নারী ও কন্যাশিশুদের বিজ্ঞান দিবস, নেতৃত্বে এশিয়া-প্যাসিফিকের নারীরা

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

নারী ও কন্যাশিশুদের বিজ্ঞান দিবস, নেতৃত্বে এশিয়া-প্যাসিফিকের নারীরা

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : আন্তর্জাতিক নারী ও কন্যাশিশুদের বিজ্ঞান দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে নারীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) খাতে অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান আরও জোরালো হয়েছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারী ও কন্যাশিশুদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে কাজ করছে।

বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ায় STEM শিক্ষায় তরুণীদের প্রবেশাধিকার এখনো সীমিত। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় ইউএনডিপির যুব ক্ষমতায়ন উদ্যোগ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

ডিজিটাল বিভাজন কমাতে উদ্যোগ

বিশ্বব্যাপী চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল দক্ষতা এখন কর্মসংস্থানের অন্যতম পূর্বশর্ত। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবধান এখনো স্পষ্ট। ইউএনডিপি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নারীদের জন্য কোডিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স, জলবায়ু প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ চালু করেছে।

Manual2 Ad Code

এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু দক্ষতা অর্জন নয়, বরং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা—যাতে তারা প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় ‘ইয়ুথ মুনশট’ উদ্যোগ

ইন্দোনেশিয়ায় তরুণীদের STEM শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে ইউএনডিপি “Youth Moonshot” নামে একটি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে। এই কর্মসূচির আওতায় তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণীরা জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন তৈরি করছে। ফলে শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত একটি সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে উঠছে।

সামিনতাং: পরিবর্তনের প্রতীক

ইন্দোনেশিয়ার তরুণ উদ্ভাবক সামিনতাং (Samintang) এই পরিবর্তনের উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি “Climate Catalysts”–এ কাজ করে জলবায়ু সমাধান নিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ পরিচালনা করছেন। ইউএনডিপির সহায়তায় তিনি শুধু নিজের দক্ষতা উন্নয়নই করেননি, বরং অন্যান্য তরুণীকে STEM-এ যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

তার কাজ দেখিয়ে দিচ্ছে—সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে নারীরা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে সমানভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে।

কেন জরুরি নারী অংশগ্রহণ?

Manual2 Ad Code

বিশেষজ্ঞদের মতে, STEM খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে উদ্ভাবনের পরিসর বিস্তৃত হয় এবং প্রযুক্তিগত সমাধান আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। বৈশ্বিক অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে নারীদের পিছিয়ে রাখা মানে উন্নয়নের অর্ধেক সম্ভাবনাকে অবহেলা করা।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG ৫) অনুযায়ী লিঙ্গসমতা অর্জন কেবল মানবাধিকার নয়, বরং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত।

ভবিষ্যতের পথচলা

আন্তর্জাতিক নারী ও কন্যাশিশুদের বিজ্ঞান দিবস শুধু উদযাপনের দিন নয়; এটি নীতিনির্ধারক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর জন্য একটি অঙ্গীকারের দিন। ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Manual2 Ad Code

ইউএনডিপি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা ভবিষ্যতের STEM-চালিত অর্থনীতিতে নারীদের সক্রিয় ভূমিকার পথ সুগম করছে।

নারীরা যখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেয়, তখন শুধু একটি খাত নয়—সমগ্র সমাজ এগিয়ে যায়।

Manual8 Ad Code

To learn about Samintang’s work at Climate Catalysts and how women are Redefining STEM, read the story: https://go.undp.org/5gU

UNDP in Asia and the Pacific

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ