা বেগম, রীনা মজুমদার এবং ইয়েস দলনেতা সৈয়দ আরমান জামি।

Manual5 Ad Code

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে সনাকের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ইয়েস দলনেতা ও শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ আরমান জামি।  ছবি : সংগৃহীত। 

বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম শুধু একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এটি শিশুদের মৌলিক অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ শৈশবের ওপর সরাসরি আঘাত। শিশুদের বিদ্যালয়ে রাখার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। তারা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।

ইয়েস দলনেতা এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ আরমান জামি বলেন, “একটি শিশুর স্থান কর্মক্ষেত্রে নয়, বিদ্যালয়ে। শিশুশ্রম বন্ধে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কোনো শিশুর সম্পৃক্ততা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”

আলোচনা সভায় বক্তারা শ্রীমঙ্গল উপজেলার শিশুশ্রম পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, অনেক শিশু এখনও অর্থনৈতিক চাপে শ্রমে যুক্ত হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাবৃত্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সহায়তামূলক কর্মসূচি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে প্রণীত ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ফাহিম ও তৃষা ভৌমিক। ধারণাপত্রে শিশুশ্রম নির্মূলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ খাতে শিশুদের অংশগ্রহণ বন্ধ এবং শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় সনাক, ইয়েস, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ