কমলগঞ্জে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী আর্ট ফেস্টিভ্যাল

প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২৬

কমলগঞ্জে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী আর্ট ফেস্টিভ্যাল

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার), ১৭ মার্চ ২০২৬ : ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিনদিনব্যাপী ‘বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী আর্ট ফেস্টিভ্যাল’।

আগামী ২২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত কমলগঞ্জের মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গবেষণাভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মাত্রা’র উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের শিল্প-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তরুণদের একটি মেধাবী দল নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘মাত্রা’ দীর্ঘদিন ধরে গবেষণাভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এই উৎসবের মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন সৃজনশীল চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করতে চায়, অন্যদিকে তেমনি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে।

Manual5 Ad Code

তিনদিনব্যাপী এই উৎসবে থাকছে শিল্প প্রদর্শনী, সাহিত্য আলোচনা, নাট্যকর্মশালা, সংগীত পরিবেশনা, নৃত্য প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন। বিশেষ করে তরুণ শিল্পী, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত আলোচনা পর্বগুলোতে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সংস্কৃতির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশদ আলাপ হবে বলে জানা গেছে।

Manual3 Ad Code

উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিল্প প্রদর্শনী। এতে আলোকচিত্র, চিত্রকর্ম এবং ডিজিটাল আর্টের মাধ্যমে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, লোকজ ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হবে।

আয়োজকদের মতে, এই প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে, যা একই সঙ্গে নান্দনিক ও গবেষণাধর্মী উপস্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এছাড়া নাট্যকর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা নাট্যচর্চার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবেন। সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনায় তুলে ধরা হবে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সুর ও নৃত্যরীতির বৈচিত্র্য। ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনগুলোতে দর্শনার্থীরা সরাসরি শিল্পী ও গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন।

Manual5 Ad Code

স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন কমলগঞ্জসহ বৃহত্তর অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজক সংগঠন ‘মাত্রা’ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই উৎসবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সংস্কৃতির প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ ও সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ