চায়না পাওয়ার এক্সপার্ট কনসাল্টেশন পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত সভা

প্রকাশিত: ৯:২২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২৫

চায়না পাওয়ার এক্সপার্ট কনসাল্টেশন পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত সভা

Manual8 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ১৮ জুলাই ২০২৫ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে। চীনের কাছে প্রস্তাব প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

উত্তরাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় ১২ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এতোদিন ফাইলপত্র চাপা পড়ে থাকলেও ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে এ প্রকল্পের চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে। তিস্তা নদীর ভাঙ্গনরোধ ও ন্যায্য পানি হিস্যা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রকল্পের আওতায় তিস্তা নদীর দুই পাড়ে ২২০ কিলোমিটার গাইড বাঁধ নির্মাণ, বাঁধের দুই পাশে সমুদ্র সৈকতের মতো মেরিন ড্রাইভ, হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন নগরী, পরিকল্পিত শহর, নগর ও বন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে এক্সপার্ট কনসাল্টেশন পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হয়েছে।

আগামী অক্টোবরের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার ডিজাইন চূড়ান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের সভায় পাঁচটি মূল বিষয়ের চূড়ান্ত আলোচনা করা হয়েছে। এরপর সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সরকারের অনুমোদনের পর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। চীন বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিলে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তিস্তা পাড় হয়ে উঠবে পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ান সিটির মতো সুন্দর নগরী। চীনা কোম্পানি এসব বিষয় মাথায় রেখে তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলার সাধারণ জনগনের মতামতের ভিত্তিতে এ মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে নির্দেশনা দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বকালীন সরকার।

এদিকে চীনের প্রস্তাবিত এই ‘তিস্তা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষের ভাগ্যের চাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীর গভীরতা প্রায় ১০ মিটার বাড়বে। বন্যার পানি প্লাবিত হয়ে ভাসাবে না গ্রামগঞ্জের জনপদ। সারা বছর নৌ চলাচলের মতো পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা যাবে। এতে আছে- ১০৮ কিলোমিটার নদী খনন, নদীর দুপাড়ে ১৭৩ কিলোমিটার তীর রক্ষা, চর খনন, নদীর দুই ধারে স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ, বালু সরিয়ে কৃষি জমি উদ্ধার ও এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা এবং প্রতি বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন। নৌবন্দর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দুই পাড়ে থানা, কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনীর জন্য ক্যাম্পের ব্যবস্থার প্রস্তাবও প্রকল্পে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চায়না পাওয়ার এক্সপার্ট কনসাল্টেশন পরামর্শক সভার মাধ্যমে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল তিস্তা মহাপরিকল্পনা।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই ২০২৫) রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনের ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে চায়না পাওয়ার এক্সপার্ট কনসাল্টেশন পরামর্শক তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (তিস্তা মহাপরিকল্পনা) এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উপর বিশেষজ্ঞ পরামর্শক শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়। চায়না পাওয়ার এক্সপার্ট কনসাল্টেশন পরামর্শক সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বুয়েট, আইডবিøউএফএম, এমআইএসটি, এইউএসটি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাপাউবো, ওয়ারপো, বেজা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট, মৎস্য অধিদপ্তর, এলজিইডি, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, সিইজিআইএস, আইডব্লিউএমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গত মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম সফরে তিস্তা নদীতীর রক্ষায় চলমান কাজ পরিদর্শনে গিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, স্থানীয় জনগণ তিস্তা নদীতীরে স্থায়ী বাঁধের দাবি করছেন। ইতিপূর্বে তিস্তা নদীর বিভিন্ন স্থানে আমরা পাঁচটি গণশুনানি করেছি। এগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জমা হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার ডিজাইন চূড়ান্ত হবে। সৈয়দা রিজওয়ানা সাংবাদিকদের বলেন, তিস্তা আমাদের নদী। ভাটির দেশ হিসেবে তিস্তা নদীর ওপর আমাদের অধিকার আছে। আমাদের স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই তিস্তা নদী কীভাবে সুরক্ষিত রাখতে পারি, সে জন্য আমরা তিস্তার পাঁচটি স্থানে গণশুনানি করেছি। ইতিপূর্বে আমরা ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার অতিভাঙনপ্রবণ এলাকায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিয়েছি। নতুন করে কোথাও ভাঙন দেখা দিলে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানিসম্পদ উপদেষ্টা জানান, ২০১৬ সালে চীনের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ বেশি দূর এগোয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আবারও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীন সরকারের কথাবার্তা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা তিস্তাপাড়ের মানুষের আশা-আকাঙ্খার কথা গণশুনানিতে শুনে সেগুলো পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। এখন সরকারের অন্য দুটি পর্যায়ে এই পরিকল্পনা নিয়ে অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত ডিজাইন দেওয়া হবে। এরপর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী পরিমাণ অর্থ লাগবে, সেগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দরকষাকষি হবে। এরপর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।

Manual7 Ad Code

জানা গেছে, প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল আট হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় তিস্তা নদীর দুই পাড়ে ২২০ কিলোমিটার গাইড বাঁধ নির্মাণ, বাঁধের দুই পাশে সমুদ্রসৈকতের মতো মেরিন ড্রাইভ, হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন নগরী, পরিকল্পিত শহর, নগর ও বন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তিস্তা পাড় হয়ে উঠবে পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ান সিটির মতো সুন্দর নগরী। এসব বিষয় মাথায় রেখে তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলার মানুষ দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চায়। মানুষের এই চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলন নামে কর্মসূূচি পালন করেছে।

Manual7 Ad Code

হোয়াং হো নদকে এক সময় বলা হতো চীনের দুঃখ। সেই নদকে শাসন করে জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ান সিটি গড়ে তুলেছে চীনের সরকার। সেই মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে চীনের হোয়াং হো নদী ও সুকিয়ান সিটির আদলে তিস্তার দুই পাড়কে আধুনিকভাবে গড়ে তোলা হবে। বাঁধের দুই পাশে থাকবে মেরিন ড্রাইভ। তৈরি হবে আধুনিক সেচ প্রকল্প ও যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ কৃষি খামার। একই সঙ্গে নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠা তিস্তা স্যাটেলাইট শহর গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কোন দিকে যাচ্ছে। উপদেষ্টা বলেছেন, চীনকে শর্ত দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো চীনের দিকে টানছে। এদিকে তিস্তা বাঁচাও এবং মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে গত বছর ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি দু’দিনের কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু। সব মিলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব বাড়ছে।

তিস্তা নদীর ভাঙ্গনরোধ ও ন্যায্য পানি হিস্যা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উলিপুর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি হায়দার আলী মিঞা বলেন, পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য শুনে আমাদের তিস্তার পাড়ের মানুষ অনেক উল্লাস করেছেন। আমরা চাই এ সরকার চূড়ান্ত চুক্তি করুক।
তিস্তার মহাপরিকল্পনা আধাঁর কেটে গেল ২৫ বছর, উন্নয়ন বঞ্চিত ৮ জেলার মানুষ, নদীতে বিলীন তিন কোটি পরিবার। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আটকে থাকলেও ৮ জেলার ৪২ ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙন ও বন্যা থেমে নেই। এই ভাঙনে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হচ্ছে। বিলীন হচ্ছে হেক্টরের পর হেক্টর ফসলি জমি। খরাকালে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও খননের কাজ শুরুর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রংপুরের বাসিন্দারা। চীনের প্রস্তাবিত ‘তিস্তা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষের ভাগ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। নদীর গভীরতা প্রায় ১০ মিটার বাড়বে। বন্যার পানি প্লাবিত হয়ে ভাসাবে না গ্রামগঞ্জের জনপদ। সারা বছর নৌ চলাচলের মতো পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা যাবে। এতে আছে ১০৮ কিলোমিটার নদী খনন, নদীর দু’পাড়ে ১৭৩ কিলোমিটার তীর রক্ষা, চর খনন, নদীর দুই ধারে স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ, বালু সরিয়ে কৃষিজমি উদ্ধার ও এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা এবং প্রতি বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন। নৌ-বন্দর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দুই পাড়ে থানা, কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনীর জন্য ক্যাম্পের ব্যবস্থার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে প্রকল্পটিতে। গত ডিসেম্বরের মধ্যেই চীনের চুক্তি ও টেন্ডার। প্রকল্প ব্যয় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। তিস্তার পানি চুক্তির প্রয়োজন পড়বে না। সাত থেকে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি প্রত্যাহারের কারণে নদীটির শাখা-প্রশাখা ও উপনদীগুলো ভরাট, দখল ও তিস্তার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিণতিতে ভ‚গর্ভস্থ পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় টান পড়েছে ভূগর্ভস্থ উৎসে। নদীর পানির চাপ না থাকায় সাগরের নোনাপানি দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকে পড়ে ওই অঞ্চলের মৎস্য চাষ, ফসল আবাদ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে ফেলছে। তিস্তা নদীর ভাঙনরোধে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ধাপে ধাপে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। মহাপরিকল্পনায় তিস্তা নদীর ডান-বাম উভয় তীর ঘেঁষে ২২০ কিলোমিটার উঁচু গাইড বাঁধ, রিভার ড্রাইভ, হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ, পর্যটন কেন্দ্র, ১৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুতকেন্দ্র, শিল্প-কারখানা, ইপিজেড, ইকোনমিক জোন, কয়েক লাখ হেক্টর কৃষি জমি উদ্ধার, বনায়ন ইত্যাদি রয়েছে। এতে পাল্টে যাবে তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষের জীবনমান।

Manual5 Ad Code

প্রায় ২৪০ বছরের পুরোনো নদী তিস্তা। এর সঙ্গে রয়েছে উত্তরের ২৫টি নদীর প্রবাহ। গত ২০১৪ সাল থেকে ভারত সরকার একতরফা তিস্তার পানি প্রত্যাহার করছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদীটি একেবারেই শুকিয়ে যায়। নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলার রাজাহাট, উলিপুর, চিলমারী, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা। তবে শুষ্ক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা। এ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটিই তিস্তা নদীবেষ্টিত। নদী শাসন না হওয়ায় গত পাঁচ বছরে গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। ভারতের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে যাওয়ার পর তিস্তা নদীকে ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ দেখায় চীন। অতঃপর ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চীনের পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না বা পাওয়ার চায়নার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

Manual5 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ