রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ‘গণমাধ্যম’: মফস্বল সংবাদকর্মীদের জীবন-জীবিকা

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ‘গণমাধ্যম’: মফস্বল সংবাদকর্মীদের জীবন-জীবিকা

Manual4 Ad Code

এম এ রকিব |

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার পরেই গণমাধ্যমের অবস্থান। সমাজে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ বাস্তবতা হলো- এই গণমাধ্যমেরই সংবাদকর্মীরা আজ সবচেয়ে নিগৃহীত, নিপীড়িত ও অবহেলিত। বিশেষ করে মফস্বলের সংবাদকর্মীদের জীবন-জীবিকা অত্যান্ত নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে।

দেশের প্রথম সারির অনেক গণমাধ্যম মালিকপক্ষ মফস্বলের কর্মীদের কোনো বেতন-ভাতা কিংবা সম্মানী প্রদান করে না। তবুও রাষ্ট্রকে সত্যের আলো দেখাতে পরিবার-পরিজনের সময় ও নিরাপত্তা বিসর্জন দিয়ে মফস্বলের সহকর্মীরা দিন-রাত সংবাদের খোঁজে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়ান। অনেক ক্ষেত্রে এসব সংবাদকর্মীদের শ্রমের পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হয় দুই-চারশ টাকা কিংবা একটি তথাকথিত ‘ট্যাগ’। এই ‘ট্যাগ’ নিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

Manual8 Ad Code

আগামী ১২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য করতে রাষ্ট্রের সংবাদকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। অথচ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য রির্টানিং কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার যে প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, তা অনেকের কাছে রীতিমতো অন্যায় ও হয়রানিমূলক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার সংবাদকর্মীর তথ্য সংগ্রহ করলে তা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনা করা যায়নি। এখন আবার ম্যানুয়ালী আবেদন করে অনুমতি নিতে বলা হচ্ছে।

Manual3 Ad Code

এই আবেদন প্রক্রিয়ায় যেসব কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে মফস্বলের সংবাদকর্মীরা সিনিয়রের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। অনেক গণমাধ্যম বিশেষ করে দেশের স্বনামধন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সম্মানী না দিতে তাদের কর্মীদের নিয়োগপত্রই দেয় না। ফলে মফস্বলের সাংবাদিকদের পড়তে হচ্ছে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

Manual2 Ad Code

অন্যদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় সরকার প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করেছে। গণভোট যুক্ত হওয়ায় এই ব্যয় আগের নির্বাচনের তুলনায় কিছুটা বেশি। আসনপ্রতি গড় ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা। প্রশ্ন হলো- এত বিশাল বাজেটের মধ্যে নির্বাচন কাভার করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া সেই সংবাদকর্মীদের জন্য কোনো বরাদ্দ কেন নেই? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় কি এখনও আসেনি?
#
এম এ রকিব
গণমাধ্যমকর্মী।