আন্তর্জাতিক জলবায়ু সাংবাদিকতা ফেলোশিপ পেলেন সারাবাংলার ফারহানা হক নীলা

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২৬

আন্তর্জাতিক জলবায়ু সাংবাদিকতা ফেলোশিপ পেলেন সারাবাংলার ফারহানা হক নীলা

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা, প্রভাব ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে গভীরতাভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং ফেলোশিপ পেয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল সারাবাংলা ডটনেটের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ফারহানা হক নীলা।

আন্তর্জাতিক পরিবেশ সাংবাদিকদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সংগঠন ‘আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক (ইজেএন) এই ফেলোশিপের জন্য তাকে মনোনীত করেছে।

ইজেএন আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘ইন্টারনিউজ’-এর একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ, জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সাংবাদিকদের কাজকে উৎসাহিত করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং এ সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানী ও গভীরতাভিত্তিক সাংবাদিকতার জন্য ফারহানা হক নীলাকে এই ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে।

ফেলোশিপের আওতায় ফারহানা হক নীলা বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতি, এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব, বেসরকারি খাতের কর্মকাণ্ড, জলবায়ু অর্থায়ন, শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা, অভিযোজন ও প্রশমন উদ্যোগ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে একটি গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। ইজেএনের পক্ষ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে তার নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন

Manual4 Ad Code

আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার অঙ্গনে ইজেএনের ফেলোশিপ পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি মর্যাদাপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা আহ্বানের পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেলো নির্বাচন করা হয়।

বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুযোগ তৈরি করাই এ ধরনের ফেলোশিপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশে শিল্প, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও বেসরকারি উদ্যোগ কীভাবে পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলছে এবং একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় কী ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে—তা অনুসন্ধান ও তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে এই ফেলোশিপের মাধ্যমে।

১৯ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে বহুমাত্রিক কাজ

ফারহানা হক নীলা দীর্ঘ ১৯ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ করেছেন। জাতীয় ও রাজনৈতিক সংবাদ, মানবাধিকার এবং সাংস্কৃতিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে পরিবেশ, ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক ও জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় তার সাংবাদিকতার অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি এসব বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনা, বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতাকে প্রতিবেদনে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।

২০২৫ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘প্রেস ফ্রিডম ডে’-এর আন্তর্জাতিক সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেন ফারহানা হক নীলা। এছাড়া এর আগে তিনি ‘এশিয়া জার্নালিজম ফেলোশিপ ২০২২’ এবং ইন্টারনিউজের ‘লেটস টক ভ্যাকসিনস সাউথ এশিয়া মিডিয়া ফেলোশিপ ২০২৩’-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ফেলোশিপ অর্জন করেন।

সাংবাদিকতায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে ধারাবাহিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবারের আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং ফেলোশিপকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

Manual8 Ad Code

শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান

ফারহানা হক নীলা আন্তর্জাতিক জলবায়ু সাংবাদিকতা ফেলোশিপের জন্য মনোনীত হওয়ায় তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথার বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

Manual5 Ad Code

এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। এই বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, এর সামাজিক-অর্থনৈতিক অভিঘাত এবং সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানী ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারহানা হক নীলার মতো একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক আন্তর্জাতিক এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে ফারহানা হক নীলা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করেছেন। বিশেষ করে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে তার আগ্রহ ও কাজ প্রশংসনীয়। ইজেএনের এই ফেলোশিপ তার সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং বাংলাদেশের জলবায়ু বাস্তবতা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে।”

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান আশা প্রকাশ করেন, ফেলোশিপের আওতায় প্রস্তুত করা প্রতিবেদন বাংলাদেশের জলবায়ু সংকট, বেসরকারি খাতের দায়িত্ব ও সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে নতুন তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি সামনে আনবে।

জলবায়ু সংকট ও বেসরকারি খাতের দায়বদ্ধতা

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যে কৃষি, মৎস্য, পানি, স্বাস্থ্য, জীবিকা, উপকূলীয় জনপদ, নগরজীবন এবং অভিবাসনের ওপর পড়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও তাপপ্রবাহের মতো বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকাকে প্রভাবিত করছে।

এই পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি খাতেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে কার্বন নিঃসরণ কমানো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক উদ্যোগ—এসব ক্ষেত্রেও বেসরকারি খাতের কার্যকর অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

অন্যদিকে শিল্পায়ন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব, দূষণ, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপের বিষয়গুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বেসরকারি খাতের সম্পর্ককে শুধু বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা ও সামাজিক ন্যায্যতার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Manual1 Ad Code

ইজেএনের এই ফেলোশিপের মাধ্যমে এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের অনুসন্ধানী উত্তর খোঁজার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় বেসরকারি খাত জলবায়ু সংকটকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, আবার সংকট মোকাবিলায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে—ফেলোশিপের আওতায় প্রস্তাবিত প্রতিবেদনে এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।

ফারহানা হক নীলার এই আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ অর্জন বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে দেশের জলবায়ু বাস্তবতা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা আন্তর্জাতিক পাঠকের সামনে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ