সিলেট ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছাত্র আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল রাজনীতিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ : বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিপ্লবী রাজনীতিক, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক, ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের অন্যতম রচয়িতা এবং বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড হায়দার আনোয়ার খান জুনোর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, বামপন্থী রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর অবদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা, গণমানুষের অধিকার এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন কমরেড জুনো। ছাত্রজীবনে শিক্ষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের যে সূচনা, পরবর্তী সময়ে তা বিস্তৃত হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-পরবর্তী বামপন্থী রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। রাজনীতির পাশাপাশি লেখালেখির মধ্য দিয়েও তিনি দেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভোগার পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন হায়দার আনোয়ার খান জুনো। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে সেখানেই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
তিনি এক কন্যা, এক পুত্র ও তিন নাতি রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বামপন্থী রাজনৈতিক অঙ্গন, মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
জন্ম, পরিবার ও শিক্ষাজীবন
কমরেড হায়দার আনোয়ার খান জুনো ১৯৪৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নড়াইল জেলায়। তিনি প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড হায়দার আকবর খান রনোর ছোট ভাই। তাঁদের বাবা মরহুম হাতেম আলী খান গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে মেধা ও মননের পরিচয় দেন জুনো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করলেও ছাত্রজীবন থেকেই সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও মানুষের অধিকারসংক্রান্ত প্রশ্ন তাঁকে আকৃষ্ট করে। একপর্যায়ে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং চীনপন্থী রাজনৈতিক ধারার একজন কর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের বিকাশ ঘটে এমন এক সময়ে, যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শাসন, রাজনৈতিক অধিকারহীনতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং বাঙালির জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আন্দোলন ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছিল। এই বাস্তবতা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও সংগ্রামী জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
শিক্ষা আন্দোলন থেকে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন হায়দার আনোয়ার খান জুনো। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষা সংকোচনমূলক নীতি ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি কারাবরণ করেন। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও নির্বাচিত হন।
ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল। স্বায়ত্তশাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে ছাত্রসমাজ, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে ছাত্ররাজনীতির সংগঠক হিসেবে জুনোর ভূমিকা বিকশিত হয়।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তানি সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ছাত্রসমাজের ১১ দফা দাবি এ আন্দোলনকে সংগঠিত ও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হায়দার আনোয়ার খান জুনো ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের অন্যতম রচয়িতা এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এই গণঅভ্যুত্থান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে। ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলন সামরিক শাসনের ভিত দুর্বল করে এবং বাঙালির জাতীয় মুক্তির সংগ্রামকে আরও গতিশীল করে তোলে। সেই আন্দোলনের ধারায় সক্রিয় থাকা জুনোর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা ও আদর্শিক অবস্থানের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন হায়দার আনোয়ার খান জুনো। ১৯৭০ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্রসংগঠনগুলো কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করত না; জাতীয় মুক্তি, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সমাজ পরিবর্তনের প্রশ্নও তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে জুনো এই ধারার ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন।
তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল ছাত্র আন্দোলন ও বৃহত্তর গণসংগ্রামের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা। ছাত্রসমাজের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা তাঁকে সমসাময়িক বামপন্থী রাজনীতির পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডার
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন হায়দার আনোয়ার খান জুনো। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি গেরিলা বাহিনীর একজন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নরসিংদীর শিবপুর অঞ্চলে প্রতিরোধযুদ্ধ সংগঠিত করা এবং বোমা তৈরির কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্রনেতা ও সাধারণ মানুষ সংগঠিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শিবপুরসহ বৃহত্তর নরসিংদী অঞ্চলেও মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ ও গেরিলা তৎপরতা পরিচালনা করেন। এই সংগ্রামে জুনোর অংশগ্রহণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়।
স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সশস্ত্র প্রতিরোধেও তিনি অংশ নেন। ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক থেকে মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা কমান্ডার হয়ে ওঠার এই যাত্রা তাঁর জীবনের সংগ্রামী অধ্যায়কে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতি ও ওয়ার্কার্স পার্টি
স্বাধীনতার পরও রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রাম থেকে সরে দাঁড়াননি কমরেড জুনো। তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন এবং পরবর্তী সময়ে বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
স্বাধীনতা অর্জনের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক ও আন্দোলন চলছিল। এই সময়ে বামপন্থী রাজনৈতিক ধারার একজন কর্মী হিসেবে জুনো তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন।
তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থান, গণমানুষের অধিকার এবং সমাজে বৈষম্য হ্রাসের আকাঙ্ক্ষা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে সংগঠন, আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতির একটি বিশেষ ধারার প্রতিনিধিত্ব করে।
সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ভূমিকা
রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হায়দার আনোয়ার খান জুনো। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সৃজন’-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা ভিশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক তাঁর কাজের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। সাংস্কৃতিক চর্চা সমাজের চিন্তা, মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সচেতনতা বিকাশে ভূমিকা রাখে—এমন ধারণা বামপন্থী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। জুনোও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিসরে যুক্ত থেকে এই ধারার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন।
তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের এই দিকটি দেখায় যে, তাঁর সক্রিয়তা কেবল দলীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সংস্কৃতি ও জনজীবনের নানা ক্ষেত্রেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন।
লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনা
রাজনৈতিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখালেখি করেছেন কমরেড হায়দার আনোয়ার খান জুনো। মুক্তিযুদ্ধ, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন বিষয় তাঁর লেখার অন্যতম ক্ষেত্র। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘শিবপুরের রণাঙ্গন’ ও ‘ঊনসত্তরের দিনগুলি’। এ ছাড়া তিনি একটি উপন্যাসও রচনা করেছেন।
রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষত গণআন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিচারণ, বিশ্লেষণ ও বিবরণ ইতিহাসচর্চায় ভূমিকা রাখতে পারে। জুনোর লেখালেখিও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাঁর রচনার মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পাঠকের জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাঁর পরিচয়ের পাশাপাশি লেখক হিসেবেও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধা
কমরেড হায়দার আনোয়ার খান জুনোর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমদ বকুল এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিবৃতিতে তাঁরা কমরেড জুনোর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
ছাত্র আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততার কারণে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন স্মরণীয় রাজনৈতিক সহযোদ্ধা।
সৈয়দ আমিরুজ্জামান ও মৌলভীবাজার জেলা কমিটির শ্রদ্ধা
বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আনোয়ার খান জুনোর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
এ ছাড়া শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক তাপস কুমার ঘোষ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি দেওয়ান মাসুকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন এবং শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি শেখ জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক রোহেল আহমদ।
তাঁদের এই শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন প্রবীণ নেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক আদর্শ, সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে যাঁরা দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের জীবন ও অবদান স্মরণ করা নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরারও একটি উপায়।
সংগ্রামী জীবনের স্মরণ
কমরেড হায়দার আনোয়ার খান জুনোর জীবন ছিল ছাত্র আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, বামপন্থী রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার এক দীর্ঘ অধ্যায়। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও কারাবরণ থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্ব এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন—তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায় বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত।
স্বাধীনতার পরও তিনি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। লেখালেখির মাধ্যমে আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সাংস্কৃতিক পরিসরে তাঁর ভূমিকার দিকগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে কমরেড হায়দার আনোয়ার খান জুনোকে স্মরণ করছেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সংগঠনের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। ছাত্র আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতি পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি