পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির নেতৃত্ব দিতে পারে চীন

প্রকাশিত: ৮:২২ পূর্বাহ্ণ, মে ২৬, ২০২০

পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির নেতৃত্ব দিতে পারে চীন

Manual4 Ad Code

অান্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৬ মে ২০২০: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতিতে একক আধিপত্য দেখিয়ে আসছে সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছে সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতির দেশ চীন। তারা এখন বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে শিগগিরই তারা পুঁজিবাদী বিশ্বের মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে প্রথম অবস্থান দখল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে চলমান মহামারি করোনাভাইরাসের সংকটকালীন এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যেতে পারে। ইতোমধ্যে আর্থিক খাতসহ সামগ্রিক দিক দিয়ে মার্কিন নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নিজেদের ঘরের সমস্যা সামাল দিতেই হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। এই সুযোগে সেই জায়গাটা নেয়ার চেষ্টা করছে চীন।

অবশ্য করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার আগ থেকেই বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু রাতারাতি যে এমনটা সম্ভব হবে, ব্যাপারটা তা নয়। বরং বিশ্বজুড়ে চলমান এই সংকট চীনের জন্য একটা সুযোগ করে দিয়েছে। বিশ্বকে দেখাতে পারে, তারা বাস্তবে কী করতে পারে। এমনটাও হতে পারে, দীর্ঘ মেয়াদে তারা ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের দিকে টেনে নিয়ে আসবে।

Manual3 Ad Code

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে চীনের ব্যাংকিং খাত গত ১০ বছরে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাত কিছুটা স্থিতিশীল। ফলে চীনের ব্যাংকিং খাতের সম্পদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর চেয়ে অনেক বেশি।

কিন্তু আন্তর্জাতিক ঋণের বাজারে চীনা ব্যাংকগুলোর ভাগ মাত্র ৭ শতাংশ। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ প্রায় ৮০ শতাংশ। তাছাড়া চীনা ব্যাংকগুলোর সকল ব্যবসা প্রধানত চীনের মধ্যেই। তাই এই দিক দিয়ে তারা অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তবে তারা এখন অন্যান্য দেশে যেতে শুরু করেছে। ঋণ দেয়ার পাশাপাশি নিজের মুদ্রাকে আরো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় যাওয়া চীনা কোম্পানিগুলো নিজেদের মুদ্রা ব্যবহারে সম্মত হয়েছে।

এর মধ্যেই বিশ্বব্যাপী শুরু হয় করোনাভাইরাসের প্রকোপ। সর্বপ্রথম চীনে ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরু হয় এবং তারা ইতোমধ্যে এটির নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশই ভাইরাসটির মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে। ভেঙে পড়েছে তাদের অর্থনৈতিক অবকাঠামো। অবস্থা এমন হয়েছে যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য ও কার্যকলাপ করছেন।

Manual6 Ad Code

অন্যদিকে, করোনা নিয়ন্ত্রণ করে চীন এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে। ভাইরাসটির প্রতিরােধ সম্পর্কিত জ্ঞান অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছে। বিপুল পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী রপ্তানি করেছে। পাশাপাশি যাদের কাছে চীনা ঋণ আছে, তাদের আপাতত ঋণের কিস্তি পরিশোধ থেকে রেহাই দিয়েছে তারা। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব বাজারে মার্কিন ও চীন প্রভাবিত দুটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Manual8 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ