শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে মৌসুমী ফল উৎসব

প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৬

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে মৌসুমী ফল উৎসব

Manual6 Ad Code
  • সাংবাদিক ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের মিলনমেলায় দেশীয় ফলের সমাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৯ জুন ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে স্থানীয় মৌসুমী ফলের প্রচার, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহ এবং সাংবাদিক, প্রশাসন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌসুমী ফল উৎসব।

Manual5 Ad Code

সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) রাত ৮টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ উৎসব প্রাণবন্ত পরিবেশে পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমী মিলনমেলায়।

Manual3 Ad Code

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান। তিনি বক্তব্যে বলেন, সরকারি দায়িত্ব ও কর্মব্যস্ততার কারণে অবসর কিংবা বিনোদনের সুযোগ খুবই সীমিত। তবে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের এমন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগে অংশ নিয়ে এবং দেশীয় মৌসুমী ফলের বৈচিত্র্যময় স্বাদ উপভোগ করে আনন্দিত হয়েছি।

ইউএনও আরও বলেন, “আমাদের দেশে নানা ধরনের পুষ্টিকর মৌসুমী ফল রয়েছে, যা শুধু সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং এগুলোর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।” তিনি এ উদ্যোগের জন্য শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রুবেল আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিবুল্লাহ আকন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূরুল আলম সিদ্দিকী ও যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম কামরুল।

বক্তারা বলেন, দেশীয় মৌসুমী ফল আমাদের কৃষি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে অনেকেই স্থানীয় ফলের পরিবর্তে বিদেশি ফলের দিকে ঝুঁকছেন। অথচ দেশীয় ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ব্যবহার বাড়লে কৃষি অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

Manual5 Ad Code

অনুষ্ঠানে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সাংবাদিক সমাজ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল, বিএনপির মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দুরুদ আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন এবং জেলা যুবদলের সহসভাপতি নিয়ামুল হক তরফদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।

Manual3 Ad Code

সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা-এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান; সিনিয়র সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, মামুন আহমেদ, মিজানুর রহমান আলম, মো. শফিকুল ইসলাম রুম্মন, সাইফুল ইসলাম, সাইফুর রহমান শিপু, কাজী গোলাম কিবরিয়া জুয়েল, নূর মোহাম্মদ সাগর, শামসুল ইসলাম শামীম, শাকির আহমেদ, ঝলক দত্ত, সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ, এহসান বিন মুজাহির, আবুজার রহমান বাবলা, সুলতান মাহমুদ, মো. জামাল, সুমন, সোলেমান আহমেদ মানিক, মো. আলামিন, পিন্টু দেবনাথসহ অন্যান্যরা।

উৎসব উপলক্ষে মিলনায়তনে দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমী ফলের আকর্ষণীয় প্রদর্শনী সাজানো হয়। আম, কাঁঠাল, আনারস, তরমুজ, পেয়ারা, কলাসহ নানা ধরনের ফল অতিথিদের পরিবেশন করা হয়। অতিথিরা ফলের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ পান।

আয়োজকরা জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিশু-কিশোরদের মধ্যে ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফলের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য থেকেই এ আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক সমাজ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করাও ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ব্যতিক্রমী এ ফল উৎসব শ্রীমঙ্গলে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও জনসচেতনতামূলক আয়োজন নিয়মিত করার আহ্বান জানান। ফলে উৎসবটি শুধু মৌসুমী ফল উপভোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় সমাজে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ