অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন এক প্রবাসীর

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২৬

অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন এক প্রবাসীর

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৮ মার্চ ২০২৬ : একুশে টেলিভিশনের মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও মিথ্যা মামলায় হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকালে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শহরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা ও কাতার প্রবাসী সুব্রত চক্রবর্তী এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুব্রত চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, একুশে টেলিভিশনের মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী তার ভাই সুকান্ত চক্রবর্তীকে ফ্রান্স পাঠানোর নামে প্রায় ৩ লাখ টাকা নেন। এ ছাড়া শিক্ষা ও অন্যান্য সনদ তৈরির কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আরও লক্ষাধিক টাকা গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, “জাল কাগজপত্রের কারণে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্স দূতাবাস ভিসা আবেদন বাতিল করে। শর্ত অনুযায়ী টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।”

Manual2 Ad Code

সুব্রত চক্রবর্তী দাবি করেন, বিষয়টি স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং টাকা ফেরতের দাবিতে চাপ দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা কৌশলে এড়িয়ে যান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১০-১১ বছরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কথা বলে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ইফতার আয়োজন, ঈদ পূর্ণমিলনী ও বনভোজনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

Manual8 Ad Code

তার ভাষ্য অনুযায়ী, “এসব কর্মসূচির নামে আমার কাছ থেকে এবং আমার বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে, যার সিংহভাগই আত্মসাৎ করা হয়েছে।”

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশ থেকে আনা স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ফোন ও ডিএসএলআর ক্যামেরার মূল্যও পরিশোধ করা হয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Manual4 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে সুব্রত চক্রবর্তী আরও বলেন, দেশে ফিরে পাওনা টাকা চাইলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি গত বছর তার বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে, যার ভিডিও সিসিটিভিতে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মীয়দের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে তাকে চাপে রাখতে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সংগঠনের নামে তাকে ও অন্যদের সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন করে তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ভারতের কৈলাশহরে একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও তার ভাইয়ের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।

নিজেকে একজন ‘রেমিট্যান্সযোদ্ধা’ উল্লেখ করে সুব্রত চক্রবর্তী তার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তার মা আরতি চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

Manual3 Ad Code

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিকুল চক্রবর্তী সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি একটি সাজানো নাটক।” তিনি জানান, অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন জরুরি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ