বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে ৯ দিনের ভ্রাম্যমাণ বই উৎসব

প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে ৯ দিনের ভ্রাম্যমাণ বই উৎসব

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১০ জুন ২০২৬ : দেশব্যাপী আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে বইপাঠ ও জ্ঞানচর্চার আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। সেই ধারাবাহিকতায় পাঠকসমাজের কাছে মানসম্মত বই সহজলভ্য করে তুলতে কেন্দ্রটি আয়োজন করছে বিশেষ ‘ভ্রাম্যমাণ বইমেলা: বই উৎসব’।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ উৎসবে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রকাশনার বিপুলসংখ্যক বই বিশেষ মূল্যছাড়ে বিক্রি করা হবে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবন-২-এর প্রাঙ্গণে এ বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও পাঠকদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো বইকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা।

আয়োজকরা বলছেন, বর্তমানে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের ফলে বইপাঠের চর্চা অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় মানসম্মত বইকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে পাঠকের হাতে তুলে দিতে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

উৎসবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নিজস্ব প্রকাশনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থার বই স্থান পাবে। একই সঙ্গে বিদেশি সাহিত্য, অনুবাদগ্রন্থ ও বিশ্বখ্যাত লেখকদের উল্লেখযোগ্য রচনাও থাকবে সংগ্রহে। পাঠকরা এখানে বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের নানা গুরুত্বপূর্ণ বই একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

মেলায় পাওয়া যাবে দেশি-বিদেশি খ্যাতিমান লেখকদের উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, রম্যরচনা, ভ্রমণকাহিনি, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, শিশু-কিশোর সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি এবং সমকালীন নানা বিষয়ের বই। ফলে বিভিন্ন বয়স ও আগ্রহের পাঠকদের জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে একটি সমৃদ্ধ বই-সংগ্রহের ক্ষেত্র।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ মূল্যছাড়। সাধারণত বাজারে প্রচলিত মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ছাড়ে বই কেনার সুযোগ থাকায় পাঠকদের মধ্যে এ আয়োজন নিয়ে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, তরুণ পাঠক, গবেষক এবং বইপ্রেমীদের জন্য এটি একটি বিশেষ সুযোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বইপাঠকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে নানা কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। স্কুলভিত্তিক বইপাঠ কর্মসূচি, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, বই বিতরণ এবং বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের পাঠাভ্যাস উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার এ উদ্যোগ পাঠক ও বইয়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার স্থান নয়; এটি জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এমন আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার পাশাপাশি সমাজে সৃজনশীল চিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকরা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে বই উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, নয় দিনের এই আয়োজন বইপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে এবং পাঠাভ্যাস বিস্তারে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

“জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল যাত্রা”— কমরেড আমিরুজ্জামান

Manual5 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা–এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান মেলার সফলতা কামনা করে বলেন— “আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের হাত ধরে ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ৪৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীন, চিন্তাশীল ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরির নিরলস সাধনায় নিবেদিত।”

Manual7 Ad Code

তিনি আরও বলেন— “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কোনো গৎবাঁধা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক সজীব অঙ্গন। অনুসন্ধিৎসু ও সৌন্দর্যপ্রবণ মানুষদের মিলনস্থলই এই কেন্দ্র। বই পড়ার অভ্যাস, জ্ঞানচর্চা ও রুচিশীল সংস্কৃতি বিকাশই এর লক্ষ্য।”

তার আশাবাদ— “ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভবনে আয়োজিত এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলায় জ্ঞানপিপাসু মানুষের অংশগ্রহণে ‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ আন্দোলন আরও বেগবান হবে।”

Manual3 Ad Code

ভ্রাম্যমাণ বই উৎসব

স্থান: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবন-২ প্রাঙ্গণ

তারিখ: ১২ জুন – ২০ জুন

সময়: প্রতিদিন দুপুর ১২টা – সন্ধ্যা ৭টা

বিশেষ সুবিধা: ৪০%–৬০% মূল্যছাড়ে দেশি-বিদেশি প্রকাশনার বই

পাঠক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এ আয়োজনকে একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এ উদ্যোগ বইপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ