বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টুর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২৬

বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টুর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual3 Ad Code
  • মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও প্রগতিশীল রাজনীতিতে তাঁর অবদান স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬ : বর্ষীয়ান রাজনীতিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, গণফোরামের সভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছে।

মোস্তফা মোহসীন মন্টু ২০২৫ সালের ১৫ জুন বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি চার মেয়ে, এক ছেলে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মোস্তফা মোহসীন মন্টু ঢাকা জেলা গেরিলা বাহিনীর প্রধান এবং ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের কঠিন সময়ে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কৌশলগত ভূমিকা মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেন এবং দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতারা বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে যাঁদের অবদান অনস্বীকার্য, মোস্তফা মোহসীন মন্টু তাঁদের অন্যতম। তাঁর নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন মোস্তফা মোহসীন মন্টু। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং দলটির ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

Manual6 Ad Code

১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন।

১৯৯২ সালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত গণফোরামে যোগ দিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করেন। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন পর্যায় থেকে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০০৯ সালে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়ে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চর্চার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়

মোস্তফা মোহসীন মন্টুর মৃত্যুর পর ২০২৫ সালের ১৫ জুন রাতে রাজধানীর কাটাবন ঢালের বাইতুল মামুর জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১৬ জুন সকাল ৯টায় কেরানীগঞ্জের নেকরোজবাগ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তাঁর জানাজা ও দাফনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাঁরা তাঁর কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং দেশের জন্য তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

সহকর্মীদের স্মৃতিচারণ

গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রওশন ইয়াজদানী বলেন, “মোস্তফা মোহসীন মন্টু ছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একজন সম্মুখসারির বীর সেনানী। মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে তিনি অসামান্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতা ও সংগঠক হিসেবে ভূমিকা আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, নৈতিকতা ও আদর্শের প্রশ্নে কখনও আপস করেননি। তিনি ছিলেন একজন সৎ, স্পষ্টভাষী এবং গণমানুষের রাজনীতিক।”

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শ্রদ্ধা নিবেদন

Manual4 Ad Code

বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

এক বার্তায় তিনি বলেন, “মোস্তফা মোহসীন মন্টু ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিক। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি আজীবন অবিচল ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে যেমন তাঁর অবদান স্মরণীয়, তেমনি গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাকে শক্তিশালী করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জন্য মোস্তফা মোহসীন মন্টুর জীবন ও সংগ্রাম এক উজ্জ্বল প্রেরণার উৎস। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রশ্নে তাঁর আদর্শ আমাদের পথ দেখাবে। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।”

জাতির স্মৃতিতে অম্লান এক নাম

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, গণতন্ত্রের সংগ্রামী সৈনিক এবং আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিক হিসেবে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে। স্বাধীনতার চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনকল্যাণমুখী রাজনীতির প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকার তাঁকে জাতীয় জীবনে এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

Manual1 Ad Code

তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের এই সাহসী সংগঠক ও গণমানুষের রাজনীতিককে।

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ