ফুলবাড়ি দিবস স্মরণে ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৬

ফুলবাড়ি দিবস স্মরণে ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা

Manual5 Ad Code
  • সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠন রুখে দাঁড়াও, জাতীয় সম্পদ রক্ষা করো

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০২৬ :সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠন প্রতিহত করে দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং ফুলবাড়ি আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে রাজধানীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) ‘ফুলবাড়ি দিবস’ উপলক্ষে দলের উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, লাল সালাম এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত শহীদ রাসেল আহমেদ খান ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে ফুলবাড়ি আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা শহীদদের স্মরণে লাল সালাম জানান এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনকে আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একই স্থানে ফুলবাড়ি দিবসের তাৎপর্য, ফুলবাড়ি আন্দোলনের পটভূমি এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুলের একটি লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করা হয়। তাঁর লিখিত বক্তব্যে ফুলবাড়ি আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, আন্দোলনের অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু এবং জাতীয় সম্পদ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

বক্তব্যে বলা হয়, ফুলবাড়ি আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ, পরিবেশ, কৃষিজমি ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলনের প্রতীক। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ কীভাবে ব্যবহৃত হবে এবং সেই সম্পদের সুফল কারা ভোগ করবে—ফুলবাড়ির আন্দোলন সেই মৌলিক প্রশ্নগুলোকে সামনে নিয়ে আসে।

Manual6 Ad Code

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে আমিন, সালেকিন ও তরিকুল নামে তিন আন্দোলনকারী নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। সেই ঘটনার স্মরণে প্রতিবছর ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

Manual1 Ad Code

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ফুলবাড়ির ঘটনায় মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব এবং জাতীয় সম্পদের ওপর বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি সামনে এসেছিল। তাঁদের মতে, দেশের কয়লা, গ্যাস, তেলসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ, পরিবেশের ভারসাম্য এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

Manual3 Ad Code

তাঁরা আরও বলেন, জাতীয় সম্পদ কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ নয়; এর সঙ্গে দেশের পরিবেশ, কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য এবং কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ জড়িত। ফলে কোনো প্রকল্প গ্রহণ বা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

আলোচনায় ফুলবাড়ি আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তারা বলেন, তাঁদের রক্তে যে দাবি ও প্রত্যয়ের প্রতিফলন ঘটেছে, তা জাতীয় সম্পদ রক্ষার বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ। জাতীয় সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য গণসচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন।

Manual1 Ad Code

সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা দেশের খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ফুলবাড়ি দিবস শুধু অতীতের একটি বেদনাদায়ক ঘটনার স্মরণ নয়; এটি জাতীয় সম্পদ রক্ষা, পরিবেশের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেরও স্মারক। তাই ফুলবাড়ির শহীদদের স্মৃতি ধারণ করে জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

‘সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠন রুখে দাঁড়াও, জাতীয় সম্পদ রক্ষা করো’—এই আহ্বানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।