শহর উন্নয়নের জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৫

শহর উন্নয়নের জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ

Manual7 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৫ : “দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত নগরায়ণশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে শহর উন্নয়নের জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল অবকাঠামো এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিগুলো বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই সংকট মোকাবিলায় এখন সময় এসেছে সাহসী নীতিমালা প্রণয়ন, উদ্ভাবনী নগর পরিকল্পনা এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার, যাতে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত, সহনশীল ও টেকসই শহর গড়ে তোলা সম্ভব হয়।”

Manual6 Ad Code

ইউএনওপিএস এর এসডিজি ক্যাফে এর এর ১৫তম পর্বের গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

Manual1 Ad Code

মাসিক গোলটেবিল আলোচনার অংশ হিসেবে এসডিজি ক্যাফে এর এর ১৫তম পর্ব আয়োজন করে ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ। “টেকসই নগর উন্নয়নের মাধ্যমে সহনশীল ভবিষ্যৎ গঠন” শীর্ষক এই আযোজনটি দেশের নগর উন্নয়ন ও টেকসই পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, নগর পরিকল্পনাবিদ, গবেষক, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাসমূহ অংশগ্রহণ করেন। এই পর্বের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) ১১-যার লক্ষ্য হলো শহর ও জনবসতিগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল এবং টেকসই করে গড়ে তোলা।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানার্স-এর সভাপতি ড. আদিল মোহাম্মদ খান। তিনি বর্তমান নগর ব্যবস্থার কাঠামোগত চ্যালেজগুলোর দিক তুলে ধরেন এবং টেকসই নগর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এসডিজি ক্যাফে ১৫-এর ইন্টারেক্টিভ (অংশগ্রহণমূলক) বিন্যাস অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রাণবন্ত আলোচনা ও মতবিনিময়কে উৎসাহিত করেছে। আলোচনায় উঠে এসেছে- সাশ্রয়ী আবাসন, বস্তি উন্নয়ন, টেকসই পরিবহন, সবার জন্য সবুজ উন্মুক্ত স্থান এবং উদ্ভাবনী অর্থায়ন কৌশলসহ নগর উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়। নগর উন্নয়নের বিভিন্ন খাতের অংশীজনদের একত্রিত করে এই গোলটেবিল বৈঠকটি কার্যকর সমাধান ও ভবিষ্যতমুখী ভাবনার একটি উদ্দীপক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

Manual2 Ad Code

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরলিধরন যৌথ সহযোগিতার প্রযোজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “নগর সহনশীলতা কোনো তাত্ত্বিক লক্ষ্য নয়। এটি বাংলাদেশের লাখো মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাস্তবতা। UNOPS বিশ্বাস করে, টেকসই শহর গড়তে হলে আমাদের দরকার শক্তিশালী অংশীদারিত্ব, স্থানীয় নেতৃত্ব, এবং এমন উদ্ভাবন যা বড় পরিসরে প্রয়োগযোগ্য। আজকের এই সংলাপ আমাদের সেই যৌথ প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরছে, যেখানে আমরা একসঙ্গে মিলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১১ অর্জনে এগিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

Manual3 Ad Code

সেশনের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা একটি ভবিষ্যতমুখী আলোচনা করেন, যেখানে বহু-অংশীজন সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কীভাবে জাতীয় ও স্থানীয় নগর উন্নয়ন কৌশলগুলো আরও কার্যকর করা যায়-তা নিয়ে মতবিনিময় হয়। সবাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) ১১ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে জ্ঞান বিনিময়, অংশীদারিত্ব গঠন এবং প্রাসঙ্গিক নীতিগত সুপারিশ তৈরির বিষয়ে একযোগে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অগ্রাধিকারের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের একত্রিত করে ইউএনওপিএস একটি টেকসই ও সমতাভিত্তিক ভবিষ্যতের পথে দেশের অগ্রযাত্রাকে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ