শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে: শ্রম সচিব

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২৬

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে: শ্রম সচিব

Manual5 Ad Code
  • বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
  • মো. মজিবুর রহমান ভূঞা সভাপতি এবং শহীদুল্লাহ বাদল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৫ জুলাই ২০২৬ : গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে শ্রমিকদের দাবি পূরণ, কল্যাণ ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা সহজ হয় বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।

তিনি বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শ্রমিক, মালিক, সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সংলাপের পরিসর বাড়াতে হবে।

তিনি আরও জানান, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার জাতীয় সামাজিক সংলাপের একটি স্থায়ী কাঠামো গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই কাঠামো গড়ে উঠলে ত্রিপক্ষীয় কমিটির কার্যক্রমে নাগরিক সমাজের সুপারিশ, গবেষণালব্ধ তথ্য ও শ্রম অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে মো. মজিবুর রহমান ভূঞাকে সভাপতি এবং শহীদুল্লাহ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে পরবর্তী মেয়াদের জন্য ৩৫ সদস্যের নতুন কমিটি নির্বাচিত করা হয়।

শ্রম সচিব বলেন, দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন সংগঠনের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা প্রশংসনীয়। শ্রমিক সংগঠনগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চা যত বেশি সুসংহত হবে, শ্রমিকদের দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন তত বেশি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে।

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, শ্রমিকের দাবি পূরণ, কল্যাণ এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমজগতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।

Manual1 Ad Code

শ্রম সচিব বর্তমান ত্রিপক্ষীয় কমিটির পুনর্গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিকের অধিকার আদায়ে এই কমিটি আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কাঠামোর মাধ্যমে শ্রমজগতের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার জাতীয় সামাজিক সংলাপের একটি স্থায়ী কাঠামো গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ ধরনের একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলে ত্রিপক্ষীয় কমিটির কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে। নাগরিক সমাজের সুপারিশ এবং গবেষণালব্ধ তথ্য নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শ্রম অধিকার নিয়ে জাতীয় সামাজিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলসের নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, শ্রম অধিকার বিষয়ে প্রতিনিয়ত যে আলোচনা, মতামত ও সুপারিশ যুক্ত হচ্ছে, সেগুলো নিয়মিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরতে জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি, সংগঠনের স্বাধীনতা ও যৌথ দরকষাকষিসহ শ্রমজগতের বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা প্রয়োজন। জাতীয় সামাজিক সংলাপের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম থাকলে শ্রম অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো আরও সমন্বিতভাবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা জাতীয় সামাজিক সংলাপের উদ্যোগকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে শ্রমিকদের অধিকার ও দাবি আদায়ের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-কে সর্বাগ্রে বিবেচনা করার আহ্বান জানান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

Manual1 Ad Code

কর্মক্ষেত্রেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান আইটিইউসির

সম্মেলনে ভিডিও বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি)-এর সাধারণ সম্পাদক লুক ট্রায়াঙ্গেল এবং আইটিইউসি-এপির সাধারণ সম্পাদক শয়া ইউশিদা।

তারা গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের প্রতি জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

আইটিইউসি নেতারা বলেন, শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গণতন্ত্র নিশ্চিত করলেই গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কর্মক্ষেত্রেও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শ্রমিকদের সংগঠনের অধিকার এবং যৌথ দরকষাকষির অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে গণতন্ত্রের চর্চা আরও এগিয়ে নিতে হবে।

তারা শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার, ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতা এবং শ্রমিক-মালিকের মধ্যে কার্যকর যৌথ দরকষাকষির পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রমিকদের অধিকারকে রাষ্ট্রীয় নীতি ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতায় আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

Manual4 Ad Code

৫৭ বছরের ধারাবাহিকতা সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মজিবুর রহমান ভূঞা বলেন, দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে সংগঠনটি শ্রমিকদের দাবি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, কল্যাণ এবং সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সংগঠনটির দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন কমিটি এই ধারাবাহিকতাকে আরও সাফল্যের সঙ্গে সামনে এগিয়ে নেবে।

তিনি শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং শ্রমিকদের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

নতুন নেতৃত্বে ৩৫ সদস্যের কমিটি

সম্মেলনে মো. মজিবুর রহমান ভূঞাকে সভাপতি এবং শহীদুল্লাহ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের পরবর্তী মেয়াদের জন্য ৩৫ সদস্যের কমিটি নির্বাচিত করা হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর যুগ্ম সমন্বয়কারী এ এ এম ফয়েজ হোসেন এবং বাংলাদেশের শ্রমিক জোটের সভাপতি আব্দুল কাদের হাওলাদার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি পরিমল সিং বাড়ৈ।

সম্মেলনে ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতারা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, সংগঠনের স্বাধীনতা, যৌথ দরকষাকষির অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আদায়ে গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থে সরকার, মালিকপক্ষ, ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর ও নিয়মিত সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে সম্মেলনে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ