কাজী নজরুল ইসলাম ও কিছু ভাবনা (১)

প্রকাশিত: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০

কাজী নজরুল ইসলাম ও কিছু ভাবনা (১)

Manual7 Ad Code

হাফিজ সরকার, ২৭ মে ২০২০: একটি নোবেল দিয়ে কাজী নজরুল ইসলামকে, তাঁর কাব্যপ্রতিভাকে, তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে বিচার করা যাবে না বরং নোবেলের চেয়ে তাঁর জন্য যথাযথ স্বীকৃতি হতে পারতো গণমানুষের ভালোবাসা। যেটি আজ লেখার মধ্যে সমীকৃত হয়েছিলো বক্তব্যের দাহ আর সৌন্দর্যের তৃষ্ণা। পরস্পরলিপ্ত এই দুই চাপের একটি সহনশীল ঝিনুকের ভিতরে জন্ম নিয়েছিলো তাঁর কবিতার মুক্তো। যে মুক্তো দেখে আমরা মুগ্ধ হই প্রতিনিয়ত।

বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের আচমকা আবির্ভাব ছিল কালবৈশাখী ঝড়ের মতো। তিনি বাংলাভাষা ও সাহিত্যকে নানা দিক দিয়ে করেছেন সমৃদ্ধ এবং মজবুত। কলম যে বন্দুকের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে তা তিনি প্রমাণ করেছেন তার ক্ষুরধার আগুনঝরা লেখনীর দ্বারা। কিন্তু বিদ্রোহী কবি হিসেবে।

Manual3 Ad Code

নজরুলও নোবেল পেতে পারতেন তার নিজস্ব সাহিত্য দিয়ে। কেননা, কাজী নজরুল ইসলাম চির জাগরণের কবি, শিকল ভাঙার কবি, প্রকৃতির কবি। তাঁর আগুনঝরা লেখনীই ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং একাত্তরের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রেরণার উৎস। শুধু যুদ্ধই নয়, জীবনের প্রতিটি যুদ্ধে তাঁর কবিতা, তাঁর গান দেশ-জাতি-সমাজ ও ব্যক্তিকে সামনে চলার পথকে শক্তি যোগায়-সাহস যোগায়। তাঁর বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা, অগ্নিবীনা, যুগবাণী, চন্দ্রবিন্দু, সর্বাহরা, ফনীমনসা, রুদ্রমঙ্গল গ্রন্থগুলো ব্রিটিশ শাসকদের ক্ষমতার ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তাঁর এই কাব্যগুলো যদি রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির মতো কেউ ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে নোবেল কমিটিতে জমা দিতো, সে কাব্যগুলো যদি পৌঁছে যেত পৃথিবীর আরও অনেক মানুষের কাছে তাহলে হয়তো নজরুলও নোবেল পেতে পারতেন। কিন্তু নজরুলের ভাষা, অহম, অলঙ্কার ইংরেজিতে অনুবাদ করতে কী পরিমাণ দুঃসাহস লাগতো ও কষ্টসাধ্য হতো তা সহজেই বোধগম্য। পৃথিবীজুড়ে শোষণের প্রতিবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারতো নজরুলের কবিতা। কিন্তু আজও কটি কবিতা আমরা অনুবাদ করতে পেরেছি নজরুলের।

Manual1 Ad Code

সম্পাদনাঃ
হাফিজ সরকার

Manual4 Ad Code

তথ্যসূত্রঃ
রকমারি ও
টিম প্রতিলিপি

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ