বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার বই থাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের গাড়ি আটক করল ছাত্রদল

প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬

বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার বই থাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের গাড়ি আটক করল ছাত্রদল

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী, ১০ জুন ২০২৬ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিগত সরকারসংশ্লিষ্ট বই থাকায় রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির গাড়ি আটক করেছে ছাত্রদলের একদল নেতা–কর্মী।

বুধবার (১০ জুন ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে গাড়িটি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম গ্রন্থাগারের ইনচার্জকে এসব বই সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

Manual7 Ad Code

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন, দিনের মধ্যে তিনি বইগুলো লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলবেন। এসব বই আর পাঠকের হাতে যাবে না। অঙ্গীকারনামায় দুঃখও প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীর আলম।

Manual4 Ad Code

ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন বইয়ের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু বই বের হয়েছে, যেটা আসলেই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি অঙ্গীকারনামা দিয়েছি, এই বই বা বিগত সরকারের গুণগান গাওয়া বই আর এই গাড়িতে বহন করব না এবং কোনো স্পটে নিয়ে যাব না। আমরা আজকেই এ বইগুলো সরিয়ে ফেলব।’

Manual8 Ad Code

প্রান্তিক পর্যায়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে দেশব্যাপী কাজ করছে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয় এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি।

Manual7 Ad Code

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির একটি গাড়ি ছিল রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে। এ সময় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা গাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিগত সরকারসংশ্লিষ্ট বই দেখে আপত্তি জানান। পরে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক (লিমন) গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যান। ডিসিকে ডেকে এনে বইগুলো দেখান।

এ সময় সাংবাদিকেরা ডিসি কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সম্মত হননি।

এসব বই নিষিদ্ধ কি না, এমন প্রশ্নে ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক লিমন বলেন, ‘যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরাই বলতে পারবেন। কুড়িগ্রামে কিন্তু সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যে ফ্যাসিবাদের যে বইগুলো আছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা সেটা করেননি। যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন আমরা তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে বইগুলো আগে থেকেই ছিল। এক বছর আমাদের প্রকল্পটা বন্ধ ছিল। গাড়িটা দীর্ঘদিন প্রধান কার্যালয়ে ছিল। ৫ আগস্টের পর বইগুলো আমরা আউট করেছিলাম। কিন্তু আসলে বইগুলো রাখার জন্য আমাদের কোনো জায়গা নেই। তাই গাড়িতেই একটু আড়াল করে রাখা ছিল, যাতে পাঠকেরা না দেখে। তারপরও কিছু পাঠক খুঁজে খুঁজে বের করে এলোমেলো করে রেখেছিল।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ