জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং: তারেক রহমান

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং: তারেক রহমান

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : নির্বাচনী প্রচারণায় জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের আস্থা অর্জন এবং কনভিন্স করাকেই বিএনপির ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

Manual3 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান এ মন্তব্য করেন। খালেদের প্রশ্ন ছিল—‘অভয় দিলে জানতে চাই, নির্বাচনে আপনার দল যে ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে—এতগুলো আসন পেতে আপনাদের নির্বাচনে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হয়েছে কি না?’

জবাবে তারেক রহমান বলেন, “জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। আমরা জনগণের কাছে বারবার গিয়েছি, কথা বলেছি। তাদের সমস্যার কথা শুনেছি, আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন বলেই আমরা এই ফলাফল পেয়েছি।”

তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল এবং ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। “এই রায় দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে, উন্নয়ন ও জবাবদিহিতার পক্ষে,”—যোগ করেন তিনি।

ইংরেজিতে সূচনা, পরে বাংলায় বক্তব্য

Manual8 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তারেক রহমান ইংরেজিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান। পরে বাংলা ভাষায় বক্তব্য দিয়ে তিনি দেশের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ প্রমাণ করেছেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

জোট ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে অভিনন্দন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও অভিনন্দন জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলনসহ সব অংশগ্রহণকারী দলকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন একটি প্রতিযোগিতা। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। আমরা সবাই মিলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলগুলোর গঠনমূলক ভূমিকা গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

সরকার গঠন প্রসঙ্গ

২১২টি আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “আমরা সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

তিনি দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে নানা ইস্যু

Manual1 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা নির্বাচনী পরিবেশ, ভবিষ্যৎ নীতি, বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন করেন। তারেক রহমান বলেন, “আমরা অংশীদারিত্বমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। দেশের স্বার্থে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
তিনি জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।

উপসংহার

Manual7 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তারেক রহমান ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এই বিজয় কোনো দলের একার নয়, এটি জনগণের বিজয়। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়বদ্ধ।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিএনপির বড় জয় দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন নজর থাকবে, নতুন সরকার কিভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ