কয়েস সামীর ‘শো, ডোন্ট টেল’: গল্প বলার শিল্পে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২৬

কয়েস সামীর ‘শো, ডোন্ট টেল’: গল্প বলার শিল্পে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০১ আগস্ট ২০২৬ : দেশের সমকালীন কথাসাহিত্যে স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত কথাসাহিত্যিক ও ছড়াকার কয়েস সামী এবার লেখালেখির কৌশল নিয়ে প্রকাশ করেছেন নতুন গ্রন্থ ‘শো, ডোন্ট টেল’। গল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং সৃজনশীল লেখালেখিতে আগ্রহীদের জন্য রচিত বইটি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে অনুজ প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী আশরাফুল ইসলাম।

অনুগল্প, ছোটগল্প এবং বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারধর্মী রচনার জন্য পাঠকমহলে সুপরিচিত কয়েস সামী পেশাগত জীবনে একজন ব্যাংকার। তবে কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি সমকালীন বাংলা সাহিত্যে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছেন। সাহিত্যচর্চার প্রাথমিক সময়ে তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শ্রীমঙ্গল শাখার একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। সেই সময় থেকেই পাঠাভ্যাস, সাহিত্যচর্চা এবং নতুন লেখকদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর লেখালেখির দর্শনকে সমৃদ্ধ করেছে।

প্রকাশিত নতুন গ্রন্থ ‘শো, ডোন্ট টেল’ মূলত সৃজনশীল লেখালেখির একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে কেন্দ্র করে রচিত। সাহিত্যে বহুল আলোচিত ‘Show, Don’t Tell’ ধারণাটি কী, কেন এটি গল্প বলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে লেখকরা বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে এই কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন—এসব বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।

গ্রন্থটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭০ টাকা। তবে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, অনলাইনে প্রি-অর্ডারের ক্ষেত্রে পাঠকরা ১৯০ টাকায় বইটি সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।

Manual6 Ad Code

বইটির প্রি-অর্ডার উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে গল্প পাঠের মৌলিক উদ্দেশ্য নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন কয়েস সামী। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘পাঠক কেন গল্প পড়ে?’—এবং বলেন, অনেক লেখক গল্প লেখার ব্যস্ততায় এই মৌলিক প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে ভুলে যান।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, একজন পাঠক যখন কোনো প্রবন্ধ বা গবেষণাপত্র পড়েন, তখন তাঁর উদ্দেশ্য থাকে তথ্য সংগ্রহ করা। কিন্তু উপন্যাস বা গল্পের পাঠক তথ্যের জন্য নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতার জন্য বই হাতে নেন। তিনি কিছু সময়ের জন্য নিজের জীবন থেকে বেরিয়ে অন্য এক জগতে প্রবেশ করতে চান; অন্য কারও চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখতে চান, অন্যের সুখ-দুঃখ অনুভব করতে চান।

Manual3 Ad Code

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাঠক যখন কোনো বই পড়তে পড়তে সময়ের হিসাব ভুলে যান, গভীর রাত পর্যন্ত বই নামাতে পারেন না, তখন তিনি কেবল তথ্য গ্রহণ করছেন না; বরং গল্পের জগতের ভেতরে বাস করছেন। চরিত্রগুলো তাঁর কাছে বাস্তব মানুষের মতো হয়ে ওঠে এবং তাদের আনন্দ-বেদনা পাঠকের নিজের অনুভূতির অংশ হয়ে যায়।

Manual8 Ad Code

এই অভিজ্ঞতা তৈরির মূল চাবিকাঠি হিসেবে ‘দেখানো’র (Show) গুরুত্ব তুলে ধরে কয়েস সামী বলেন, শুধুমাত্র ঘটনা বলে দেওয়া (Tell) পাঠককে তথ্য দিতে পারে, কিন্তু তাকে গল্পের জগতে সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত করতে পারে না। পাঠকের অনুভূতি, কল্পনা ও অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করাই একজন গল্পকারের বড় সাফল্য, আর সেই লক্ষ্যেই ‘শো, ডোন্ট টেল’ কৌশল কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

সাহিত্যসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলা ভাষায় সৃজনশীল লেখালেখির কৌশল নিয়ে মানসম্মত গ্রন্থের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সে দিক থেকে ‘শো, ডোন্ট টেল’ নতুন ও অভিজ্ঞ—উভয় ধরনের লেখকের জন্যই একটি প্রয়োজনীয় সংযোজন হতে পারে। বিশেষ করে গল্প, উপন্যাস, শিশু-কিশোর সাহিত্য কিংবা চিত্রনাট্য রচনায় আগ্রহীদের কাছে বইটি লেখার কারিগরি দিক বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, প্রি-অর্ডার পর্ব শেষে বইটি দেশের বিভিন্ন বইয়ের দোকান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইটি নিয়ে পাঠক ও লেখক মহলে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। লেখালেখির কৌশলভিত্তিক এই গ্রন্থটি নবীন লেখকদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ সাহিত্যিকদেরও নতুন করে গল্প নির্মাণের শিল্প নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ