বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী সহ অন্যান্যদের সস্মমানে নি:শর্ত মুক্তি দিন!

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৫

বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী সহ অন্যান্যদের সস্মমানে নি:শর্ত মুক্তি দিন!

Manual6 Ad Code

মীর নাসিমুল ইসলাম |

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বুর্জোয়া রাজনীতিতে রাজনৈতিক শিক্ষায় সবচেয়ে শিক্ষিত, অগ্রগামী, প্রগতিশীল, সেক্যুলার, লিবারাল ও স্মার্ট ব্যক্তিটি নি:সন্দেহে জননেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠক। ৭১ এ টাঙ্গাইলে গঠিত সংগ্রাম পরিষদের প্রধান ব্যাক্তি।

আমরা কি জানি, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত লাইব্রেরি কার ছিলো? কার লাইব্রেরিতে পার্সোনাল ক্যাপাসিটিতে লক্ষাধিক বই ছিলো? কার লাইব্রেরিতে গ্রন্থাগারবিজ্ঞান অনুসরণ করে পূর্ণাঙ্গ ক্যাটালগিং ছিলো? একটা ব্যক্তিগত লাইব্রেরী, যা এ দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির চেয়ে বড়।

এই ব্যক্তিগত লাইব্রেরির সংগ্রহ ছিলো ব্যাপক সমৃদ্ধ। সেখানে বিশ্বের সেরা সেরা উপন্যাস, গল্পের বই, সিনেমা, নাটক, সংগীত ও চিত্রকলা নিয়ে লেখা দারুণ সব বই। এ ছাড়া ফটোগ্রাফি, সিনেমাটোগ্রাফিসহ কত শত বিষয়ের বই ছিল। বাংলাদেশের মতো একটা দেশে কেউ বুর্জোয়া রাজনীতি করে এত দারুণ সব বই পড়েছে! বিষয়টি আশ্চর্যজনক! হ্যা, কোনো লেখক বা অধ্যাপকের নয়, একজন রাজনীতিবিদের ছিলো এমন লাইব্রেরি। আর এই রাজনীতিবিদ জননেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

Manual1 Ad Code

অত্যন্ত দুঃখজনক, ৮৮ বছরের বয়োবৃদ্ধ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সাংবাদিককে হেনস্তা করা হলো, কতিপয় অর্বাচিন তরুনের হাতে! কয়েকজন পরিশীলিত, শিক্ষিত মানুষের সাথে এভাবে আচরণ হতে পারে না। যদিও মূর্খের সমাজে এটা অসম্ভব নয়।

লতিফ সিদ্দিকীর পাশে একসময় তার দল থাকেনি। আওয়ামী লীগের ধর্মান্ধদের তোষামোদ ছিল সীমাহীন। সেদিন লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বের না করলে আওয়ামী লীগের ভেতর একজন প্রভাবশালী প্রগতিশীল নেতাই থাকতো, ক্ষতি আওয়ামী লীগের হয়েছে। এসব ক্ষতি দলদাসরা স্বীকার করবে না। লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ বহিষ্কার করেছিলো। চলমান বহিস্কার নাটকের মত নয়, ছিলো আন্তরিক বহিষ্কার। কী অপরাধে? তিনি বলেছিলেন, এই যে আমলারা সব দলবেঁধে হজ্বে গিয়ে বসে আছে, মানুষ বারবার হজ্ব করে, এটা সময়ের অপচয়, টাকার অপচয়।

Manual8 Ad Code

লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো না, বিদেশে তিনি সম্পদ পাচার করেছেন এমন অভিযোগও তখন ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাকে পরিত্যাগ করেছিলো। শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয় সরাসরি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, বিষোদগার করেছিলেন। লতিফ সিদ্দিকী যখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন, তখন টেলিযোগাযোগ খাতে সজিব ওয়াজেদ জয় অন্যায় হস্তক্ষেপ করতেন। লতিফ সিদ্দিকী একদিন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলেন, মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কি আমি নাকি উনি? জবাবদিহি তো আমাকে করতে হবে। এ ঘটনায়ও লতিফ সিদ্দিকী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদের রোষানলে পড়েন। আওয়ামী লীগ সেদিন মৌলবাদীদের হয়ে লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করেছিলো। এবং তিনি স্বাধীনভাবে মন্ত্রণালয় চালাতে চাওয়ায় শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।

একথা অনেকেরই জানা ১৬ জুলাই ২০২৪ এ বিবিসির সাথে এক সাক্ষাতকারে লতিফ সিদ্দিকী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সবার আগেই শেখ হাসিনার পদত্যগ দাবী করেছিলেন। ছাত্রদের যৌক্তিক দাবীর প্রতি তিনি পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু জুলাই২৪ পরবর্তি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ড দেখে, একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে তিনি ৭১ মুছে ফেলাকে সমর্থন করতে পারেন নাই। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক প্রায় ১৩ মাস যাবত চলমান মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডকে নীরবে সহ্য করতে পারে না।

Manual2 Ad Code

অনেকেই বলবেন, আওয়ামী লীগ তাদের শাসন আমলে এর চেয়ে আরও অনেক জঘন্য কাজ করেছে। ২৪ সালের জুলাইতে ছাত্র-জনতা সেই ব্যবস্থার বিলুপ্তির জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। পুরানা ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের মত কর্মকান্ড করার জন্য না। যারা মবের বৈধতার জন্য পুরনো মবের ছবি/ভিডিও হাজির করে, তারা আরেকটা আওয়ামী লীগ হয়ে উঠার জন্য জুলাইয়ে আন্দোলন করেছে। তাদের উদ্দেশ্য সৎ না। আর তারা আন্দোলন করেছে বলেই যা তা করতে পারে না। কারণ, জুলাইয়ে অংশীদার বহুপক্ষ। এমনকি আওয়ামী লীগের একটা অংশও এর স্টেক হোল্ডার। এই যে বহুপক্ষ, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পক্ষ জনগণ। তো জনগণের চাওয়া হলো আইন ও গণতন্ত্রের শাসন নিশ্চিত করা। সুতরাং কাউকেই মব করার ম্যান্ডেট দেয়া হয় নাই। মাথায় রাখতে হবে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে জনগণ আওয়ামী লীগের মত যে কাউকে ঝেটিয়ে দেশছাড়া করতে পারে। সুতরাং সাধু সাবধান। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন। কেউ অপরাধী মনে হলে মামলা করুন, আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করতে শিখুন। এটুকু শিক্ষিত অন্তত হই। আর কত গরিব থাকবো আমরা!

এদিকে লতিফ সিদ্দিকীর ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, আমি দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক ভাবে বলতে চাই, ২৪শের আন্দোলন আমি দেশ স্বাধীন হওয়ার কাছাকাছি মনে করি। তাদের সমথর্ন করি আমি, কিন্তু বর্তমানে ২৪শের আন্দোলনকারীদের ব্যবহারে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমি তো ভেবেছিলাম তাদের এই বিজয় হাজার বছর চিরস্থায়ী হবে কিন্তু এক বছরে তাদের এই বিজয় ধ্বংসের দিকে চলে যাবে এইটা আমরা আশা করি নাই, আর যদি বলা যায়, আওয়ামী দোসর থেকে বর্তমান সরকারের দোসররা তো বড় স্বৈরাচার।

এই ঘটনা বার্তা দেয়, মুক্তিযুদ্ধ মানে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ মানে মুক্তিযুদ্ধ! লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত বহু বছর থেকে। মঞ্চ ৭১ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা শুনেই তথাকথিত মব বাহিনী সেখানে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আটক করে রেখেছে, অপমান করেছে। লতিফ সিদ্দিকি,ও আরো মুক্তিযোদ্ধা সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রকাশ্যে গায়ে হাত তোলা হয়েছে। জুলাই আকাঙ্ক্ষা কি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী? ২৪ এর যে আন্দোলন সেটা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের বিজয়। আপাত দৃষ্টিতে যারা জুলাই নিয়ে আস্ফালন করে তারা কেউ মুক্তিযুদ্ধের কোন আবেগ ধারণ করে না। ‎এই ঘটনায় রুখে না দাঁড়ালে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকেও কাদেরিয়া বাহিনী করার অপরাধে এই রাজাকারের উত্তরসূরীরা রাস্তাঘাটে অপদস্ত করবে। এখন সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিকে জেগে উঠার।

সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে বলবো, সুনির্দিষ্ট কগনিজিবল ওফেন্সের এজাহারনামীয় আসামী না হলে জননেতা লতিফ সিদ্দিকীকে সহ অন্যান্যা আটককৃতদের সস্মমানে নি:শর্ত মুক্তি দিন। এগুলো আইনের শাসনের নমুনা না। জনগণ আপনার উপর আস্থা রেখেছেন, আস্থার মূল্য দিন, না পারলে সসম্মানে দায়িত্ব ছেড়ে দিন।

Manual5 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ