মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: বকুল

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২৬

মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: বকুল

Manual5 Ad Code
  • ওয়ার্কার্স পার্টির মিছিল ও সমাবেশে অসম চুক্তি বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৩ জুন ২০২৬ : মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত এই চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা ও সার্বভৌম স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসম্মুখে প্রকাশ এবং জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা করারও দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এসব দাবি তুলে ধরেন তিনি।

মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন গণসংগঠনের প্রতিনিধি ও সমর্থকেরা অংশ নেন।

দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে পার্টি কার্যালয় প্রাঙ্গণে মিছিল-পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড নুর আহমদ বকুল।

Manual1 Ad Code

‘চুক্তি নিয়ে লুকোচুরি গ্রহণযোগ্য নয়’

সমাবেশে নুর আহমদ বকুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান সরকার সেটি সংসদে আলোচনা না করে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। তিনি দাবি করেন, চুক্তির বিভিন্ন ধারা ও উপধারায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও কর্তৃত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, “এ ধরনের চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। জনগণের মতামত ও সংসদীয় পর্যালোচনা ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর করা উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সেই অর্জনকে দুর্বল করার যেকোনো উদ্যোগ জনগণ প্রতিহত করবে।”

Manual2 Ad Code

স্বাধীনতার ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে নুর আহমদ বকুল বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকাকে ঘিরে যে বিতর্ক ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিকেও তিনি সেই প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করেন। তার দাবি, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর নতুন ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নির্ভরশীলতা তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।

তিনি অভিযোগ করেন, “মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে অসম বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারণী স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে।”

Manual6 Ad Code

‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান’

সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শক্তি বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

নুর আহমদ বকুল বলেন, “ধর্মাশ্রয়ী ফ্যাসিবাদী শক্তি, দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং বিদেশি প্রভাববলয়ের সমন্বয়ে দেশের ভেতরে নতুন ধরনের নির্ভরশীলতার ভিত্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।”

তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।

মিছিল ও স্লোগান

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে মার্কিন-বাংলাদেশ অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতা পর্যালোচনার দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।

এছাড়া মিছিলে ও সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও উত্থাপন করা হয়। নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।

সংসদে আলোচনার দাবি

Manual8 Ad Code

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতা সম্পর্কিত যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা এবং সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

ওয়ার্কার্স পার্টি নেতারা সতর্ক করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া না হলে তারা দেশব্যাপী গণসংযোগ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ