সিলেট ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৮ জুলাই ২০২৬ : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব, প্রখ্যাত গবেষক, ইতিহাসবিদ ও লেখক এবং বৃহত্তর সিলেটের কৃতি সন্তান দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
২০২১ সালের ২৮ জুলাই সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং কর্মজীবনের পাশাপাশি ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্ম, সংস্কৃতি ও সিলেটের শেকড়সন্ধানী গবেষণায় অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের সদস্য, স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী, লেখক-গবেষক এবং তাঁর গুণগ্রাহীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন। বিশেষ করে সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ইতিহাসচর্চায় তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ নতুন প্রজন্মের পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
জন্ম ও শৈশব
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ১৯৩৯ সালে তৎকালীন হবিগঞ্জ মহকুমার নবীগঞ্জের দিনারপুর পরগনার সদরঘাট গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা দেওয়ান নুরুল আনোয়ার শৈশব থেকেই শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি কিছুদিন আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
প্রশাসনে দীর্ঘ কর্মজীবন
১৯৬৯ সালে তিনি তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (ইপিসিএস) যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দেন।
কর্মজীবনে তিনি পাবনা সদর মহকুমার মহকুমা প্রশাসক (এসডিও), পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান, সংস্থাপন ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিচালক এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও তিনি কর্মরত ছিলেন।
দীর্ঘ প্রশাসনিক কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে যুগ্ম সচিব হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।
প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে ও নিরহংকারী। সহকর্মী, পরিচিতজন ও স্বজনদের কাছে তাঁর বিনয়, সদালাপী আচরণ এবং দৃঢ় নৈতিক চরিত্র বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
গবেষণা ও সাহিত্যচর্চায় অনন্য অবদান
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি ছিল তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যচর্চা। তিনি ছিলেন একজন উচ্চমাপের গবেষক, ইতিহাসমনস্ক লেখক এবং শেকড়সন্ধানী চিন্তাবিদ। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করেন।
তাঁর রচনার পরিসর ছিল বিস্তৃত। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘জালালাবাদের কথা’, ‘হজরত শাহজালাল ও সিলেটের কথা’, **‘সিলেট বিভাগের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামে সিলেট’**সহ প্রায় ৩০টিরও বেশি মূল্যবান মৌলিক গ্রন্থের রচয়িতা তিনি।
সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, দলিলপত্র পর্যালোচনা এবং নিবিড় গবেষণার ফসল। আঞ্চলিক ইতিহাসকে বৃহত্তর জাতীয় ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর লেখাগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বিশেষ করে সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিকাশ, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, আঞ্চলিক ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে সিলেটের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর গবেষণামূলক কাজ ইতিহাসসচেতন পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে।
ইতিহাসের শেকড় অনুসন্ধানে নিবেদিত ছিলেন
দেওয়ান নুরুল আনোয়ারের লেখালেখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল শেকড়ের সন্ধান। ইতিহাসকে তিনি কেবল অতীতের বিবরণ হিসেবে দেখেননি; বরং একটি জাতি, অঞ্চল ও সমাজের বর্তমানকে বুঝতে তার অতীতের ধারাবাহিকতা অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস নিয়ে তাঁর দীর্ঘ গবেষণা স্থানীয় ইতিহাসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসের পাশাপাশি আঞ্চলিক ইতিহাস, লোকস্মৃতি, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি তাঁর গবেষণাকর্ম এগিয়ে নিয়েছেন।
তাঁর গ্রন্থসমূহে সিলেটের অতীত, ঐতিহ্য ও নানা ঐতিহাসিক ঘটনা সম্পর্কে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা পাওয়া যায়। ফলে তাঁর রচনা শুধু সাধারণ পাঠকের জন্য নয়, গবেষক ও ইতিহাস অন্বেষণকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।
সাদাসিধে জীবন ও নৈতিক দৃঢ়তা
প্রশাসনের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত থেকেও দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ছিলেন সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন নিরহংকারী, বিনয়ী ও সদালাপী। তাঁর সঙ্গে যাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল, তাঁদের স্মৃতিতে তাঁর অমায়িক ব্যবহার ও মানবিক মূল্যবোধ বিশেষভাবে উজ্জ্বল।
তিনি ছিলেন দৃঢ় নৈতিক চরিত্রের অধিকারী। সরকারি আমলা হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবন পার করলেও ক্ষমতা, পদমর্যাদা কিংবা সামাজিক অবস্থান তাঁর ব্যক্তিগত জীবনযাপনকে আড়ম্বরপূর্ণ করে তুলতে পারেনি। বরং জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও ইতিহাস অনুসন্ধানেই তিনি জীবনের বড় একটি সময় ব্যয় করেছেন।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদ হুসেনের জামাতা
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদ হুসেনের জামাতা ছিলেন। পারিবারিক জীবনেও তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল ও সজ্জন ব্যক্তি। তাঁর পরিবারে শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শ্রদ্ধা
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
সম্পর্কে দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী তাঁর দুলাভাই উল্লেখ করে কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “সম্পর্কে তিনি আমার দুলাভাই, অত্যন্ত সজ্জন, বিনয়ী ও উঁচুমানের গবেষক, লেখক এবং ইতিহাসবিদ। একজন সরকারি আমলা হয়েও একেবারে সাধারণ জীবনযাপন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমতা-ন্যায্যতার প্রশ্নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনেই বিশ্বজনীন মহান এই গুণীর দৃষ্টিভঙ্গি, জীবন সংগ্রাম, কীর্তি, ইতিহাস, তত্ত্ব ও অনুশীলন সম্পর্কে পাঠ প্রাসঙ্গিক ও জরুরি।”
উত্তরাধিকার হয়ে থাকবে তাঁর গবেষণাকর্ম
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর জীবন ছিল বহুমাত্রিক। একদিকে তিনি ছিলেন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসক, অন্যদিকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিবেদিত গবেষক। সরকারি চাকরির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের শিকড়, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানার যে তাগিদ তিনি ধারণ করেছিলেন, তা তাঁর বিপুল সাহিত্যকর্মে প্রতিফলিত হয়েছে।
তাঁর মৃত্যুর পাঁচ বছর পরও তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ও গবেষণাকর্ম পাঠক, গবেষক ও ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২১ সালের ২৮ জুলাই তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের প্রশাসন, সাহিত্য ও গবেষণাঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর রেখে যাওয়া কর্ম, গবেষণা, গ্রন্থ ও জীবনাদর্শ তাঁকে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে। পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই প্রথিতযশা প্রশাসক, গবেষক, লেখক ও ইতিহাসসন্ধানী ব্যক্তিত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর স্মরণে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—
আজও কি ভোরের হাওয়ায়
সদরঘাটের পথে পথে
শোনা যায় সেই কণ্ঠস্বর—
“ইতিহাসকে জানতে হলে
ফিরে চলো শিকড়ের কাছে,
মানুষেরই কাছে ফিরে
দেখো তার স্বপ্ন আর ব্যথা,
দেখো তার রক্তের দাগে
কীভাবে গড়ে ওঠে দেশ?”
আজও কি দিনারপুরের
মাটির গন্ধে মিশে আছে
একটি নাম—
একটি দীপ্ত, নিরহংকার
জীবনভরা আলোকরেখা,
যে মানুষটি চলে গেছেন
পাঁচটি বছর পেরিয়ে আজও
স্মৃতির ভিতর বেঁচে আছেন
অমলিন এক নক্ষত্র হয়ে?
আজ আকাশের নীল পটে
শ্রদ্ধার অক্ষর লিখে
সিলেট থেকে বাংলার ঘরে
ঘরে ঘরে বাজে স্মরণ—
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার,
তোমার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে
নত হয়েছে কালের কপাল,
নত হয়েছে প্রিয় মাটি,
নত হয়েছে ইতিহাসও
তোমার ঋণের ভারে।
তুমি ছিলে একদিন এই
বাংলারই প্রশাসনে
দায়িত্বশীল এক মানুষ,
রাষ্ট্রের দীর্ঘ করিডরে
ক্ষমতার কত দরজা পেরিয়ে
অটুট রেখেছিলে অন্তর;
পদ ছিল, পরিচয় ছিল,
ছিল রাষ্ট্রের দায়িত্ব,
তবু তোমার জীবনজুড়ে
ছিল না অহংকারের ছায়া।
উনিশশ ঊনচল্লিশে
হবিগঞ্জের সেই জনপদে,
নবীগঞ্জের দিনারপুরে,
সদরঘাটের সম্ভ্রান্ত ঘরে
জন্মেছিল যে শিশুটি,
কে জানত তার পদচিহ্ন
একদিন পেরিয়ে যাবে
সিলেটের পাহাড়-নদী,
ইতিহাসের বহু স্তর,
বাংলার বিস্তৃত স্মৃতি?
মাটির কাছে জন্ম যার,
মাটির কাছেই ঋণ ছিল;
শৈশব পেরিয়ে শিক্ষা,
শিক্ষা শেষে কর্মজীবন—
আইনের পথে কিছুদিন
মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
তারপর রাষ্ট্রের ডাকে
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ,
সময়ের কঠিন স্রোতে
নিজেকে গড়ার সাধনা।
উনিশশ ঊনসত্তর—
এক উত্তাল সময়ের ভেতর
ইস্ট পাকিস্তান সিভিল
সার্ভিসে দিলে যোগদান;
দেশ তখন দগ্ধ হচ্ছে,
সময়ের বুক কাঁপছে তখন,
রাজনীতির সংগ্রাম পথে
ইতিহাস নিচ্ছে বাঁক;
তুমি দেখেছ কাছ থেকে
রাষ্ট্রের মুখ, মানুষের মুখ,
শাসনের ভেতর মানুষের
অধিকার আর অশ্রু।
পাবনা সদর মহকুমার
এসডিওর দায়িত্ব কাঁধে,
পাবনার অতিরিক্ত
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তুমি;
শ্রম ও কর্মসংস্থানে,
সংস্থাপনের দায়িত্বে,
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে
উপসচিবের কর্মধারা;
দুর্নীতি দমন ব্যুরোর
পরিচালকের কঠিন পদ,
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের
মহাপরিচালকের আসন—
কত নাম, কত পদ, কত
দাপ্তরিক ব্যস্ততা পেরিয়ে
একটি মানুষ নিজেকে
রেখেছিল মানুষের পাশে।
কাগজের ফাইলে শুধু
ছিল না তোমার জীবন;
ছিল মানুষের অধিকার,
ছিল ন্যায়বোধের আগুন,
ছিল রাষ্ট্রকে সুন্দর
করার এক নিরব সাধনা।
উনিশশ সাতানব্বইতে
যুগ্ম সচিব হয়ে শেষে
অবসর নিলে তুমি;
কিন্তু অবসর কি হয়
জ্ঞানীর কলমের কখনো?
রাষ্ট্রের দাপ্তরিক কাজ
থামতে পারে একদিন,
থামে না জ্ঞানের যাত্রা,
থামে না শিকড়ের ডাক,
থামে না ইতিহাস খোঁজা,
থামে না সত্যের অনুসন্ধান।
তারপর কলমই হলো
তোমার দ্বিতীয় জীবন,
গবেষণাই হয়ে উঠল
অন্তরের নিত্য প্রার্থনা;
পাতার পর পাতা খুলে
অতীতের ধুলো সরিয়ে
তুমি খুঁজেছ মানুষের
হারিয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বর,
অন্ধকারে চাপা-পড়া
ইতিহাসের মুখচ্ছবি।
তুমি জানাতে চেয়েছিলে—
ইতিহাস কেবল রাজাদের
সিংহাসনের গল্প নয়;
ইতিহাস মানে মানুষের
ঘাম, অশ্রু, রক্ত, আশা,
পথের ধুলো, নদীর স্রোত,
মসজিদের আজানধ্বনি,
পল্লির নিভৃত প্রদীপ,
মায়ের চোখের জলও
ইতিহাসের অংশ হয়ে
থাকে যুগের অন্তরে।
তাই তুমি ফিরে গেলে
সিলেটের প্রাচীন পথে,
পাহাড় ঘেরা জনপদে,
সুরমার ঢেউয়ের কাছে;
ফিরে গেলে শাহজালালের
আধ্যাত্মিক পদচিহ্নে,
ফিরে গেলে জালালাবাদের
বহু পুরোনো স্মৃতিতে,
ফিরে গেলে মানুষের
বিশ্বাস আর সংগ্রামের
দীর্ঘ ইতিহাসের ভেতর।
‘জালালাবাদের কথা’
শুধু কি একটি গ্রন্থ?
তার পাতায় পাতায় যেন
একটি জনপদের প্রাণ;
‘হজরত শাহজালাল
ও সিলেটের কথা’ যেন
বিশ্বাস, সাধনা, ইতিহাস
একসাথে বহন করে;
‘সিলেট বিভাগের ইতিহাস
ও স্বাধীনতা সংগ্রামে সিলেট’—
এইসব গ্রন্থের ভেতর
জেগে আছে এক জনপদ।
প্রায় ত্রিশেরও অধিক
মূল্যবান মৌলিক গ্রন্থে
তুমি রেখে গেলে চিহ্ন;
প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচে
শ্রমের গভীর স্বাক্ষর,
প্রতিটি তথ্যের পেছনে
অনুসন্ধানের দীর্ঘ রাত,
প্রতিটি বাক্যে মিশে আছে
মাটি ছুঁয়ে দেখার দায়,
সত্যকে যাচাই করার
এক নিরলস প্রত্যয়।
সিলেটকে তুমি শুধু
ভালোবাসোনি হৃদয়ে,
সিলেটকে তুমি জেনেছ
গবেষণার আলোয়;
তার নদী, তার পাহাড়,
তার মানুষ, তার ইতিহাস,
তার গৌরব, তার বেদনা,
তার সংগ্রামের দিনগুলি
তুলে এনেছ ধীরে ধীরে
সময়ের বিস্মৃত ঘর থেকে।
যে ইতিহাস হারিয়ে যায়
অবহেলার অন্ধকারে,
যে কাহিনি মুছে যেতে
চায় প্রজন্মের স্মৃতি থেকে,
তুমি তারই দ্বারে গিয়ে
কড়া নেড়েছ বারবার;
পুরোনো দলিল খুলে,
প্রবীণের কথা শুনে,
মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা
স্মৃতির কাছে নত হয়ে
তুমি লিখেছ মানুষের কথা।
বাঙলা একাডেমির
প্রকাশনার পাতায় পাতায়
তোমার গবেষণার আলো
আজও ছড়িয়ে আছে;
সাহিত্য শুধু অলংকার নয়—
সাহিত্য জাতির স্মৃতি,
সাহিত্য মানুষের আয়না,
সাহিত্য শেকড়ের ভাষা—
এই বিশ্বাস বুকে নিয়ে
তুমি লিখে গেছ নিরন্তর।
তোমার কলমের কাছে
অতীত ছিল বর্তমান,
বর্তমান ছিল ভবিষ্যৎ,
আর ভবিষ্যৎ ছিল প্রশ্ন—
আমরা কোন দেশ গড়ব?
কেমন হবে মানুষের
সমতার সেই বাংলাদেশ?
কোথায় থাকবে ন্যায়বোধ?
কোথায় থাকবে মানুষের
মর্যাদার অধিকার?
তুমি ছিলে আমলা, কিন্তু
আমলাতন্ত্রের গণ্ডি
তোমার মনকে কখনো
বেঁধে রাখতে পারেনি;
ক্ষমতার উচ্চ আসনে
বসে থেকেও তোমার চোখ
ছিল সাধারণ মানুষের
জীবনের দিকে ফেরানো।
তাই অবসরের পরেও
তোমার পথ ছিল জ্ঞান,
তোমার সাধনা ছিল সত্য।
কত সহজ জীবন ছিল,
কত নিরাভরণ তুমি!
খ্যাতি তোমার দরজায়
এসেছে বহুবার, তবু
খ্যাতির মুকুট মাথায়
তোলোনি কোনোদিন;
পদমর্যাদার উচ্চতা
তোমাকে করেনি ভারী,
সাধারণ মানুষের মতো
সাধারণ ছিলে তুমি—
তবু অসাধারণ ছিল
তোমার চিন্তার জগৎ।
নিরহংকার মানুষ ছিলে,
সদালাপী, বিনয়ী;
কথার ভেতর মমতা,
চোখের ভেতর স্বচ্ছতা;
দৃঢ় নৈতিক চরিত্রে
ছিল এক অনড় দীপ,
ঝড় এলেও নিভত না যা,
লোভ এলেও নড়ত না যা,
ক্ষমতার প্রলোভন পেরিয়ে
সত্যের পাশে দাঁড়াত যা।
মানুষ বড় হয় না শুধু
উঁচু পদে বসে;
মানুষ বড় হয় তার
ব্যবহারে, বিবেকে,
মানুষ বড় হয় যখন
নিজের চেয়ে অন্যের
অধিকারকে বড় ভাবে,
নিজের সুখের চেয়ে
সমাজের ন্যায্যতাকে
অধিক মূল্য দেয়।
তোমার জীবন তাই আজ
একটি নীরব পাঠশালা;
যেখানে নৈতিকতার
প্রথম পাঠ—সরলতা,
দ্বিতীয় পাঠ—সততা,
তৃতীয় পাঠ—মানুষ হওয়া,
চতুর্থ পাঠ—শিকড় জানা,
পঞ্চম পাঠ—অন্যায়ের
বিরুদ্ধে মাথা তুলে
ন্যায়ের পাশে থাকা।
তুমি ছিলে বিচারবোধে
দৃঢ়, অথচ কোমল মনে;
মানুষকে বুঝতে তুমি
মানুষের কাছেই যেতে;
সাধারণের জীবনের
কষ্টকে দূরের কোনো
পরিসংখ্যান ভাবোনি কখনো;
তাই তোমার চিন্তাজুড়ে
সমতা-ন্যায্যতার ডাক
আজও প্রাসঙ্গিক হয়ে
বাজে বাংলাদেশের বুকে।
একটি বৈষম্যহীন
ব্যবস্থা গড়ার স্বপ্ন,
একটি ন্যায়ভিত্তিক
সমাজের প্রত্যাশা—
এগুলো কেবল শব্দ নয়,
এগুলো মানুষের
দীর্ঘ সংগ্রামের ভাষা;
যে বাংলাদেশে মানুষ
মানুষের চেয়ে ছোট নয়,
যে বাংলাদেশে জন্ম
হয় না অধিকারের মাপকাঠি।
তুমি চেয়েছিলে মানুষ
সমান মর্যাদা পাক,
ন্যায়ের আলোয় দাঁড়াক
প্রত্যেকটি নাগরিক;
কেউ যেন বঞ্চিত না হয়
শুধু পরিচয়ের কারণে,
কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে
অন্যের দম্ভের নিচে;
রাষ্ট্র যেন মানুষের হয়,
আইন যেন ন্যায়ের হয়,
উন্নয়ন যেন সবার হয়।
আজ যখন বৈষম্যের
ছায়া পড়ে সমাজজুড়ে,
আজ যখন মানুষ খোঁজে
ন্যায়ের নির্ভর ঠিকানা,
আজ যখন ইতিহাসকে
নতুন করে পড়া দরকার,
তখন তোমার জীবন যেন
আবার বলে—
“শুধু উন্নত ভবন নয়,
মানুষের মনও গড়ো;
শুধু রাষ্ট্র গড়ো না,
ন্যায়ের রাষ্ট্র গড়ো।”
তোমার জীবনসংগ্রাম
বিশ্বজনীন এক পাঠ,
তোমার চিন্তার ভুবন
মানবতারই ভাষা;
সমতার যে স্বপ্ন তুমি
হৃদয়ের গভীরে বুনেছ,
তার কোনো সীমারেখা
দেশের মানচিত্রে থামে না;
মানুষ যেখানে বঞ্চিত,
সেখানেই তার প্রয়োজন
ন্যায়ের দীপ্ত উচ্চারণ।
তুমি ছিলেন একজন
প্রশাসনের মানুষ,
কিন্তু তোমার অন্তরে
ছিল ইতিহাসের স্রোত;
তুমি ছিলেন লেখক,
কিন্তু তোমার লেখায়
ছিল রাষ্ট্র ও সমাজের
জীবন্ত মানুষের মুখ;
তুমি ছিলেন গবেষক,
কিন্তু গবেষণার শেষে
মানুষের কাছেই ফিরেছ।
আমার দুলাভাই-সম্পর্কের
স্মৃতিতে যারা আজও
তোমাকে কাছে পায়,
তারা জানেন—
সম্পর্কের ভেতরেও
তুমি ছিলে অনন্য;
সজ্জন, বিনয়ী,
উঁচুমানের গবেষক,
লেখক ও ইতিহাসবিদ—
এই পরিচয়ের চেয়েও
বড় ছিল তোমার মানুষ-পরিচয়।
তুমি ছিলে জামাতা
সাবেক প্রধান বিচারপতি
সৈয়দ এ বি মাহমুদ হুসেনের;
সম্মানের সেই সম্পর্কও
তোমার জীবনের একটি
গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়;
কিন্তু পরিচয়ের বহরে
তুমি নিজেকে হারাওনি,
নিজের অর্জিত আলোয়
নিজেই ছিলে উজ্জ্বল;
তোমার নামের পাশে তাই
তোমার কর্মই সাক্ষী।
জীবনের শেষ প্রহরেও
কলম কি থেমেছিল তোমার?
চিন্তার দরজা কি বন্ধ
হয়েছিল কোনোদিন?
না—
যে মানুষ ইতিহাসের
গভীরে ডুব দিতে জানে,
তার কাছে বয়স কেবল
একটি সংখ্যা মাত্র;
সময় যতই ক্ষয় করে,
জ্ঞান ততই দীপ্ত হয়,
স্মৃতি ততই গভীর।
তারপর এলো সেই দিন—
দুই হাজার একুশ সালের
আঠাশে জুলাই সকাল;
হঠাৎ যেন সুরমার বুকে
থেমে গেল এক ঢেউ,
সিলেটের বাতাসে যেন
নেমে এলো বিষণ্নতা,
বইয়ের তাকের পাতাগুলো
নীরবে কেঁদে উঠল,
ইতিহাসের পুরোনো ঘর
হয়ে গেল আরও নিঃসঙ্গ।
তুমি চলে গেলে—
কিন্তু চলে গেলে না তুমি;
মানুষের জীবন থেকে
কেউ কি সত্যিই চলে যায়?
যে মানুষ রেখে যায়
চিন্তার অমর প্রদীপ,
সে থাকে বইয়ের পাতায়,
সে থাকে স্মৃতির ভাঁজে,
সে থাকে প্রিয়জনের
অশ্রুসিক্ত উচ্চারণে,
সে থাকে মাটির গন্ধে।
পাঁচটি বছর কেটে গেল—
ঋতু বদলেছে কত,
সুরমার জলে এসেছে
কত নতুন ঢেউ;
সিলেটের আকাশজুড়ে
কত মেঘ এসে গেছে,
কত মেঘ ভেসে গেছে;
কিন্তু তোমার নামটি
মুছে যায়নি কোনোখানে,
বরং সময়ের সঙ্গে
আরও গভীর হয়েছে।
আজ তোমার মৃত্যুবার্ষিকীতে
মৃত্যু শব্দটি বড় ক্ষুদ্র;
তোমার মতো মানুষের
জীবনকে কি মৃত্যু
একটি তারিখে বাঁধে?
আঠাশে জুলাই শুধু
একটি শোকের দিন নয়,
একটি স্মরণদীপ জ্বালার
দিন, একটি প্রশ্নের দিন—
তোমার রেখে যাওয়া
আলো আমরা রাখব তো?
তোমার বই খুলে যখন
এক তরুণ পাঠক বসে,
সিলেটের অতীত যখন
তার চোখের সামনে আসে,
তখন তুমি কথা বলো
অক্ষরের অন্তরালে;
তোমার গবেষণার ঘ্রাণ
পাতার ভাঁজে ভেসে ওঠে,
তোমার শ্রমের উজ্জ্বলতা
নতুন প্রজন্মকে বলে—
“শিকড় ভুলে যেও না।”
যে জাতি তার ইতিহাস
ভুলে যায় একদিন,
সে জাতি নিজের পথের
দিশা হারায় শেষে;
তুমি তাই ইতিহাসকে
শুধু অতীত ভাবোনি,
ইতিহাসকে দেখেছ তুমি
ভবিষ্যতের আয়না;
যেখানে ভুলের পাশে
শিক্ষা লেখা থাকে,
যেখানে সংগ্রামের পাশে
স্বপ্নের নাম থাকে।
তোমার কলমে সিলেট
শুধু একটি ভূখণ্ড নয়,
সিলেট যেন বাংলার
এক জীবন্ত স্মৃতিগাথা;
পাহাড়, নদী, জনপদ,
মানুষ, বিশ্বাস, সংগ্রাম—
সবকিছুকে এক সুতোয়
গেঁথে তুমি দেখিয়েছ,
একটি অঞ্চলের ইতিহাস
কীভাবে হয়ে উঠতে পারে
একটি জাতির আত্মপরিচয়।
জালালাবাদের পথে পথে
যে পদধ্বনি হারিয়ে গেছে,
তুমি তারই প্রতিধ্বনি
শুনে এনেছ কালের ঘর;
শাহজালালের স্মৃতির
আধ্যাত্মিক আলোকরেখা
তোমার গবেষণার পাতায়
নতুন করে দীপ জ্বালে;
সিলেটের অতীত যেন
আজও তোমার কলমে
আমাদের সঙ্গে কথা কয়।
স্বাধীনতার সংগ্রামে
সিলেটের যে অবদান,
যে রক্ত, যে ত্যাগ,
যে অজানা মানুষের কাহিনি—
তুমি তাদের নামের পাশে
সময়ের প্রদীপ ধরেছ;
জাতির স্মৃতির ভাণ্ডারে
তুলে রেখেছ যত্নে
হারিয়ে যেতে বসা
অসংখ্য অমূল্য অধ্যায়।
তাই আজ তোমার প্রতি
শ্রদ্ধা মানে শুধু নয়
একটি ফুল অর্পণ করা,
একটি স্মৃতিচারণ নয়;
শ্রদ্ধা মানে তোমার
বইগুলো পড়া,
তোমার অনুসন্ধানের
পথটিকে মনে রাখা,
ইতিহাসের সত্যকে
সততার সঙ্গে বলা,
মানুষের অধিকারের
পাশে গিয়ে দাঁড়ানো।
শ্রদ্ধা মানে সরল হওয়া,
অহংকারকে দূরে রাখা,
ক্ষমতার চেয়েও বড়
নৈতিকতাকে মানা;
শ্রদ্ধা মানে নিজের
পরিচয়ের গর্ব না করে
মানুষের পরিচয়ে
নিজেকে চিনে নেওয়া;
শ্রদ্ধা মানে বৈষম্যের
দেয়াল ভেঙে দিয়ে
সমতার পথ নির্মাণ।
তোমার জীবন থেকে তাই
আমরা শিখতে চাই আজ—
কীভাবে একজন মানুষ
রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন
করেও থাকতে পারে
মাটির খুব কাছাকাছি;
কীভাবে একজন আমলা
অবসরের পরেও
হয়ে উঠতে পারেন
জাতির স্মৃতির রক্ষক;
কীভাবে একজন লেখক
নিজের মাটিকে ভালোবেসে
বিশ্বমানবতার কথা বলেন।
তোমার জীবন বলে—
জ্ঞান যদি মানুষের না হয়,
তবে সে জ্ঞান অসম্পূর্ণ;
গবেষণা যদি সত্যের
দ্বারে গিয়ে না দাঁড়ায়,
তবে সে গবেষণা বৃথা;
ইতিহাস যদি মানুষের
দুঃখকে ধারণ না করে,
তবে সে ইতিহাস কেবল
শুকনো অক্ষরের স্তূপ;
সাহিত্য যদি মানুষকে
মানুষের কাছে না আনে,
তবে তার আলোও ক্ষীণ।
তোমার জীবন তাই
একটি দীঘল নদীর মতো,
নীরব অথচ গভীর;
উপরে শান্ত জল,
ভেতরে বহমান স্রোত;
প্রশাসনের কঠিন পথ
পেরিয়ে গবেষণার ঘাটে
এসে তুমি নোঙর করেছ,
তারপর সেই নোঙরও
ছিঁড়ে দিয়ে চলে গেছ
আরও দূরের তীরে।
সেই তীর কি অচেনা?
নাকি সেখানে এখন
শাহজালালের আধ্যাত্মিক
আলোয় ভরে আছে পথ?
সেখানে কি ইতিহাসের
সব হারানো মানুষ
তোমার সঙ্গে বসে আজ
পুরোনো কাহিনি বলে?
সেখানে কি জালালাবাদ
আবার খুলে দেয় তার
সহস্র বছরের দরজা?
জানি না—
মানুষের জ্ঞানের বাইরে
কত অদৃশ্য পথ আছে;
জানি শুধু,
তোমার মতো মানুষের
কর্মের মৃত্যু নেই;
কলমের মৃত্যু নেই;
সত্যের মৃত্যু নেই;
মানুষের জন্য রেখে যাওয়া
একটি সৎ স্বপ্নেরও
কখনো মৃত্যু হয় না।
তাই আজ সিলেট কাঁদে না,
সিলেট আজ স্মরণ করে;
সুরমা আজ বিষণ্ন নয়,
সুরমা আজ গান গায়;
পাহাড় আজ নীরব নয়,
পাহাড় আজ সাক্ষ্য দেয়—
“এই মানুষটি এসেছিল,
এই মাটিকে ভালোবেসে
ইতিহাসের গভীর থেকে
মানুষের কথা লিখেছিল।”
দিনারপুরের মাটি বলে—
“আমার সন্তান ছিল সে”;
সদরঘাটের বাতাস বলে—
“আমার ঘরের মানুষ”;
নবীগঞ্জের পথ বলে—
“তার পদচিহ্ন ছিল”;
সিলেটের ইতিহাস বলে—
“তার কলম আমাকে
নতুন করে চিনিয়েছে”;
বাংলার সাহিত্য বলে—
“তার গবেষণার ঋণ
অস্বীকার করার নয়।”
রাষ্ট্রের নথিপত্রে
হয়তো পদগুলোর নাম
একদিন ধুলোয় ঢাকা পড়বে;
দপ্তরের ফাইলগুলো
বদলাবে আলমারি,
বদলাবে কর্মকর্তারা;
কিন্তু মানুষের স্মৃতিতে
যে কাজ অমর হয়ে থাকে,
তার কোনো বদলি নেই,
তার কোনো অবসর নেই,
তার কোনো অবসান নেই।
তোমার জীবনের পথে
যারা হেঁটেছে পাশে,
তারা জানে—
সজ্জনতারও একটি
নিজস্ব দীপ্তি থাকে;
বিনয়েরও একটি শক্তি,
সরলতারও মহিমা;
আর নৈতিকতার পথে
একজন মানুষ একা হলেও
তার পদধ্বনি একদিন
অনেক মানুষের
পথের দিশা হয়ে ওঠে।
আজ তাই তোমার নামে
শুধু শোকগাথা নয়—
আজ একটি অঙ্গীকারও
লিখে রাখি হৃদয়ে:
ইতিহাসকে ভালোবাসব,
শিকড়কে ভুলব না;
মিথ্যার কাছে নত হব না,
অন্যায়ের কাছে থামব না;
মানুষের মর্যাদা রক্ষায়
কণ্ঠ হবে দৃঢ়;
বৈষম্যের বিরুদ্ধে
সমতার কথা বলব।
যে বাংলাদেশ তুমি
স্বপ্নের চোখে দেখতে,
সেই বাংলাদেশ গড়ার
দায় আমাদেরই আজ;
যেখানে মানুষ মানুষকে
ধর্মে, বর্ণে, শ্রেণিতে
ছোট করবে না কোনোদিন;
যেখানে ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা
ক্ষমতার ভারে কাঁপবে না;
যেখানে রাষ্ট্রের প্রতিটি
দরজা খুলবে মানুষের
অধিকারের জন্য।
যেখানে জ্ঞান হবে মুক্ত,
ইতিহাস হবে সত্য,
সাহিত্য হবে মানুষের,
গবেষণা হবে নির্ভীক;
যেখানে তরুণ প্রজন্ম
নিজের অতীত জেনে
ভবিষ্যতের দিকে যাবে;
যেখানে উন্নয়নের আলো
পৌঁছবে প্রত্যন্ত ঘরে,
যেখানে কোনো মানুষের
অধিকার হবে না কম।
তোমার জীবন থেকে
এই শিক্ষা যদি নিই,
তবে মৃত্যুবার্ষিকী
শুধু আনুষ্ঠানিক নয়;
তোমার স্মরণ হবে
জীবনেরই অনুশীলন;
তোমার প্রতি শ্রদ্ধা হবে
কর্মের ভিতর দিয়ে;
তোমার বইয়ের অক্ষর
যদি আমাদের পথ দেখায়,
তবেই তোমার রেখে যাওয়া
আলো সত্যিই জ্বলবে।
আজ পাঁচটি বছর পরে
আবার আকাশের নিচে
তোমার নাম উচ্চারিত;
কত মানুষ দূর শহরে,
কত মানুষ সিলেটে,
কতজন অচেনা পাঠক
তোমার বই খুলে বসে
নীরবে তোমাকে খোঁজে;
কেউ খোঁজে ইতিহাসে,
কেউ খোঁজে স্মৃতিতে,
কেউ খোঁজে হৃদয়ের গভীরে।
তোমাকে খুঁজতে গেলে
পাওয়া যায় বইয়ের ভাঁজে,
পাওয়া যায় গবেষণায়,
পাওয়া যায় মানুষের
স্মৃতিমাখা কথায়;
পাওয়া যায় সেই সরল
জীবনযাপনের ভিতর,
পাওয়া যায় নৈতিকতার
দৃঢ় উচ্চারণে;
পাওয়া যায় সিলেটের
পাহাড়-নদী-জনপদের
অন্তহীন স্মৃতির ভিতর।
তুমি নেই—
তবু তোমার কলম আছে;
তুমি নেই—
তবু তোমার গ্রন্থ আছে;
তুমি নেই—
তবু তোমার গবেষণা
নতুন পাঠকের হাতে;
তুমি নেই—
তবু তোমার স্বপ্ন আছে
সমতা ও ন্যায়ের দেশে;
তুমি নেই—
তবু তোমার নামটি
বাংলার স্মৃতিতে জেগে।
মৃত্যু তোমার শরীর
নিয়ে গেছে নীরব ঘরে,
কিন্তু তোমার চিন্তা
কেড়ে নিতে পারেনি;
সময় তোমার দিন
গুনে গুনে ফুরিয়েছে,
কিন্তু তোমার কাজের
দিন ফুরোয়নি আজও;
বরং নতুন প্রজন্ম
যতদিন প্রশ্ন করবে,
ততদিন তোমার প্রয়োজন।
যতদিন কেউ বলবে—
“আমার ইতিহাস কোথায়?”
ততদিন তোমার বই
তার হাতে তুলে দিও;
যতদিন কেউ বলবে—
“আমার শিকড় কোথায়?”
ততদিন দিনারপুরের
মাটি তার সামনে আনো;
যতদিন কেউ বলবে—
“ন্যায় কোথায়?”
ততদিন তোমার জীবন
একটি উত্তর হয়ে থাক।
যতদিন সিলেট থাকবে,
যতদিন সুরমা বয়ে যাবে,
যতদিন পাহাড় জাগবে
মেঘের ভেজা ভোরে,
যতদিন শাহজালালের
স্মৃতি জ্বলবে হৃদয়ে,
যতদিন বাংলার মানুষ
নিজের অতীত খুঁজবে,
ততদিন তোমার নামও
কোনো না কোনো অক্ষরে
জেগে থাকবে নিশ্চয়।
আর যদি কোনোদিন
এই দেশ সত্যিই গড়ে
সমতা-ন্যায়ের ভিত্তিতে,
যদি কোনোদিন মানুষ
মানুষের মর্যাদা পায়,
যদি কোনোদিন রাষ্ট্র
বৈষম্যের দেয়াল ভাঙে,
তবে সেই দিনের বাতাসে
তোমারও থাকবে অংশ;
কারণ তুমি স্বপ্ন দেখেছিলে
মানুষের অধিকারের
একটি আলোকিত ভোর।
তোমার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে
সেই ভোরের প্রতিশ্রুতি
আমরা রাখি বুকের মাঝে;
তোমার স্মৃতির সামনে
নত করি অহংকার,
উঁচু করি বিবেক;
তোমার গবেষণার কাছে
নত করি অজ্ঞতা,
তোমার সরলতার কাছে
নত করি প্রদর্শন;
তোমার নৈতিকতার কাছে
নত করি সকল লোভ।
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার,
আজ তোমারই দিনে
সিলেটের আকাশজুড়ে
শ্রদ্ধার মেঘ ভাসে;
বাংলার বাতাস বয়ে আনে
তোমার নামের সুবাস;
দিনারপুরের মাটি যেন
দুই হাত তুলে বলে—
“এই সন্তান আমার ছিল”;
আর ইতিহাস নীরব গলায়
লিখে রাখে—
“সে মানুষ হয়ে এসেছিল।”
তোমার জন্য ফুল নয় শুধু,
তোমার জন্য দীপ জ্বালি;
তোমার জন্য অশ্রু নয় শুধু,
তোমার জন্য শপথ করি;
তোমার জন্য স্মরণ নয় শুধু,
তোমার জন্য পথ চলি;
তোমার জন্য প্রশংসা নয়,
তোমার আদর্শ বাঁচাই;
তোমার জন্য নাম নয় শুধু,
তোমার কাজকে ফিরিয়ে আনি।
যে কলম তুমি রেখে গেছ,
তার কালি যেন শুকিয়ে
না যায় কোনোদিন;
যে ইতিহাস তুমি লিখেছ,
তার পাঠ যেন থেমে
না যায় কোনোদিন;
যে সমতার স্বপ্ন তুমি
দেখেছিলে মানুষের জন্য,
তার সূর্য যেন ডুবে
না যায় কোনোদিন;
যে নৈতিকতার দীপ
জ্বেলেছিলে অন্তরে,
তার আলো যেন নিভে
না যায় কোনোদিন।
পাঁচ বছর—
সময় বলে অনেক,
স্মৃতি বলে অল্প;
জীবন বলে ক্ষণিক,
কর্ম বলে অনন্ত;
মানুষ চলে যায়,
মানুষের মহৎ কর্ম
রয়ে যায় যুগের পরে;
তাই তোমার মৃত্যু বার্ষিক
আসলে আমাদের কাছে
জীবনকে নতুন করে
চেনার একটি দিন।
আজ তোমার প্রতি তাই
বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই;
শ্রদ্ধা জানাই সেই
সাধারণ জীবনকে,
যার ভেতরে ছিল
অসাধারণ মহত্ত্ব;
শ্রদ্ধা জানাই সেই
গবেষকের মনকে,
যে মাটির নিচে থাকা
ইতিহাস তুলে এনেছে;
শ্রদ্ধা জানাই সেই
লেখকের কলমকে,
যে সিলেটকে দিয়েছে
বাংলার স্মৃতিতে স্থান।
শ্রদ্ধা জানাই সেই
রাষ্ট্রকর্মী মানুষকে,
যে ক্ষমতার ভিতরে থেকেও
ক্ষমতার মোহে ভাসেনি;
শ্রদ্ধা জানাই সেই
নৈতিক মানুষকে,
যার জীবন ছিল
স্বচ্ছ নদীর মতো;
শ্রদ্ধা জানাই সেই
স্বপ্নবান মানুষকে,
যে বৈষম্যহীন
ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের
কথা ভেবেছে।
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার,
তোমার নামের পাশে আজ
একটি কথাই যথেষ্ট—
তুমি মানুষের ছিলে।
তোমার কর্মের পাশে আজ
একটি সত্যই অমলিন—
তুমি মাটির ছিলে।
তোমার লেখার পাশে আজ
একটি উত্তর অনন্ত—
তুমি ইতিহাসের ছিলে।
আর তোমার স্বপ্নের পাশে
বাংলাদেশ আজও বলে—
তুমি ভবিষ্যতেরও ছিলে।
তাই ঘুমাও শান্তিতে আজ,
সিলেটের প্রিয় সন্তান;
তোমার বইয়ের পাতায়
জেগে থাকুক জালালাবাদ,
জেগে থাকুক শাহজালাল,
জেগে থাকুক সিলেটের
স্বাধীনতার রক্তস্মৃতি;
জেগে থাকুক মানুষের
সমতা-ন্যায়ের আকাঙ্ক্ষা,
জেগে থাকুক তোমার
সরলতার দীপ্তি।
যতদিন বাংলার মাটি
মানুষের পদচিহ্ন রাখে,
যতদিন কোনো গবেষক
অতীতের দরজা খোলে,
যতদিন কোনো তরুণ
নিজের শিকড় জানতে চায়,
যতদিন কোনো লেখক
সত্যের পক্ষে কলম ধরে,
যতদিন কোনো মানুষ
বৈষম্যের বিরুদ্ধে
ন্যায়ের কথা বলে—
ততদিন তুমি বেঁচে থাকবে।
পাঁচটি বছর পেরিয়ে
আজও তাই মনে হয়—
তুমি দূরে নও একেবারে;
সুরমার জলে ভাসো,
সিলেটের বাতাসে থাকো,
দিনারপুরের মাটিতে থাকো,
গ্রন্থের প্রতিটি পাতায়
অক্ষর হয়ে জ্বলো,
মানুষের বিবেকের ভেতর
একটি দীপ হয়ে থাকো,
একটি স্বপ্ন হয়ে থাকো।
মৃত্যু যদি শেষ হয়,
তবে কর্ম কেন থাকে?
শরীর যদি মুছে যায়,
তবে স্মৃতি কেন জাগে?
নাম যদি একদিন
ধুলোর নিচে যায় চাপা,
তবে আদর্শ কেন
প্রজন্ম পেরিয়ে হাঁটে?
এই প্রশ্নের উত্তর তুমি—
তোমার জীবনই বলে,
মহৎ মানুষ মরে না;
মানুষের ভেতর বেঁচে থাকে।
আজ আকাশের দিকে চেয়ে
শেষ প্রণাম জানাই;
তোমার আত্মার শান্তির
জন্য মোনাজাত করি;
স্মৃতির নীল আকাশে
একটি প্রদীপ জ্বালি;
তার আলোয় যেন দেখি
বাংলাদেশের আগামী,
যে বাংলাদেশে মানুষ
মানুষের পাশে দাঁড়ায়,
যে বাংলাদেশে ন্যায়
মানুষের অধিকার হয়।
হে ইতিহাসের নিরলস
অনুসন্ধানী পথিক,
হে শিকড়ের বিশ্বস্ত
সন্তান, হে জ্ঞানসাধক,
হে সরলতার নীরব
অলংকার, হে নৈতিক
দৃঢ়তার দীপ্ত মানুষ—
তোমার পঞ্চম মৃত্যুদিনে
এইটুকু বলি শুধু:
তুমি যে আলো জ্বেলে
গেছ অন্ধকারের ঘরে,
সে আলো আমরা রাখব;
তুমি যে শিকড় খুঁজে
গেছ ইতিহাসের গভীরে,
সে শিকড় আমরা রাখব;
তুমি যে ন্যায়ের স্বপ্ন
দেখেছিলে মানুষের জন্য,
সে স্বপ্ন আমরা রাখব;
তুমি যে বাংলাদেশ
চেয়েছিলে সমতার,
সে বাংলাদেশের পথে
আমরা এগিয়ে যাব।
তোমার নাম উচ্চারিত হোক
শ্রদ্ধার সঙ্গে বারবার,
তোমার গ্রন্থ পড়ুক
নতুন দিনের পাঠক;
তোমার গবেষণা হোক
নতুন গবেষণার সোপান,
তোমার জীবন হোক
তরুণদের নৈতিক পাঠ;
তোমার স্বপ্ন হোক
বাংলাদেশের বিবেক,
তোমার স্মৃতি হোক
মানুষের প্রতি মানুষের
অগাধ ভালোবাসা।
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার—
তুমি নেই, তবু আছ;
সময়ের স্রোত পেরিয়ে
তুমি আমাদের কাছে;
সিলেটের নীল আকাশে,
সুরমার বহমান জলে,
দিনারপুরের মাটির গন্ধে,
পুরোনো গ্রন্থের পাতায়,
ইতিহাসের দীর্ঘ পথে,
মানুষের ন্যায়সংগ্রামে—
তুমি আছ, তুমি থাকবে।
আজ তোমার পঞ্চম
মৃত্যুবার্ষিকী—
শোকের কালো অক্ষরে
নয়, বরং আলোর অক্ষরে
লিখে রাখি তোমার নাম:
“একজন মানুষ ছিলেন—
যিনি পদ পেয়েও পদমর্যাদার
অহংকারে ভাসেননি;
যিনি জ্ঞান পেয়েও
জ্ঞানকে নিজের করে রাখেননি;
যিনি ইতিহাস লিখেও
নিজেকে ইতিহাসের ওপরে রাখেননি;
যিনি জীবন কাটিয়েছেন
সরলতায়, নৈতিকতায়,
মানুষের কল্যাণের স্বপ্নে;
যিনি চলে গিয়েও
মানুষের স্মৃতিতে
একটি আলোকিত পথ রেখে গেছেন।”
তাই আজ বিনম্র শ্রদ্ধা—
হে বৃহত্তর সিলেটের
কৃতি সন্তান,
হে বাংলার ইতিহাসের
নিবেদিত সাধক,
হে প্রখ্যাত লেখক,
হে গবেষক,
হে নিরহংকার মানুষ,
হে ন্যায়ের স্বপ্নদ্রষ্টা—
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার
হোসেন চৌধুরী,
তোমার স্মৃতি অমর হোক,
তোমার কর্ম অমর হোক,
তোমার গ্রন্থ অমর হোক,
তোমার গবেষণা অমর হোক,
তোমার নৈতিকতা অমর হোক,
তোমার সমতার স্বপ্ন
বাংলাদেশের বুকের ভেতর
চিরদিন জেগে থাকুক।
শ্রদ্ধায় নত হোক মাথা,
স্মৃতিতে জ্বলুক আলো—
পাঁচ বছর পেরিয়েও তুমি
আমাদের হৃদয়ে ভালো।
তুমি নেই—
তবু ইতিহাসের পাতায়
তোমার কলম জেগে আছে;
তুমি নেই—
তবু সিলেটের মাটিতে
তোমার শিকড় জেগে আছে;
তুমি নেই—
তবু ন্যায়ের স্বপ্নে
তোমার কণ্ঠ জেগে আছে;
তুমি নেই—
তবু মানুষের হৃদয়ে
তোমার মানুষটি
চিরজাগরূক আছে।
এই হোক আজকের শ্রদ্ধা,
এই হোক আজকের শপথ—
মানুষের জন্য মানুষ হব,
ন্যায়ের জন্য দৃঢ় হব,
ইতিহাসের কাছে সত্য হব,
শিকড়ের কাছে ঋণী হব;
আর তোমার রেখে যাওয়া
আলোকিত পথ ধরে
একটি বৈষম্যহীন,
ন্যায়ভিত্তিক,
মানবিক বাংলাদেশ
গড়ার স্বপ্নে
আমরা এগিয়ে যাব।
দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী—
তোমার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে
বিনম্র শ্রদ্ধা।
তোমার স্মৃতি হোক
আমাদের বিবেকের আলো।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি