অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিল ও কমরেড মেননের মুক্তির দাবীতে কুষ্টিয়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬

অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিল ও কমরেড মেননের মুক্তির দাবীতে কুষ্টিয়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | কুষ্টিয়া, ২৭ জুন ২০২৬ : কুষ্টিয়ায় জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করে আজকের বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, “পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে ও অবৈধভাবে করে যাওয়া মার্কিন-বাংলাদেশ অসম বাণিজ্যচুক্তিকে রেখে, বর্তমান সরকার পার্লামেন্টে তা আলোচনা না করে চুক্তি নিয়ে যেভাবে লুকোচুরি খেলছে তা ’এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। চুক্তির নামে বিভিন্ন ধারা উপধারা যেভাবে মার্কিন কর্তৃত্ব ও স্বার্থ দেখানো হয়েছে তাতে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সর্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হবে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে এদেশের মানুষ পাকিস্তানী উপনিবেশিকতার জাল ছিড়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সেদিনও সপ্তম নৌ বহর পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে চেয়েছিলো, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর মেটিকুলাস ডিজাইন করে মার্কিন—বাংলাদেশ অসম চুক্তির মাধ্যমে পুন: উপনিবেশ করার অপচেষ্টা হচ্ছে। এদেশে ধর্মাশ্রয়ী ফ্যাসিবাদী শক্তি ও মার্কিন অপশক্তিসহ দক্ষিণপন্থী শক্তির সম্মিলিত চেষ্টা রয়েছে এদেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ঘাঁটির ভিত্তি তৈরী করা।”

সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা সার্বভৌম রক্ষার সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা।

শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া পৌরসভা ‘বিজয় উল্লাস প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ-মার্কিন অসম চুক্তি বাতিল ও কমরেড রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। এর আগে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কুষ্টিয়া জেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল করে।

Manual1 Ad Code

মিছিলটি কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মজিবুর রহমান, জেলা সভাপতি কমরেড ফজলুল হক বুলবুল, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড হাফিজ সরকার, জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য কমরেড আবদুল হক, প্রবীণ কৃষক নেতা কমরেড গুজরত আলী মোল্লা, জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি এসরারুল হক, জাতীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক লুতফুল হক পাপ্পানা, গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা বিল্লাল হোসেন, যুবনেতা ওহিদুল, মোখলেস, উজ্জ্বল, মনিরুল, যুবায়ের ও সবুজ মন্ডল প্রমুখ।

Manual2 Ad Code

সভা পরিচালনা করেন শহর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মজিবুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি জনগণ মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেন, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বা কৌশলগত চুক্তি সংসদে আলোচনা ও জনপর্যালোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

Manual8 Ad Code

জেলা সভাপতি কমরেড ফজলুল হক বুলবুল বলেন, দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে বিদেশি প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের উদ্বেগ দূর করতে চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ করার আহ্বান জানান।

Manual5 Ad Code

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড হাফিজ সরকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বহিরাগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে, যা প্রতিহত করতে গণআন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্য এবং কর্মসংস্থানের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

‘ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান’

সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, একটি মহল দেশকে জঙ্গিবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা এ ধরনের তৎপরতা প্রতিহত করতে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিসহ সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে নেতারা ঘোষণা দেন, উত্থাপিত দাবিগুলো আদায়ে দেশব্যাপী আন্দোলন-সংগ্রাম আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে জনগণকে সচেতন ও সংগঠিত করার কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে মার্কিন – বাংলাদেশ অসম চুক্তি বাতিল, জননেতা রাশেদ খান মেননের মুক্তি, কৃষকের ফসলের ন্যায্য মুল্য নির্ধারণ, চাল ডাল তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো, বন্ধ মিল কারখানায় চালু করে কর্মসংস্থান করা, বর্ধিত বিদ্যুৎ, ডিজেল ও তেলের দাম কমানো, সার বীজ কীটনাশকের দাম কমানোর দাবী করেন। সেই সাথে একটি মহল দেশকে জঙ্গীবাদী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে, তা রুখে দিতে সমস্ত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ