৩ বছরে ইব্রাহিম দেশের আয় বাড়িয়েছেন ৪৩ভাগ!

প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২৫

৩ বছরে ইব্রাহিম দেশের আয় বাড়িয়েছেন ৪৩ভাগ!

Manual8 Ad Code

মঞ্জুরে খোদা টরিক |

বুরকিনা ফাসো’র প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরে লোকটি খুব খারাপ লোক! সে কিনা অস্ট্রেলিয়ার এক কোম্পানিকে লিজ দেয়া সোনার খনি ফিরিয়ে নিতে চায়! সে বলে কিনা যদি ফিরিয়ে না দাও তাহলে আমাদের দেশের খনির সোনার অর্ধেক ভাগ দাও। না হলে আমি চুক্তি বাতিল করবো!! ব্যাটা বলে কি?

Manual5 Ad Code

আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো’র সবচেয়ে বড় স্বর্ণখনি “কিয়াকি খনিটি” বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মালিকানাধীন এক কোম্পানির অধীনে আছে। যাদের কাছে আছে এই মালিকানা সেই বিদেশিরা পায় এই স্বর্ণের ৮৫ ভাগ, আর যারা এই খনি প্রকৃত মালিক সেই বুরকিয়া ফাসো পায় মাত্র ১৫ ভাগ!! কি বিষ্মেয়ের বিষয়? কি মহা অন্যায়.?

Manual1 Ad Code

বিশ্বের উন্নত দেশের এই বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের পছন্দের ক্ষমতালোভি শাসকদের ক্ষমতায় রেখে গরীব দেশগুলো কাঠামোগত শোষণ ও লুটপাট করে। আর বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও বুরকিনা ফাসো’র মত দেশগুলোকে গরীব থেকে যায়।

২০২২ সালে ইব্রাহিম ত্রাওরে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বুরকিনা ফাসোর ক্ষমতা দখল করেন। তিনিই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সের আলোচিত রাষ্ট্রপতি, বয়স মাত্র ৩৫।

এই প্রেসিডেন্ট ত্রাওরে হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি তাদের স্বর্ণের খনির নিয়ন্ত্রণ ও পুনরুদ্ধার চান, সেটা আপাতত না হলে- তাদের উৎপাদিত স্বর্ণের কমপক্ষে ৫০ ভাগ তাদের দিতে হবে। এটা নিয়ে তিনি সেই কোম্পানির সাথে তিনি রাতদিন দেনদরকার করছেন।

ইব্রাহিম ত্রাওরে বলেছেন তারা কখনও বিয়ার/মদ আমদানি করবে না। ১৭ বিলিয়ন ফ্রাঙ্ক বিনিয়োগ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে “ব্রুয়ারি দু বুরকিনা ফাসো” পুনরায় চালু করেছেন। যেটি হবে এখন দেশের প্রধান বিয়ার/মদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এই কোম্পানিকে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ করে বিদেশ থেকে বিয়ার/মদ আমদানি করা হতো। এই কাজ তিনি করেছেন মাত্র দুই বছরে। যার ফলে দেশের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

২০২২ সালে ইব্রাহিম ত্রাওরে ক্ষমতা গ্রহণের তিন বছর পর বুরকিনা ফাসোর অর্থনীতি বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। ভাবা যায়?? আর আমরা দেড় বছরে সর্বক্ষেত্রে শুধু পিছিয়েছি আর পিছিয়েছি!! প্রায় ৭ থেকে আমার জিডিপি সারে তিনে নেমেছে!! তারপরো সিঙ্গাপুর হওয়ার স্বপ্ন আমাদের যায় না!

Manual2 Ad Code

এই যে আফ্রিকার গরীর দেশ বুরকিনা ফাসো’র ইব্রাহিম ত্রাওরে পিএইচডি করেননি, সাধারণ একজন গ্রাজুয়েট, পড়েছেন ভূ-তত্ত্বে। সুতরাং তার নোবেল পাওয়া তো দূরের কথা!! কিন্তু তিনি দেশপ্রেমের শিক্ষার অতীব উচ্চস্তরে আছেন.. যে কারণে আফ্রিকার এ্ই কালো মানুষটি দেশকে এগিয়ে নিতে একাই বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও কর্পোরেট পাহাড় ঠেলছেন। তিনি বলছেন না, আগের সাম্রাজ্যবাদী তাবেদার শাসক দেশকে ধ্বংস করে গেছেন। তিনি মাত্র তিন বছরে ৪৩ ভাগ আয় বাড়িয়ে দেশটির চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। যে কারণে বিশ্বে তিনি অল্প বয়সের এক আলোচিত রাষ্ট্রনায়ক।
#
লেখক :
ড. মঞ্জুরে খোদা টরিক
লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

 

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ