শুভ জন্মদিন শিপুদি! আরো আলোকোজ্জ্বল হোক আগামী!

প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২৬

শুভ জন্মদিন শিপুদি! আরো আলোকোজ্জ্বল হোক আগামী!

Manual6 Ad Code

দেলোয়ার হোসেন ডালিম |

কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় খুব সাধারণ কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় হয়ে ওঠে অসাধারণ। জীবনের পথে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়, সম্পর্ক তৈরি হয়; কিন্তু তাঁদের মধ্যে অল্প কয়েকজনই থেকে যান স্মৃতির গভীরে, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক বিশেষ আসন জুড়ে। শিপু সাহা তেমনই একজন মানুষ।

২০০৮ সালের নভেম্বর মাস। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কর্মসূচি তখন দিনাজপুরে স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রতি বুধবারের মতো যাত্রা হতো ঠাকুরগাঁওয়ে। দিনের কাজ শেষে ফেরার পথে রাত নেমে আসত। নভেম্বরের উত্তরাঞ্চলের রাত—সাড়ে আটটা বাজলেই চারদিক নিস্তব্ধ অন্ধকারে ঢেকে যেত। সেই সময় বীরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির সামনে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করতাম। অনেক দিনই কেউ আসত না। কিন্তু একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিয়ম ভাঙতেন না। অন্ধকারকে উপেক্ষা করে, নীরব রাস্তায় গুটি গুটি পায়ে হেঁটে ঠিকই এসে পৌঁছাতেন বই নিতে। প্রতি বুধবারই।

সেই মানুষটির নাম—শিপু সাহা।

Manual5 Ad Code

প্রথমে তিনি ছিলেন একজন পাঠক। পরে পরিচিত মুখ। এরপর ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন এমন একজন, যাঁর কথা মনে পড়লে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা, জ্ঞানের প্রতি তৃষ্ণা আর পাঠাভ্যাসের প্রতি গভীর নিষ্ঠার কথা একসঙ্গে মনে পড়ে। বইয়ের জন্য মানুষের এমন আগ্রহ আজকাল খুব বেশি দেখা যায় না। বিশেষ করে যখন বই সংগ্রহ করতে রাতের অন্ধকার, দূরত্ব কিংবা অসুবিধা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তখন বোঝা যায় পাঠের প্রতি তাঁর টান কতটা গভীর।

ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে কাজ করার সময় অসংখ্য পাঠকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। কেউ বই নিতেন শখে, কেউ সময় কাটানোর জন্য, কেউ আবার নির্দিষ্ট কোনো প্রয়োজনে। কিন্তু খুব অল্প কয়েকজন ছিলেন, যাঁদের সত্যিকারের ‘পাঠক’ বলা যায়। যাঁদের কাছে বই শুধু বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং জীবনকে জানার, ভাবনার জগৎকে প্রসারিত করার এবং নিজেকে সমৃদ্ধ করার এক অনন্য মাধ্যম। শিপুদি সেই বিরল পাঠকগোষ্ঠীর একজন। বরং বলা যায়, তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

Manual4 Ad Code

২০০৮ থেকে ২০১৩-১৪ সাল পর্যন্ত মাঝেমধ্যেই দেখা হয়েছে। বই, পড়াশোনা, জীবন এবং নানা বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে। সময়ের নিয়মে পরে দেখা-সাক্ষাৎ কমে গেছে। একসময় টানা আট বছর আর সামনাসামনি দেখা হয়নি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, দূরত্ব কখনো সম্পর্কের উষ্ণতাকে কমিয়ে দিতে পারেনি। যোগাযোগ থেকেছে, আন্তরিকতা থেকেছে, স্মৃতির বন্ধন থেকেছে অটুট। কারণ কিছু সম্পর্ক শুধু দেখা-সাক্ষাতের ওপর নির্ভর করে না; তারা গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং মূল্যবোধের ভিত্তিতে।

শিপুদি শুধু একজন নিবেদিত পাঠক নন, তিনি বইপ্রেমী মানুষের সেই সুন্দর প্রতিনিধিত্ব করেন, যাঁরা নীরবে সমাজকে আলোকিত করেন। তাঁরা হয়তো প্রচারের আলোয় থাকেন না, কিন্তু তাঁদের পাঠচর্চা, জ্ঞানপিপাসা এবং সংস্কৃতিমনস্কতা চারপাশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। একটি সমাজের প্রকৃত শক্তি তৈরি হয় এমন মানুষের হাত ধরেই।

আজ শিপুদির জন্মদিনে ফিরে তাকালে সেই অন্ধকার নভেম্বরের রাতগুলোর কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে, প্রতি বুধবার বই নিতে আসা এক নিবেদিত পাঠকের মুখ। মনে পড়ে বইয়ের প্রতি ভালোবাসার সেই অনন্য উদাহরণ। সময় বদলেছে, পরিস্থিতি বদলেছে, কিন্তু সেই স্মৃতি আজও সমান উজ্জ্বল।

জন্মদিনে শিপুদির জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। জীবনের প্রতিটি দিন হোক নতুন আলোর, নতুন সম্ভাবনার। বইয়ের সঙ্গে তাঁর বন্ধন আরও গভীর হোক, জ্ঞানের প্রতি তাঁর অনুরাগ আরও সমৃদ্ধ হোক। সুস্থতা, আনন্দ ও সাফল্যে ভরে উঠুক তাঁর আগামী দিনের পথচলা।

Manual6 Ad Code

শুভ জন্মদিন, শিপুদি।
আপনার জীবন হোক আরও আলোকোজ্জ্বল, আরও অর্থবহ, আরও সুন্দর। ????????✨

Manual4 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ