কালজয়ী গানের অমর সুরস্রষ্টা এ কে আনামের ১৮তম প্রয়াণ দিবস আজ

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

কালজয়ী গানের অমর সুরস্রষ্টা এ কে আনামের ১৮তম প্রয়াণ দিবস আজ

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : সিলেটের আঞ্চলিক সংগীতভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করা কালজয়ী সব গানের অমর সুরস্রষ্টা, গীতিকার, সুরকার, মরমি মহাজন ও লোকজ সংগীতের অন্যতম প্রধান প্রাণপুরুষ এ কে আনামের ১৮তম প্রয়াণ দিবস আজ।

২০০৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রয়াণের ১৮ বছর পরও সিলেট অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে তাঁর সৃষ্টি, গাওয়া হচ্ছে তাঁর গান। সময়ের ব্যবধানে তাঁর সৃষ্টির আবেদন আরও বিস্তৃত হয়েছে।

‘সুরমা নদীর তীরে আমার ঠিকানা রে, বাবা শাহজালালের দেশ সিলেট ভূমিরে’—সিলেটের মানুষের পরিচয় ও আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই গানসহ ‘সিলেট পাইলে যেমন তেমন’, ‘আইজ আমারে আনিয়া দেওরে আসমানেরও চাঁন’, ‘ও সোনার চান্দেরে ও মায়ার চান্দেরে’, ‘বিজয় দেখিলাম রে’ এবং ‘শ্রী আছে যার, মঙ্গলও তার’—এমন অসংখ্য গান এ কে আনামকে সিলেটের লোকসংগীতের ভুবনে এক স্বতন্ত্র ও স্মরণীয় আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা, লোকজ জীবন, প্রকৃতি, মানুষের সুখ-দুঃখ, সমাজবাস্তবতা, আধ্যাত্মিকতা এবং মাটির মানুষের অনুভূতিকে সহজ-সরল অথচ নান্দনিক ভাষা ও সুরে তুলে ধরাই ছিল তাঁর সৃষ্টিশীলতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাঁর গান শুধু বিনোদনের উপকরণ হয়ে থাকেনি; একই সঙ্গে হয়ে উঠেছে সিলেটের মানুষের আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য, শেকড় ও জীবনবোধের শিল্পিত প্রকাশ।

লোকায়ত বাংলার সহজিয়া ধারার সাধক

গীতিকার ও সুরকার এ কে আনাম বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে তাঁর সমকালীন সংগীত পরিমণ্ডলকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তাঁর সৃষ্টিতে শিল্পরসের এক ধরনের সহজ, সরল ও সাবলীল প্রকাশ লক্ষ করা যায়। কোনো ধরনের কৃত্রিমতা ছাড়াই লোকজ জীবন ও মরমি ভাবনাকে তিনি সুর ও কথার মাধ্যমে রূপ দিয়েছেন।

আমৃত্যু তিনি তাঁর সৃজনসত্তা, চিন্তা ও মননে লোকায়ত বাংলার সহজিয়া ঘরানাকে চর্চা ও লালন করেছেন। মানুষের অন্তর্জগত, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং প্রাত্যহিক জীবনের নানা অনুষঙ্গ তাঁর গান ও সুরে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

শুধু সিলেটের লোকজ ঐতিহ্য নয়, তাঁর সৃষ্টিতে বৃহত্তর বাংলার মাটি ও মানুষের জীবনদর্শনেরও প্রতিফলন ঘটেছে। ফলে তাঁর গান আঞ্চলিকতার সীমা অতিক্রম করে বৃহত্তর শ্রোতামহলের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

শ্রীমঙ্গল ছিল তাঁর সৃষ্টির অন্যতম আশ্রয়

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, লীলাভূমি এবং সবুজের স্বর্গরাজ্য শ্রীমঙ্গল ছিল এ কে আনামের নিজস্ব নিকেতন ও সৃষ্টিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। চা-বাগান, পাহাড়, বন, নদী, হাওর ও সবুজ প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য তাঁর সৃষ্টিশীল মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাপন তিনি তাঁর কথা ও সুরে মমতা ও স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তাঁর সৃষ্টিতে শ্রীমঙ্গল কখনো কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান নয়; বরং প্রকৃতি, মানুষ ও স্মৃতির এক বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ভূখণ্ড হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।

আপাতদৃষ্টিতে শ্রীমঙ্গল তাঁর সাধনকেন্দ্র কিংবা চারণভূমি হলেও তাঁর চিন্তা, সৃষ্টিসঞ্চারণ ও বৈচিত্র্যমুখী ভাবধারা বিস্তৃত ছিল সমগ্র সিলেটজুড়ে। দূরগামী এক মুসাফিরের মতো তিনি পরিভ্রমণ করেছেন সিলেটের বিভিন্ন জনপদ। মানুষের জীবন, ভাষা, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও লোকাচারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে তিনি খুঁজে নিয়েছেন তাঁর সৃষ্টির উপাদান।

তাঁর সুরপিয়াসী মন ও সৃষ্টিকর্মের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়—তিনি ছিলেন শেকড়সন্ধানী এক শিল্পী। নিজের মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতিকে জানার মধ্য দিয়েই তিনি তাঁর শিল্পসত্তাকে বিকশিত করেছিলেন।

সিলেটের পরিচিতিমূলক গানে অনন্য অবদান

Manual1 Ad Code

সিলেটের মানুষের সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণে এ কে আনামের গান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ‘সুরমা নদীর তীরে আমার ঠিকানা রে, বাবা শাহজালালের দেশ সিলেট ভূমিরে’ গানটি সিলেটের মানুষের কাছে এক পরিচিতিমূলক বা ‘ব্র্যান্ডিং সং’ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সমাদৃত।

গানটির কথায় সিলেটের ভূপ্রকৃতি, ইতিহাস, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও মানুষের আত্মপরিচয় একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। সুরমা নদী এবং হজরত শাহজালালের স্মৃতিবিজড়িত সিলেটকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই গানে একটি জনপদের প্রতি মানুষের আবেগ, গর্ব ও আত্মপরিচয়ের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।

এ কারণেই এ কে আনামের গান কেবল সংগীত হিসেবে নয়, সিলেটের সাংস্কৃতিক স্মারক হিসেবেও বিবেচিত হয়ে আসছে।

Manual4 Ad Code

প্রকৃতি ও প্রান্তিক মানুষের জীবন তাঁর গানে

সুরমা, কুশিয়ারা ও খোয়াই—সিলেট অঞ্চলের এই নদীগুলো যেমন জনজীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তেমনি এ কে আনামের সৃষ্টির সঙ্গেও যেন এক অন্তর্গত সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর গানে নদী, প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও জনপদের জীবন একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে।

তাঁর সুরের আবহ সিলেট অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম, শেকড়ের প্রতি টান এবং নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়েছে। তাঁর কথা, সুর ও কণ্ঠের ব্যঞ্জনায় সমকালীন বিষয়াবলি, প্রাকৃতজনের ভাব-বোধ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নানা অনুষঙ্গ বারবার উঠে এসেছে।

একই সঙ্গে সামাজিক অসঙ্গতি, অবহেলা এবং পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামও তাঁর সৃষ্টিতে শিল্পিত রূপ পেয়েছে। ফলে তাঁর গান শুধু রোমান্টিকতা বা প্রকৃতিপ্রেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সমাজ ও মানুষের বাস্তব জীবনও ছিল তাঁর সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উপজীব্য।

আধ্যাত্মিকতা ও মরমি দর্শনের উপস্থিতি

এ কে আনামের সৃষ্টির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল আধ্যাত্মিক ও মরমি ভাবধারার সঙ্গে লোকজ জীবনবোধের সমন্বয়। তাঁর গীতিকবিতায় কখনো প্রত্যক্ষভাবে, কখনো প্রতীকের মাধ্যমে মানুষের আত্মজিজ্ঞাসা, প্রেম, বিরহ, জীবন ও মৃত্যুচিন্তা এবং পরমের সন্ধানের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

তাঁর গানের প্রকাশভঙ্গি ও আঙ্গিক ছিল স্বতন্ত্র। প্রতীকী ও পরাবাস্তবতার ব্যবহার তাঁর সৃষ্টিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। সহজ কথার ভেতর গভীর জীবনবোধ এবং পরিচিত লোকজ উপমার ভেতর দার্শনিক তাৎপর্য সৃষ্টি করার সক্ষমতা তাঁকে তাঁর সমসাময়িক অনেক শিল্পীর থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

সিলেটের সংগীতাঙ্গনে স্বতন্ত্র অবস্থান

সিলেটের সংগীতাঙ্গনে এ কে আনাম ছিলেন এক স্বতন্ত্র সঙ্গীতসত্তা। তাঁর গান স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে যে, সময়ের পরিবর্তনেও সেগুলোর আবেদন কমেনি।

তাঁর গীতিকবিতার বিষয়, প্রকাশভঙ্গি ও আঙ্গিক ছিল স্বতন্ত্র। লোকজ ঐতিহ্যের ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আধুনিক জীবনবোধ, সমাজবাস্তবতা, প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতাকে তিনি একত্র করেছিলেন। এ কারণেই তাঁর সৃষ্টিকে সিলেটের আঞ্চলিক সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শুধু সিলেট নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর গান পরিবেশিত হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছেও তাঁর সৃষ্টির আবেদন রয়েছে। তাঁর সৃষ্টিগুলো নতুন করে পরিবেশন ও চর্চার মধ্য দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে।

সুরমা-কুশিয়ারার সুরে
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

সুরমা নদীর তীরে আজও জাগে গান,
কুশিয়ারার ঢেউ বলে—ছিলেন এক প্রাণ।
খোয়াইয়ের জলে যেন সুরেরই মায়া,
এ কে আনাম নামটি ভুলিবে কি হায়!

Manual8 Ad Code

“আমার ঠিকানারে সুরমা নদীর তীরে”—
সুর হয়ে ভেসে আসে জনপদ ঘিরে;
“বাবা শাহজালালের দেশ সিলেট ভূমিরে”—
শেকড়ের টান জাগে হৃদয়ের নীড়ে।

সিলেট পাইলে যেমন তেমন সেই সুর,
মাটির মানুষের মুখে আজও মধুর।
“আইজ আমারে আনিয়া দেওরে আসমানের চাঁন”—
বিরহী হৃদয়ে বাজে অমলিন সে গান।

ও সোনার চান্দেরে, ও মায়ার চান্দেরে,
স্মৃতির আকাশ জুড়ে জ্বলে আজও ঘিরে।
“বিজয় দেখিলাম রে”—জাগে দীপ্ত প্রাণ,
শ্রীমঙ্গলের বুকে ওঠে গানের তান।

শ্রী আছে যার, মঙ্গলও তার—এই বাণী,
সবুজের বুকজুড়ে আজও তার নিশানী।
চা-বাগানের পথে পথে, পাহাড়ের ছায়ায়,
তার সুর আজও যেন মনের কথা গায়।

লোকায়ত বাংলার সহজিয়া সেই সুর,
প্রান্তিক মানুষের ব্যথা করেছিল মধুর।
দুঃখ আর বঞ্চনার নীরব দিনলিপি
গানে গানে এঁকেছেন মমতায় নিপুণ কবি।

প্রকৃতির রূপ দেখে মুগ্ধ দুই নয়ন,
শ্রীমঙ্গল হয়ে উঠেছিল সাধনার ভুবন।
সবুজের স্বর্গরাজ্য, মেঘ, বৃষ্টি, বন—
সবকিছুর মাঝেই ছিল সুরের অন্বেষণ।

শুধু কি শ্রীমঙ্গল?—সমগ্র সিলেটজুড়ে
ঘুরেছেন মুসাফিরের বেশে পথে পথে ঘুরে।
সুরমা-কুশিয়ারা, খোয়াইয়ের তীর,
শেকড়ের সন্ধানে তিনি ছিলেন পথিক ধীর।

তাঁর গানে ফুটেছে মানুষেরই মুখ,
কখনো প্রেম-বিরহ, কখনো গভীর দুঃখ।
সমাজের অসঙ্গতি, বঞ্চিতের কান্না,
আধ্যাত্মিক ব্যাকুলতা—সবই তার গাথা।

সহজ ছিল ভাষা, অথচ গভীর তার মানে,
পরাবাস্তব স্বপ্ন জেগে উঠত গানে।
প্রতীকের কারুকাজ, মরমি আবেশ—
স্বতন্ত্র সুরসত্তায় তিনি ছিলেন বিশেষ।

আজ তাঁর প্রয়াণদিন—আঠারোটি বছর,
তবু তাঁর গানের রেশ হয়নি তো ক্ষয়কর।
শিল্পী যায়, সুর থাকে, থাকে তার বাণী,
মাটির মানুষের মনে জ্বলে তার নিশানী।

যতদিন সুরমা বয়, কুশিয়ারা চলে,
খোয়াইয়ের ঢেউ ওঠে সবুজের কোলে,
যতদিন সিলেটের আকাশে জাগে গান—
ততদিন বেঁচে রবে এ কে আনাম নাম।

ক্ষণজন্মা শিল্পী তুমি, অমর তোমার সুর,
তোমার গানে আজও এই জনপদ ভরপুর।
প্রয়াণের দিনেও তাই শ্রদ্ধার অর্ঘ্য আনি—
সুরের আকাশে তুমি অমর, অম্লানখানি।

Manual3 Ad Code

প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর এ কে আনামের ১৮তম প্রয়াণ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে তাঁর ভক্ত, অনুরাগী, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।

ক্ষণজন্মা ও অকালপ্রয়াত এই স্রষ্টার প্রয়াণ দিবসে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা-এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

এ উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এ কে আনাম সিলেটের মাটি ও মানুষের কথা বলেছেন তাঁর নিজস্ব ভাষা ও সুরে। তাঁর গান সিলেটের মানুষের আত্মপরিচয়, প্রকৃতি, জীবনসংগ্রাম ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির এক অনন্য দলিল। সময়ের ব্যবধানে তাঁর সৃষ্টির আবেদন আরও গভীর হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ কে আনামের মতো শিল্পীর সৃষ্টি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর গান মানুষের জীবন ও মাটির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা নতুন অর্থে ফিরে আসে। সিলেটের আঞ্চলিক সংগীতের ইতিহাসে এ কে আনামের অবদান তাই দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কে আনামের গান ও সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁর গান সংগ্রহ, স্বরলিপি প্রণয়ন, জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা এবং তাঁর সৃষ্টির প্রামাণ্য সংরক্ষণ সিলেটের লোকসংগীতের ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সিলেটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এ কে আনামের সৃষ্টিসম্ভার তাই কেবল তাঁর ব্যক্তিগত শিল্পসাফল্যের স্মারক নয়; বরং একটি জনপদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনবোধেরও মূল্যবান দলিল।

সুরমা, কুশিয়ারা কিংবা খোয়াই যতদিন স্রোতস্বিনী থাকবে, যতদিন সিলেটের মানুষ নিজের মাটি, প্রকৃতি ও শেকড়ের কথা বলবে, ততদিন এ কে আনামের গান ও সুর নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরে আসবে—এই প্রত্যাশাই তাঁর ১৮তম প্রয়াণ দিবসে তাঁর অনুরাগীদের।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ