প্রকাশ্য নিলামে ক্রয়কৃত সম্পত্তি সম্রাট ফিলিং স্টেশনের মালিকানা দাবি

প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

প্রকাশ্য নিলামে ক্রয়কৃত সম্পত্তি সম্রাট ফিলিং স্টেশনের মালিকানা দাবি

Manual4 Ad Code
  • শ্রীমঙ্গলে শেখ আহমদের সংবাদ সম্মেলন, শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে বাধা ও অবৈধ দখলচেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ৩১ অক্টোবর ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আলোচিত মেসার্স সম্রাট ফিলিং স্টেশনের জমি ও তৎসংলগ্ন সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে আইনানুগভাবে ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আহমদ আফজাল। তিনি উপজেলার বরুনা গ্রামের বাসিন্দা। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সম্পত্তিটি ক্রয়, বিক্রয় সনদ গ্রহণ, দলিল নিবন্ধন এবং সরকারি নিয়মে নামজারিসহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে নিলামের মাধ্যমে সম্পত্তি ক্রয় ও মালিকানা প্রতিষ্ঠার দাবি করার পরও সেটির শান্তিপূর্ণ ভোগদখল এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন শেখ আহমদ আফজাল। তাঁর দাবি, একটি মহল আদালতের আইনানুগ প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে সম্পত্তিটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ২টায় শ্রীমঙ্গল শহরের পানসী রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা জানান শেখ আহমদ আফজাল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মেসার্স সম্রাট ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পাওনা অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে মৌলভীবাজার অর্থঋণ আদালতে অর্থঋণ জারি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর ৩১/২০২১ (অর্থঋণ-০২/২১)। ওই মামলার ধারাবাহিকতায় আদালতের আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ওপর প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ আহমদ আফজালের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নিলামে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে জমি ও তৎসংলগ্ন সম্পত্তি ক্রয়ের সুযোগ পান। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৮ মে মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ অর্থঋণ আদালত তাঁর অনুকূলে নিলামে বিক্রয়ের সার্টিফিকেট প্রদান করেন। একই সঙ্গে আদালত কর্তৃক দলিল নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দলিল নং-৩৩৬৯/২৩ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

Manual5 Ad Code

নিলামে ক্রয় করা জমির বিবরণ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে শেখ আহমদ আফজাল জানান, সম্পত্তিটি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আলীশারকুল মৌজায় অবস্থিত। জমির জেএল নম্বর ৩৪, আরএস খতিয়ান নম্বর ১৪১৪ এবং দাগ নম্বর ১৭৮৬। জমির পরিমাণ ৫৮ শতক। তাঁর দাবি, আদালতের নিলামের মাধ্যমে উল্লিখিত জমি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেসার্স সম্রাট ফিলিং স্টেশনের সম্পত্তি তিনি আইনানুগভাবে ক্রয় করেছেন।

Manual7 Ad Code

তিনি আরও জানান, নিলামে সম্পত্তি ক্রয়ের পর মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ভূমি অফিসের মাধ্যমে নামজারি এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে আদালতের নিলাম, বিক্রয় সনদ, নিবন্ধিত দলিল ও সরকারি নামজারির মাধ্যমে সম্পত্তিটির মালিকানা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

Manual6 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা ও ভোগদখল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ আহমদ আফজাল বলেন, আদালতের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি ক্রয় এবং সরকারি নিয়মে নামজারি সম্পন্ন করার পরও তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পত্তির ভোগদখল বজায় রাখা নিয়ে জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, একটি মহল আদালতের সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করে সম্পত্তিটি অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা করছে। পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অবৈধ উপায়ে কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সম্পত্তিটির মালিকানা দাবি করছি না। দেশের প্রচলিত আইন এবং আদালতের প্রকাশ্য নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সম্পূর্ণ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পত্তিটি ক্রয় করেছি। পরবর্তীতে আদালতের বিক্রয় সনদ, দলিল নিবন্ধন এবং সরকারি ভূমি অফিসের নামজারির মাধ্যমে মালিকানা সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি।’

শেখ আহমদ আফজাল আরও বলেন, সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে কোনো বিরোধ বা জটিলতা থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কোনো পক্ষেরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা অন্যের বৈধ অধিকার ক্ষুণ্ন করার সুযোগ নেই। তিনি আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠা এবং সম্পত্তির শান্তিপূর্ণ ভোগদখল বজায় রাখতে চান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্পত্তিটির মালিকানা নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথিপত্র, নিলামসংক্রান্ত কাগজপত্র, নিবন্ধিত দলিল এবং ভূমি অফিসের রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো পক্ষের অপপ্রচার বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরা। তাই সম্রাট ফিলিং স্টেশনের সম্পত্তি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে সংবাদ পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

Manual7 Ad Code

শেখ আহমদ আফজাল তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বলেন, দেশের আইন ও আদালতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই তিনি নিজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। কোনো ধরনের সংঘাত বা বলপ্রয়োগ নয়, বরং আইনানুগ উপায়ে সম্পত্তির শান্তিপূর্ণ ভোগদখল নিশ্চিত করাই তাঁর প্রত্যাশা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে শেখ আহমদ আফজাল তাঁর দাবির সমর্থনে অর্থঋণ আদালতের নিলামসংক্রান্ত কার্যক্রম, বিক্রয় সনদ, দলিল নিবন্ধন ও নামজারির বিষয় তুলে ধরেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ