রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধে উদ্বেগ: অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান ৫ মার্কিন আইনপ্রণেতার

প্রকাশিত: ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধে উদ্বেগ: অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান ৫ মার্কিন আইনপ্রণেতার

Manual1 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ : বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন কংগ্রেস সদস্য। নির্বাচনের আগে একটি বড় রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এতে ভোটারদের একটি বড় অংশ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো এক চিঠিতে এই আহ্বান জানান হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির র‌্যাংকিং মেম্বার গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা, একই উপকমিটির র‌্যাংকিং মেম্বার সিডনি কামলাগার-ডোভ এবং কংগ্রেস সদস্য জুলি জনসন ও টম আর সুওজি। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়।

চিঠিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে কংগ্রেস সদস্যরা বলেন, জাতীয় সংকটের সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রতি তারা সমর্থন জানালেও, একটি বড় রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা মৌলিক মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত অপরাধ দায়বদ্ধতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার অথবা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

Manual8 Ad Code

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আহ্বান এসেছে। ২০২৪ সালের গণআন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির রাজনৈতিক নিবন্ধন স্থগিত করায় দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারায়। একই অভিযোগে দলটির ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Manual2 Ad Code

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়। এসব মামলায় দলটির সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Manual1 Ad Code

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চিঠিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। কংগ্রেস সদস্যরা বলেন, এসব ঘটনার যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হওয়া উচিত; প্রতিশোধের ধারাবাহিকতা নয়।

২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে তারা বলেন, সংগঠনের স্বাধীনতা এবং সম্মিলিত নয়, বরং ব্যক্তিগত অপরাধ দায়বদ্ধতার নীতি মৌলিক মানবাধিকার। আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট অপরাধীদের বিচারের পরিবর্তে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা এসব নীতির পরিপন্থী।

Manual4 Ad Code

চিঠিতে আরও বলা হয়, জনগণের মতামত শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশের সুযোগ দিতে নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি জরুরি। একই সঙ্গে সততা, স্বচ্ছতা ও নির্দলীয়ভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংস্কার প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম স্থগিত রাখা বা ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় চালু করা এসব লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।

চিঠির শেষাংশে কংগ্রেস সদস্যরা বলেন, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে, যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দেশটির গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ