এক যুগেই উন্নয়ন অর্থনীতির চাকা অনন্য উচ্চতায় বদলে দিলেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২০

এক যুগেই উন্নয়ন অর্থনীতির চাকা অনন্য উচ্চতায় বদলে দিলেন শেখ হাসিনা

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক || ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ (কোভিড-১৯) মহামারিতে গত এক বছরে বিশ্ব ব্যবস্থা টালমাটাল। করোনায় প্রভাবিত উন্নয়ন, অর্থনীতি এমনকি রাজনৈতিক পরিস্থিতিও। অথচ করোনার মধ্যেও রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও দারুণ গতিতে আসছে রেমিট্যান্স। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন রেমিট্যান্স প্রবাহ সবচেয়ে বেশি। আনন্দের বার্তা আসছে রিজার্ভের ক্ষেত্রেও।

Manual1 Ad Code

এ দুটি সূচক নিঃসন্দেহে দেশের অর্থনীতির উন্নততর অবস্থান নির্দেশ করে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার গল্প বুনছে বাংলাদেশ। আর এগিয়ে যাওয়ার গল্পের কারিগর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেই মানছেন বিশ্লেষকরা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের জোট সরকারের যুগপূর্তি আসন্ন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে আওয়ামী লীগ। আগামী ৬ জানুয়ারি পূরণ হবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের টানা এক যুগ। এ যুগপূর্তি আর বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে নানাভাবেই বিশ্লেষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্ব আর কৌশলী অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ আজ নব-পরিচয়ে পরিচিতি পাচ্ছে। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে ইতিবাচক সূচক তুলে ধরছে বিশ্ব সংস্থাগুলোও।

সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে৷ আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি চার শতাংশ বেড়ে হতে পারে এক হাজার ৮৮৮ ডলার৷ সেখানে ভারতের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি ১০ দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে হতে পারে এক হাজার ৮৭৭ ডলার৷ অর্থাৎ এই প্রথম মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে ১১ ডলার এগিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রশংসায় বিশ্ব মহলও। বাংলাদেশ যে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, খোদ সেই দেশটিরই এক উন্নয়ন বিষয়ক আলোচক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উদ্দেশে বলেছেন, ‘অন্য কোনো দেশের উদাহরণ দিয়ে লাভ নেই, পাকিস্তানের উচিত প্রথমে বাংলাদেশ হওয়ার চেষ্টা করা। তা হতে কমপক্ষে ১০ বছর সময় লাগবে।’

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে বিস্ময়ের পাশাপাশি ঈর্ষাও প্রকাশ করছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো। দেশটির বাংলা দৈনিক ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন নিয়ে কখনো শিরোনাম করছে ‘শাহের উইপোকা বাংলাদেশ অর্থনীতিতে টপকাচ্ছে ভারতকে’, আবার কখনো বাংলাদেশ-চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ‘খয়রাতি’ বলে উল্লেখ করছে। যদিও এমন নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে দুঃখ প্রকাশও করেছে দৈনিকটি।

বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার সকল আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই রাখছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।

ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের এক রায়ে বাংলাদেশ নতুন প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পায়

তাদের মতে, ধারাবাহিক নেতৃত্বের ফলে আওয়ামী লীগ সরকার আজ যেমন পাকাপোক্ত অবস্থানে, তেমনি সরকার এবং দলের মধ্যে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন শেখ হাসিনা। সুদিনে সবাইকে পাশে নিয়ে আর দুর্দিনে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে বন্ধুর পথে এগিয়ে চলছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। একসময় যে বামপন্থি, ডানপন্থি নেতৃত্ব বা সংগঠন আওয়ামী লীগের বিরোধিতায় ছিল, তারা এ দলের জোটে বা বলয়ে ভিড়েছে শেখ হাসিনারই রাজনৈতিক বিচক্ষণতায়। ইস্পাতসম মনোবল আর শত চ্যালেঞ্জ পায়ে মাড়িয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিচয় করিয়ে সামনে এগোচ্ছেন তিনি।

চ্যালেঞ্জ নিয়েই যেমন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করে চলছেন, তেমনি ছিটমহল সমস্যার সমাধান, সমুদ্র সীমানার বিরোধেরও নিষ্পত্তি টেনেছেন শেখ হাসিনা।

Manual3 Ad Code

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়েও এমন সূচক এখন উদাহরণ হয়ে আসছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় চুক্তিকে অন্যতম কূটনৈতিক সাফল্য মনে করেন বিশ্লেষকরা

চলতি মাসেই স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে স্প্যান বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অহেতুক অভিযোগ তুলে এ প্রকল্প থেকে পিছু হটে যাওয়া বিশ্ব ব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব নেতারা যেমন বাংলাদেশকে বিশেষ স্বীকৃতি দিচ্ছেন, তেমনি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নেও শেখ হাসিনাকে আপসহীন নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতিকরা।

আমির হোসেন আমু, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও অধ্যাপক এম এম আকাশ

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘সুশাসন আর দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ তার লক্ষ্যে যেতে পারছে না। তবে সরকারের ধারাবাহিকতার কারণে দৃশ্যমান উন্নয়ন তো লক্ষ্য করার মতো। গণতন্ত্র, ভোট ব্যবস্থা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন আছে, কিন্তু সামাজিক নিরাপত্তায় মানুষের মাঝে উন্নয়নের সুবিধা মিলছে, তা তো অস্বীকার করা যাবে না। আর উন্নয়নকে টেকসই রূপ দিতে হলে গণতন্ত্র এবং সুশাসনকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠা দিতে হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের যে নয়া রূপ, তা শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতার কারণেই সম্ভব হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার অসীম সাহসিকতায় বাংলাদেশকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশ যেভাবে উল্টো পথে হাঁটছিল, তার সম্পূর্ণ বিপরীতে তিনি দেশকে টেনে নিচ্ছেন। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এই সরকারের এক যুগ পূর্তিতে তা আরও স্পষ্ট হবে।’

বিশ্বকে তাক লাগিয়ে নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে বাংলাদেশ

অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড. খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদও মনে করেন, বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া এক প্রকার বিস্ময়। তিনি বলেন, ‘সুশাসন এবং জবাবদিহি থাকলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারতাম। প্রধানমন্ত্রী যে পরিমাণ নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছেন, তা ঠিক অন্যদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় না। আর এটিই বাংলাদেশের জন্য দুঃখবোধের জায়গা।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা আপাতত ভালো। করোনাকালে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য অবশ্যই সাধারণ মানুষের কৃতিত্ব রয়েছে। কৃষক, প্রবাসী শ্রমিক, গার্মেন্ট শ্রমিকরা এই সময়ে আমাদের জন্য অধিক আশীর্বাদ হয়ে আসছে বলে মনে করি। গত এক যুগে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়েছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে অবশ্যই সুশাসনের দিকে নজর দিতে হবে।’

Manual8 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ