ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই কবরের ওপর খবরদারি—ক্ষমতায় গেলে কী করবে জামায়াত?

প্রকাশিত: ২:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই কবরের ওপর খবরদারি—ক্ষমতায় গেলে কী করবে জামায়াত?

Manual1 Ad Code

সুমি ইসলাম |

একজন মৃত মানুষকে নিজের ভিটায় দাফন করতে পুলিশ লাগবে কেন? শোকাহত পরিবারকে মরদেহ নিয়ে দিনভর অপেক্ষা করতে হবে কেন? বাংলাদেশের মাটিতে কার কবর হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো রাজনৈতিক দলকে কে দিয়েছে?

Manual2 Ad Code

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ শুধু অমানবিক নয়, এটি আইনের শাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। স্বজনদের দাবি, খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছিল; পরে পরিবারের নারীরাই আবার কবর খুঁড়ে মধ্যরাতে তাঁকে দাফন করেন। সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা বা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে কারও আপত্তি থাকলে আদালত আছে; মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে যাচাইয়ের আইনগত প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু কবর আটকে নিজেরাই বিচারক সাজার এই ঔদ্ধত্য কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।

Manual5 Ad Code

মুখে ইনসাফ ও ধর্মের কথা বলে শোকাহত পরিবারের দাফনের অধিকার কেড়ে নেওয়া কেমন ন্যায়? মানুষের কবর আটকে ধর্মের মর্যাদা বাড়ে না; বরং উন্মোচিত হয় ক্ষমতার দম্ভ, প্রতিহিংসা এবং আইনের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি কোনো দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠে, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র হাতে পেলে ভিন্নমতের মানুষের সঙ্গে তারা কী আচরণ করবে—এই ভয়াবহ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মাটি কোনো রাজনৈতিক দলের তালুক নয়; নিজের ভিটায় কবর পেতে কাউকে কোনো দলের অনুমতি নিতে হবে না।

একজন মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদাপূর্ণ দাফন নিশ্চিত করতে পরিবারকে এমন অসহায় অবস্থায় পড়তে হওয়া প্রশাসনেরও চরম ব্যর্থতা। দাফনে বাধা, কবর ভরাট এবং পরিবারকে হয়রানির অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রকাশ্য তদন্ত করতে হবে; জড়িতদের দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনতে হবে। পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব; দলীয় পরিচয় অপরাধ আড়াল করার ঢাল হতে পারে না। শোকাহত নারীদের কোদাল হাতে কবর খোঁড়ার এই ছবি বাংলাদেশের লজ্জা—এই লজ্জার দায় বাধাদানকারী, তাদের প্রশ্রয়দাতা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ প্রশাসন—সবার।

এই দিনটিরও সাক্ষী হয়ে থাকলাম। বেঁচে থেকে যেন এর পরিণতিটাও দেখে যেতে পারি—দেখতে চাই, এই ঔদ্ধত্যের বিচার হয়, নাকি প্রশ্রয় পেয়ে এদের স্পর্ধা আরও বাড়ে। শোকাহত পরিবারকে এই অপমানের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার দায়ে কার জবাবদিহি হয়, তা দেখতে চাই। প্রতিবাদের শব্দ থামলেই বিচারের দাবিও চাপা পড়ে যাবে—এটা হতে দেওয়া যায় না।
#
সুমি ইসলাম।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ