ভাষা সৈনিক সমেলা রহমানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২৬

ভাষা সৈনিক সমেলা রহমানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual6 Ad Code
  • ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে নীলফামারীতে নারীদের অংশগ্রহণের পথিকৃৎ ছিলেন তিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক | নীলফামারী, ২২ জুলাই ২০২৬ : ভাষা আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারী ও নীলফামারীর ভাষা সৈনিক সমেলা রহমানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে প্রত্যন্ত জেলা নীলফামারীতে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত। পর্দাপ্রথা ও সামাজিক রক্ষণশীলতার নানা বাধা অতিক্রম করে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত হওয়ায় তিনি স্থানীয় ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

১৯৫২ সালে সমেলা রহমান নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। সে সময় ভাষা আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপটে তিনি ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং মাতৃভাষার দাবিতে সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। নারীদের ঘরবন্দি রাখার সামাজিক বাস্তবতার মধ্যেও তার সাহসী অংশগ্রহণ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও চেতনা তিনি সারাজীবন লালন করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় দিবস, বিশেষ করে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও তিনি আগ্রহী ছিলেন।

Manual6 Ad Code

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালের ২২ জুলাই ৮৩ বছর বয়সে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৭ জুলাই অসুস্থতা অনুভব করলে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৩ জুলাই তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ জুলাই বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

Manual5 Ad Code

মরহুমার ছোট ছেলে সুমন রহমান বলেন, “মা দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। করোনা শনাক্ত হওয়ার পর বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

Manual7 Ad Code

মৃত্যুকালে সমেলা রহমান চার মেয়ে ও তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুর দিন বাদ আসর নীলফামারী শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাষা আন্দোলনে তার অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্বজনরা।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার অসংখ্য সাহসী মানুষের আত্মত্যাগ ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই আন্দোলনটি সর্বজনীন রূপ পেয়েছিল। সমেলা রহমান সেইসব নীরব অথচ গুরুত্বপূর্ণ ভাষাসংগ্রামীদের একজন, যাদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার করা প্রয়োজন।

Manual7 Ad Code

ভাষা আন্দোলনের চেতনা, মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর সাহসী ভূমিকার প্রতীক হিসেবে সমেলা রহমান আজও নীলফামারীর মানুষের কাছে শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয়। তার জীবন ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ভাষাপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ