তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু: আরিফুজ্জামান মোল্লা

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৬

তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু: আরিফুজ্জামান মোল্লা

Manual5 Ad Code
  • শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিককে মারধরের পর বিএনপি নেতার হুংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | শরীয়তপুর, ২৬ আগস্ট ২০২৬ : শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে গিয়ে আরেক সাংবাদিকও তাঁর কাছ থেকে হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। মুঠোফোনে দেওয়া ওই হুমকিতে বিএনপি নেতা বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডাইমু।’

মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন। হামলার শিকার তিনজন হলেন—দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান, নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হওয়ার সময় তাঁরা সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যান। এ সময় আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে তাঁদের মারধর করা হয়। ঘটনার পর হামলার কারণ জানতে গিয়ে জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সোনালী নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি পলাশ খানও হুমকির মুখে পড়েন।

ফোনে সাংবাদিককে হুমকি

মঙ্গলবার বিকেলে পলাশ খান হামলার বিষয়ে জানতে আরিফুজ্জামান মোল্লাকে ফোন করেন। ফোনালাপে বিএনপি নেতা আরও সাংবাদিককে মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন পলাশ।

Manual2 Ad Code

পলাশ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনে আরিফুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘আরও তো মারুম, শুধু এহন না, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারে। অনেকেই লিস্টে আছে। ইনশা আল্লাহ, আল্লাহর রহমতে সন্ধ্যার মধ্যে আরও খবর পাইয়া যাইবা। তুমি নিজেও তৈরি থাক। তুমি আছ কোথায় এখন? বসো, আসতেছি।’

এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডাইমু।’

ফোনালাপের একপর্যায়ে তিনি পলাশ খানকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কেও জানতে চান এবং তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন।

এ বিষয়ে পলাশ খান বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের তিন সহকর্মীকে হামলা ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা আরিফ মোল্লার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করি। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাকেসহ সহকর্মীদেরও মারধর করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। প্রেসক্লাব ও প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে অনেক আজেবাজে মন্তব্য করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছি। লিখিতভাবে আইনি পদক্ষেপ নেব।’

যে ঘটনায় উত্তেজনা

স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার রাতে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের তিনটি দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

Manual3 Ad Code

এর জেরে বি এম ইসরাফিলের ওপর হামলা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের একটি অংশের অভিযোগ। পরে হামলার প্রতিবাদ এবং প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। কর্মসূচি থেকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।

Manual5 Ad Code

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয় বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

কর্মসূচির মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে মঙ্গলবারের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পর্যায়ের বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছিলেন। ওই সময় সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে যান জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লা। সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা করা হয় এবং মারধর করা হয়।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া ও সদর সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের তথ্যটি আমরা জেনেছি। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

পুলিশের এই বক্তব্যের পর সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা হামলা ও হুমকির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিএনপি নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি

Manual6 Ad Code

অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত কয়েক দফা তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার পেছনে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।