শ্রীমঙ্গলে শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে সমাবেশ

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে সমাবেশ

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৭ জুলাই ২০২৬ : বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাসের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া এবং জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম।

এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ।

শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব ২০২৬-এর অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান।

Manual5 Ad Code

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব ২০২৬-এর সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং দুই শিক্ষার্থী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “বই আমাদের মনকে গড়ে। বই জ্ঞানের আকর। নিয়মিত বই পড়লে আমাদের মনন সমৃদ্ধ হয়। তাই সকল শিক্ষার্থীর নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।”

তিনি শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে বই পড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নয়, নিজেদের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকশিত করার জন্যও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। বই মানুষের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে এবং নতুনভাবে পৃথিবীকে দেখতে শেখায়।

মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “আনন্দের সঙ্গে বই পড়াকে সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব ২০২৬-এর আয়োজন করা হয়েছে।” এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল, জ্ঞানমূলক ও সাহিত্যভিত্তিক বই পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব ২০২৬ তিনটি ধাপে প্রায় দুই মাসব্যাপী আয়োজন করা হচ্ছে। এর প্রথম পর্বে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং বই পড়ার আনন্দের সঙ্গে তাদের পরিচিত করানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্বের মুকুল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই শ্রীমঙ্গলের অন্যান্য অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ আয়োজন করা হবে।

প্রধান অতিথি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার আনন্দ ছড়িয়ে দিতে শুধু একটি উৎসব আয়োজন করলেই হবে না; এর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিদ্যালয়ভিত্তিক এ ধরনের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় ব্যয় করছে। এর ফলে অনেকের মধ্যেই বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনা এবং বইকে আনন্দ ও জ্ঞানার্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাজ্ঞান, সৃজনশীলতা, যুক্তিবোধ, কল্পনাশক্তি ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে।

বক্তারা আরও বলেন, পাঠাভ্যাস একজন শিক্ষার্থীর শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, তার সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ের পাঠাগারকে আরও কার্যকর ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলার পাশাপাশি তাদের পছন্দ ও বয়স উপযোগী বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

Manual6 Ad Code

সমাবেশে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী তাদের বক্তব্যে বই পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সহপাঠীদের নিয়মিত বই পড়ার আহ্বান জানায়। তারা বলে, পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়লে নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানা যায় এবং নিজের চিন্তা ও অনুভূতির জগৎ আরও সমৃদ্ধ হয়। বই পড়াকে আনন্দের অভ্যাসে পরিণত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করে তারা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী দাশ বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নিজেদের সৃজনশীল ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত করার সুযোগ পাবে। শ্রীমঙ্গলে বই পড়া উৎসবের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পাঠাভ্যাস তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব ২০২৬-এর সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশ বলেন, উৎসবের মূল লক্ষ্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে বই পড়া নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়াকে নিয়মিত ও আনন্দময় অভ্যাসে পরিণত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিন ধাপে প্রায় দুই মাসব্যাপী শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব ২০২৬-এর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস তৈরি, বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং বই পড়ার আনন্দকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি বইবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

Manual8 Ad Code

শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এ উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়বে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ