আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হলেন দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৫

আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হলেন দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিউল (দক্ষিণ কোরিয়া), ০৪ এপ্রিল ২০২৫ : দেশে বিপর্যয়কর সামরিক আইন জারির দায়ে শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে পদচ্যুতির রায় দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। এই রায়ের ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হলো।

সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

Manual4 Ad Code

৬৪ বছর বয়সী ইউন গত বছর ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করেন। বেসামরিক শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টার দায়ে তাকে অভিশংসন করে দেশটির পার্লামেন্ট। অভিশংসন চেষ্টায় আইন প্রণেতাদের বাধা দিতে পার্লামেন্টে সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করেন ইউন।

Manual3 Ad Code

পরে অভিশংসিত হওয়ার পর ইউনকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বিদ্রোহের অভিযোগে একটি পৃথক ফৌজদারি মামলায় ইউনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
শুক্রবার কোরিয়ার লাখো নাগরিক সাংবিধানিক আদালতের রায় সরাসরি টেলিভিশনে দেখেছেন। দেশটির প্রধান মেসেজিং অ্যাপ কাকাওটক এএফপিকে জানিয়েছে, হঠাৎ করে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্ল্যাটফর্মটিতে চাপ তৈরি হয়েছে। ব্যবহারকারীরা ধীরগতির সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে রায় ঘোষণার সময় বলেন, ‘সংবিধান লঙ্ঘনের গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ও সুদূরপ্রসারী পরিণতির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিবাদী ইউন সুক ইওলকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বরখাস্ত করছি।’

Manual3 Ad Code

এদিকে ইউন আদালত কর্তৃক বরখাস্ত হওয়ার ফলে দক্ষিণ কোরিয়াকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। দেশটির কর্তৃপক্ষ কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে।

Manual5 Ad Code

আদালতের বাইরে এএফপি সাংবাদিকরা ইউনের সমর্থকদের চিৎকার করে হুমকি দিতে শুনেছেন। আদালতের যেসব বিচারক অভিশংসন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে ইউনের সমর্থকরা। পুলিশ সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

বিচারকরা তাদের রায়ে বলেছেন, ‘ইউনের কর্মকাণ্ড আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক শাসনের মূলনীতির লঙ্ঘন। অভিশংসন প্রক্রিয়ায় আইন প্রণেতাদের ভোটদান থেকে বিরত রাখতে পার্লামেন্টে সশস্ত্র সৈন্য পাঠিয়ে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেনা মোতায়েন করেছেন।’

রায়ে বলা হয়, ‘বিবাদীর অসাংবিধানিক ও অবৈধ কাজ জনগণের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘন মেনে নেওয়া যায় না।’

রায় ঘোষণার সময় বিরোধী দলের আইন প্রণেতারা হাততালি দিয়ে এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ রায় বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে ইউনের দলের আইন প্রণেতারা আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

রায় প্রকাশের পর ইউন এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জনগণের ‘প্রত্যাশা’ পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ