মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখন জরুরি: বকুল

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখন জরুরি: বকুল

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ : মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সামাজিক ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সব প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল।

তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদবিরোধী আন্দোলন জোরদার করা জরুরি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) শহীদ রাসেল আহমেদ খানের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual3 Ad Code

নুর আহমদ বকুল বলেন, শহীদ রাসেল আহমেদ খান ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষাসহ সাম্রাজ্যবাদ-মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিক। ২০ বছর পূর্বে ২০০৬ সনে এই দিনে দক্ষিণপন্থী শক্তি জামাত-শিবিরসহ চরম মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে জনতার প্রতিরোধ সংগ্রামে একজন প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে মৌলবাদী শক্তি “মরলে শহীদ বাচলে গাজী” শ্লোগান তুলে মুহুর্মুহু বৃষ্টির মত গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল। রাসেল আহমেদ খান সেদিন গুলিবৃদ্ধ হন ও মৃত্যুবরণ করেন। দেশের গণতন্ত্র, শান্তি, স্থিতিশীলতা সর্বোপরি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় যুব মৈত্রীর নেতা রাসেল আহমেদ খান এর জীবন দান আমাদের পুনরায় ফিরে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ ও চরম দক্ষিণপন্থী মৌলবাদ শক্তি রাষ্ট্রকে দখলে নিয়ে সকল প্রকার প্রগতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এবং বাঙালি জাতি স্বত্তার সাংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বাম গণতান্ত্রিক শক্তি সবচেয়ে সংকটময় মুহুর্ত পার করছে। ট্যাগিং রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে প্রতিশোধের নতুন ফ্যাসিবাদী প্রবণতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ভাঙচুর, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ভাঙা, বাউল, মুর্শিদি ও ভান্ডারী গানের ওপর বাধা এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে নুর আহমদ বকুল বলেন, এসব ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে মানুষের ভাত-কাপড়, কর্মসংস্থান ও জীবিকার দাবিতে আয়োজিত মিছিল-সমাবেশ দমনের প্রবণতা সুশাসনের পরিবর্তে দুঃশাসনের বিস্তার ঘটাচ্ছে।

Manual7 Ad Code

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সামাজিক ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সব প্রগতিবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ সময় তিনি জননেতা রাশেদ খান মেননের মুক্তির দাবিও জানান। তাঁর ভাষায়, শহীদ রাসেল আহমেদ খানের আত্মত্যাগের তাৎপর্য অনুধাবন করে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলাই রাসেল দিবসের শিক্ষা।

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সভাপতি তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস।

সভাপতির বক্তব্যে তৌহিদুর রহমান বলেন, রাসেল আহমেদ খানের মৃত্যুর ২০ বছর পরও সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তি বাংলাদেশকে অতি দক্ষিণপন্থী পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ লাখ ছাত্র-যুবক শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও তাঁদের এক-চতুর্থাংশও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে যুব মৈত্রী যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতার দাবি জানাচ্ছে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাবেক সভাপতি সাদাকাত হোসেন খান বাবুল, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিশোর রায়, সাবেক সভাপতি মোস্তফা আলমগীর রতন ও সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির, যুব ঐক্যের আহ্বায়ক মিনহাজ সেলিম, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সহসভাপতি আব্দুল আহাদ মিনার, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইয়াতুন নেছা রুমা এবং সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহাবুদ রানা তরুণ।

এর আগে শহীদ রাসেল আহমেদ খানের স্মৃতি ভবনে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ এবং জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।

Manual8 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ