আমার বাবা রাসেন্দ্র দত্ত ন্যাপ (মোজাফ্ফর) করতেন কিন্তু সংসার জীবনে ছিলেন খুবই উদাসীন

প্রকাশিত: ৩:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

আমার বাবা রাসেন্দ্র দত্ত ন্যাপ (মোজাফ্ফর) করতেন কিন্তু সংসার জীবনে ছিলেন খুবই উদাসীন

Manual6 Ad Code

রূপক দত্ত, শ্রীমঙ্গল, ১৮ জুন ২০২০ : অামার বাবা ‘৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড রাসেন্দ্র দত্ত বৃহত্তর সিলেট বিভাগের বাম প্রগতিশীল রাজনীতির কিংবদন্তি ও সকলের পরিচিত নেতৃত্ব। বাবা দিবসে আমার কিছু কথা লিখেছিলাম।

Manual7 Ad Code

উনি সংসার জীবনে উদাসীন ছিলেন। তবুও আমি আমার বাবাকে ভালবাসি। পুরো সংসারটা মা সামলাতেন।
বাবা বাম রাজনীতি করতেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ (মোজাফ্ফর)। সারাজীবন ঐ রাজনীতি করেই কাটিয়ে দিলেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধেও উনার অবদান বিশাল। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যদিও গেজেটভুক্ত নন, ভাতাও পাচ্ছেননা। অর্থাৎ স্বীকৃত নন।
দীর্ঘদিন দৈনিক সংবাদ-এর শ্রীমঙ্গলের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করেছেন। বর্তমানে ছেড়ে দিয়েছেন। এখন বাবাকে সবসময় আমাদের মাঝে পাচ্ছি এটাই সব থেকে বড় পাওয়া। অথচ আমি ছোট বেলায় দেখেছি আমাদের বাসায় শ্রদ্ধেয় মুজিব স্যার, সালাম স্যার, সাংবাদিক গফ্ফার সাহেব, নীহারেন্দু হোম চৌধুরী (সজল), প্রয়াত মোঃ শাহ্জাহান মিয়া, সাইদুর রহমান পচা মিয়া, জয়নগর আবাসিক এলাকার দিলীপ কাকু, এডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ, স্বর্গীয় বাবু সুরন্জিত সেন গুপ্ত, বেগম মতিয়া চৌধুরী, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ (ন্যাপ সভাপতি) এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আমাদের জাতির পিতাকে যখন নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, পরবর্তীতে জানতে পারি তখন আমার বয়স মাত্র তিন মাস। শ্রীমঙ্গলে শুরু হয় ধড়পাকড়। সব রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবিদের রাতের আধারে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ বাহিনী। বাবা, গোলজার আহমদ, গজনফর আলী চৌধুরী (মৌলভীবাজার), শ্রীমঙ্গলে আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা এম এ রহীম (কাকু) ছাড়াও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার হন। বিনা বিচারে দুই বছর জেলে কাটাতে হয় বাবাকে। সে সুযোগে আমাদের প্রতিবেশী সুযোগ সন্ধানী কিছু মহল আমাদের বাসা দখলে লিপ্ত হয়। মাকে একা পেয়ে বাসার রাস্তা দখল করে নেয়। এদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। একজন আমাদের বাসার রাস্তার কিছু অংশ ও বাসার এক সাইড দখল করেন, অপরজন কিছু অংশ দখলে নিয়ে নেন। আমাদের বাসার চারিদিকে বেড়া দিয়ে দেয় অনেকেই।।এখনও ঐসব জায়গা লোভীরা সক্রিয় আছে। মা সেলাই কাজ করতেন, বাগানে সেই সেলাইয়ের কাপড় বিক্রি করে আমাদের লালন পালন করতেন। ঐ সময় একজন সাহায্য করেন।ভূড়ভুরিয়া চা বাগানের টিলা বাবু টগর দত্ত। উনার মাধ্যমেই আমার মা বাগানের উপর দিয়ে যাতায়াত করতেন। আপনারা যারা এ লিখা পড়ছেন, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমাদের পরিবারের উপর দিয়ে কি দুঃসময় গেছে। মা-ই সবকিছু সামলেছেন।

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ