শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর আব্দুল মান্নানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২৬

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর আব্দুল মান্নানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২২ জুলাই ২০২৬ : শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, প্রগতিশীল চিন্তক এবং একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা, প্রফেসর আব্দুল মান্নানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

এ উপলক্ষে তাঁর পরিবার, সহকর্মী, সাবেক শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছে।

প্রফেসর আব্দুল মান্নান ২০২৫ সালের ২২ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সিলেটের আল হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজারের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষক, যিনি শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, যুক্তিবাদী চিন্তা ও সমাজসচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁকে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করেন।

ছাত্রজীবনে অধ্যাপক আব্দুল মান্নান ছিলেন প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সক্রিয় কর্মী। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তৎকালীন কিংবদন্তি ছাত্রনেতা কমরেড রাশেদ খান মেননের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য লাভ করেন। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের আদর্শ ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজে যুক্তিবাদ, মানবমুক্তি ও প্রগতিশীল মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, নিরহংকারী ও সংস্কৃতিমনা মানুষ। শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়। তিনি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডস্থ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।

অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বিশিষ্ট গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও ছড়াকার এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপক কয়েস সামি (সাম্মু)-এর পিতা।

তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বিবৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল। নেতৃবৃন্দ বলেন, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক, প্রগতিশীল রাজনীতির নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এবং মুক্তচিন্তার ধারক। শিক্ষা ও সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Manual3 Ad Code

এ ছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা শাখার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা-এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানও এক বার্তায় অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি বলেন, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান ছিলেন বিরল মেধা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রগতিশীল রাজনীতির এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি। শিক্ষকতা, ছাত্র আন্দোলন এবং সমাজসচেতনতায় তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা বলেন, অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের জীবন ছিল জ্ঞানচর্চা, ন্যায়বোধ, মানবিকতা ও প্রগতিশীল আদর্শের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁকে হারিয়ে শ্রীমঙ্গল একজন আলোকিত শিক্ষক ও সমাজমনস্ক মানুষকে হারিয়েছে। তাঁর কর্ম, আদর্শ এবং মূল্যবোধ আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে।

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মরহুম অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

প্রফেসর আব্দুল মান্নানের স্মরণে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা —

কমরেড, বিপ্লব কতদূর?
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান |

আজও বিকেলের আকাশ জুড়ে নিঃশব্দ এক দীর্ঘশ্বাস,
শহরের পথে বাতাস বয়ে আনে স্মৃতির বিষণ্ন সুবাস।
শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি গাছ আজ যেন মাথা নত করে,
একজন মানুষের অনুপস্থিতি উচ্চারণ করে ঘরে ঘরে।

এক বছর—
ক্যালেন্ডারের পাতায় মাত্র একটি বছরের হিসাব,
কিন্তু মানুষের হৃদয়ে শোকের কোনো বর্ষপঞ্জি নেই।
যাঁরা আলোর মানুষ,
তাঁদের চলে যাওয়া সময়কে নয়,
সমস্ত সমাজকেই নিঃস্ব করে দেয়।

আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী
প্রফেসর আব্দুল মান্নানের।
শিক্ষক ছিলেন,
কিন্তু শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষক নন;
তিনি ছিলেন বিবেকের শিক্ষক,
প্রশ্ন করার শিক্ষক,
মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষক,
অন্যায়ের সামনে মাথা না নোয়ানোর শিক্ষক।

তিনি জানতেন—
শিক্ষা কেবল চাকরির সিঁড়ি নয়,
শিক্ষা হলো মুক্তির ভাষা,
মানুষের ভিতরে মানুষকে জাগিয়ে তোলার শিল্প।

একদিন তিনি ছিলেন তরুণ,
চোখে স্বপ্নের দীপ্ত আগুন।
সময়ের উত্তাল ছাত্র আন্দোলনে
উচ্চারণ করেছিলেন প্রতিবাদের ভাষা।
ছাত্র ইউনিয়নের পতাকা হাতে
হেঁটেছিলেন রাজপথের অগ্নিপরীক্ষায়।

রাশেদ খান মেননের সাহচর্যে
রাজনীতিকে শিখেছিলেন কেবল ক্ষমতার কৌশল নয়,
বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায় হিসেবে।
বুদ্ধির মুক্তির আহ্বানে
তিনি যুক্ত করেছিলেন নিজের চিন্তা,
নিজের সাহস,
নিজের সমস্ত বিশ্বাস।

তিনি জানতেন—
মুক্তচিন্তার কোনো বিকল্প নেই।
যেখানে প্রশ্ন থেমে যায়,
সেখানেই অন্ধকার জন্ম নেয়।

কতজন শিক্ষক
শ্রেণিকক্ষে পাঠ শেষ করে
জীবনের পাঠও শিখিয়ে যান?

তিনি পারতেন।

তিনি বলতেন না—
শুধু পরীক্ষায় ভালো করো।
তিনি বলতেন—
সত্যের পাশে দাঁড়াও।

তিনি বলতেন না—
শুধু মুখস্থ করো।
তিনি বলতেন—
বিবেককে জাগিয়ে রাখো।

তিনি বলতেন না—
নিজেকে বড় করো।
তিনি বলতেন—
মানুষকে বড় করো।

আমাকে দেখলেই
হেসে বলতেন—

“কেমন আছেন কমরেড?”

একটি সম্ভাষণ,
কিন্তু তার ভেতরে ছিল
একটি সময়ের ইতিহাস।

আবার কখনো বলতেন—

“রাজনীতির কী খবর কমরেড?”

এই প্রশ্ন কেবল খবরের কাগজের নয়,
এই প্রশ্ন ছিল সমাজের বিবেকের।

আবার হেসে জিজ্ঞেস করতেন—

“বিপ্লব কতদূর কমরেড?”

কী আশ্চর্য প্রশ্ন!

আজও সেই প্রশ্ন
বাতাসে ভেসে বেড়ায়।

বিপ্লব কতদূর?

মানুষ কি শোষণমুক্ত হয়েছে?

ক্ষুধার কি মৃত্যু হয়েছে?

বৈষম্যের কি সমাধি রচিত হয়েছে?

সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ
কি উপড়ে ফেলা গেছে?

মানুষ কি সত্যিই
মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছে?

তারপর তিনি আরও গভীর কণ্ঠে বলতেন—

“বিদ্যমান শোষণমূলক আর্থসামাজিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য পার্টি কতটা প্রস্তুত কমরেড?”

এ প্রশ্ন কোনো ব্যক্তিকে নয়,
এ প্রশ্ন ইতিহাসকে।
এ প্রশ্ন ভবিষ্যৎকে।
এ প্রশ্ন আমাদের প্রত্যেককে।

আজ তিনি নেই।

কিন্তু প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে।

যতদিন অন্যায় থাকবে,
ততদিন তাঁর প্রশ্নও বেঁচে থাকবে।

যতদিন বৈষম্য থাকবে,
ততদিন তাঁর কণ্ঠস্বর শোনা যাবে।

যতদিন শোষণ থাকবে,
ততদিন তাঁর চোখের আগুন
নতুন প্রজন্মের ভেতরে জ্বলে উঠবে।

তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতার নির্মল উচ্চারণ।

Manual7 Ad Code

তিনি বিশ্বাস করতেন—
মানুষের আগে কোনো পরিচয় নয়।

ধর্ম মানুষের বিবেককে সুন্দর করুক,
মানুষকে বিভক্ত না করুক।

তিনি বিশ্বাস করতেন—
বাংলার মাটি সকল মানুষের।

এই দেশ
কৃষকেরও,
শ্রমিকেরও,
শিক্ষকেরও,
ছাত্রেরও,
সংখ্যালঘুরও,
অধিকারবঞ্চিত প্রতিটি মানুষের।

তাই তাঁর জীবন
ছিল বিভেদের বিরুদ্ধে
এক অবিরাম প্রতিবাদ।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের
অসংখ্য শিক্ষার্থী আজও
তাঁর স্মৃতি বহন করে।

কত শত ছাত্র
আজ দেশের নানা প্রান্তে,
দেশের বাইরে,
বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত।

তাঁদের জীবনের ভেতরে
অদৃশ্যভাবে রয়ে গেছে
একজন শিক্ষকের স্পর্শ।

শিক্ষক কখনো মরে না।

তিনি বেঁচে থাকেন
শিক্ষার্থীর ভাষায়,
চিন্তায়,
সাহসে,
সিদ্ধান্তে।

যে শিক্ষক মানুষ গড়েন,
তিনি আসলে সময় গড়েন।

তাঁর পরিবার
আজও বহন করছে
একটি আলোকিত জীবনের উত্তরাধিকার।

সন্তানদের ভেতরে,
স্বজনদের স্মৃতিতে,
বন্ধুদের কথায়,
সহকর্মীদের শ্রদ্ধায়
তিনি প্রতিদিন ফিরে আসেন।

যে মানুষ ভালোবাসা দিয়ে বেঁচে থাকেন,
তাঁর মৃত্যুও পরাজিত হয়।

আজ ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধা
তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের প্রতি
একটি রাজনৈতিক সম্মানই নয়,
এটি ইতিহাসেরও স্বীকৃতি।

যাঁরা বলেছেন—

তিনি ছিলেন আদর্শ শিক্ষক,
প্রগতিশীল রাজনীতির নিবেদিত কর্মী,
মুক্তচিন্তার ধারক—

তাঁদের এই মূল্যায়ন
কেবল আনুষ্ঠানিক ভাষা নয়।

এটি এক জীবনের সারসংক্ষেপ।

একজন শিক্ষক,
একজন সংগ্রামী,
একজন মানবিক মানুষ—
এই তিনটি পরিচয়
একসঙ্গে ধারণ করা সহজ নয়।

তিনি পেরেছিলেন।

আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে
আমরা ফুল দিই।

কিন্তু ফুল তো একদিন ঝরে যায়।

তার চেয়ে বড় শ্রদ্ধা—
তাঁর আদর্শকে ধারণ করা।

তাঁর প্রশ্নকে বাঁচিয়ে রাখা।

তাঁর স্বপ্নকে নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া।

যেন কোনো তরুণ
আবার রাজপথে দাঁড়িয়ে বলতে পারে—

মানুষের মুক্তিই রাজনীতির শেষ কথা।

যেন কোনো শিক্ষক
শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন—

চিন্তা করো, প্রশ্ন করো, সত্যকে ভালোবাসো।

যেন কোনো ছাত্র
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বলতে পারে—

আমি নত হব না।

আজ আকাশে সন্ধ্যা নেমেছে।

হয়তো অন্য কোনো আলোকিত পৃথিবীতে
আপনি এখনও হাঁটছেন।

হয়তো কোনো নতুন প্রজন্মকে
সেখানেও জিজ্ঞেস করছেন—

Manual6 Ad Code

“কেমন আছেন কমরেড?”

হয়তো আবারও বলছেন—

“রাজনীতির কী খবর?”

আর নিশ্চয়ই সেই চিরচেনা হাসিতে
আবারও উচ্চারণ করছেন—

“বিপ্লব কতদূর কমরেড?”

আমরা উত্তর দিতে পারিনি।

আমরা এখনও পথেই আছি।

তবু বিশ্বাস করি—

যতদিন মানুষের ভেতরে
ন্যায়ের জন্য অস্থিরতা থাকবে,
ততদিন আপনার প্রশ্নেরও মৃত্যু হবে না।

যতদিন শিক্ষকতা
মানুষ গড়ার শিল্প হয়ে থাকবে,
ততদিন আপনার নাম
উচ্চারিত হবে শ্রদ্ধায়।

যতদিন প্রগতিশীল চিন্তা
অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়বে,
ততদিন আপনার পদচিহ্ন
বাংলার মাটিতে অমলিন থাকবে।

আপনি নেই—
কিন্তু আপনার উচ্চারণ আছে।

আপনি নেই—
কিন্তু আপনার আদর্শ আছে।

আপনি নেই—
কিন্তু আপনার শেখানো সাহস আছে।

ইতিহাসে কিছু মানুষ
শুধু জীবন কাটান না,
তাঁরা সময়কে আলোকিত করে যান।

প্রফেসর আব্দুল মান্নান,
আপনি তেমনই এক মানুষ।

আপনার প্রতি
আমাদের বিনম্র প্রণাম,
অশেষ কৃতজ্ঞতা,
অক্ষয় শ্রদ্ধা।

আপনার স্মৃতি হোক
শিক্ষার প্রদীপ,
প্রগতির মশাল,
মানবতার পতাকা,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারিত এক অনন্ত শপথ।

আর যখনই আমরা
এই অসম পৃথিবীর দিকে তাকাব,
মনের ভেতর প্রতিধ্বনিত হবে
আপনার সেই অমর প্রশ্ন—

“বিপ্লব কতদূর, কমরেড?”

সেদিন আমরা উত্তর দেব—

Manual8 Ad Code

বিপ্লব মানুষের বিবেকে,
বিপ্লব মানুষের ভালোবাসায়,
বিপ্লব মুক্তচিন্তার দীপ্ত আলোয়,
আর আপনার মতো মানুষের অমর স্মৃতিতে—
চিরকাল পথ চলবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ