গ্রীন রেসপন্সের আওতায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২৬

গ্রীন রেসপন্সের আওতায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৯ জুলাই ২০২৬ : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (Bangladesh Red Crescent Society-BDRCS)ও কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি তাদের Green Response কার্যক্রমের আওতায় পাঁচ বছরব্যাপী বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে।

Manual1 Ad Code

দেশব্যাপী ৬৪ জেলায় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িতব্য এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘বিডিআরসিএস ট্রি প্ল্যান্টেশন ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্থার চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম। উদ্বোধনের অংশ হিসেবে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা ঘোষণা করেন।

Manual8 Ad Code

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম বলেন, “পরিবেশ রক্ষা শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপি পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এই মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আসুন, আমরা সবাই একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ সংরক্ষণে এগিয়ে আসি।”

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং তাপপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। তাই রেড ক্রিসেন্টের মানবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস-চেয়ারম্যান, ট্রেজারার, ম্যানেজিং বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, সেক্রেটারি জেনারেল, পরিচালকবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধান, রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (IFRC) এবং বিভিন্ন পার্টনার ন্যাশনাল সোসাইটিস (PNSs)-এর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

Manual7 Ad Code

সংস্থা সূত্রে জানা যায়, Green Response কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ৬৮টি ইউনিটের মাধ্যমে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শুধু গাছ লাগানোই নয়, রোপণকৃত গাছের পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

Manual3 Ad Code

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথ, স্বেচ্ছাসেবক, আজীবন সদস্য এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে, যা পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বনাঞ্চলের পরিমাণ বৃদ্ধি, কার্বন শোষণ ক্ষমতা উন্নয়ন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নগর ও গ্রামীণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বৃক্ষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে, মাটির ক্ষয়রোধে এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জরুরি মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন, জলবায়ু অভিযোজন এবং কমিউনিটি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় Green Response উদ্যোগকে সংস্থাটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এই উদ্যোগ যুক্ত হওয়ায় দেশব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলন আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ