সাইবেরিয়ার তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণতার ‘পরিষ্কার প্রমাণ’

প্রকাশিত: ১২:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

সাইবেরিয়ার তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণতার ‘পরিষ্কার প্রমাণ’

Manual6 Ad Code

সাইবেরিয়া (রাশিয়া), ১৬ জুলাই ২০২০ : মানুষের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া সাইবেরিয়ায় উষ্ণতার রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ প্রায় অসম্ভব ছিল বলে এক গবেষণায় প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

Manual3 Ad Code

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের নেতৃত্বে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক একটি দল গবেষণাটি করেছে, জানিয়েছে বিবিসি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে পাঁচ ডিগ্রিরও বেশি ছিল। ২০ জুন রাশিয়ার ভেরখোয়েনস্ক শহরের তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছিল, এ পর্যন্ত সুমেরু বৃত্তের উত্তরে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এটি।
সুমেরু (উত্তরমেরু) অঞ্চল বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে, জলবায়ু সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়টি জানেন। হিসাব বলছে, যেখানে ১৮৫০ সালের পর থেকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ সেলসিয়াস বেড়েছে সেখানে সুমেরু অঞ্চলের তামপাত্র ২ সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মানবসূচিত জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া প্রতি ৮০ হাজার বছরে তাপমাত্রার গড় বৃদ্ধি একবারেরও কম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
বিশ্ব যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমণের কারণে উষ্ণ না হয়ে উঠত তাহলে সাইবেরিয়ায় ওই ধরনের ঘটনা ঘটা ‘প্রায় অসম্ভব’ ছিল বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণার এই ফলাফলকে ‘এই গ্রহে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের দ্ব্যর্থহীন প্রমাণ’ বলে বর্ণনা করেছেন তারা।
সাইবেরিয়ায় চলমান এই তাপপ্রবাহ ‘বিশ্বের গড় তাপমাত্রা জানুয়ারি থেকে মে সময়কালে বৃদ্ধি পেয়ে নথিবদ্ধ রেকর্ডে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে’ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
সাইবেরিয়ার এই তাপপ্রবাহ বিভিন্ন নাটকীয় ফল বয়ে আনছে। এই চরম তাপমাত্রার কারণে সেখানে একের পর এক প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জুনের প্রথমদিকে অঞ্চলটিতে জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হন।
মে-র শেষ দিকে সাইবেরিয়ার নারিস্ক শহরের কাছে ২০ হাজার টন ডিজেলসহ একটি আধার ভেঙে পড়ে। উষ্ণতার কারণে জমে থাকা মাটি (পার্মাফ্রস্ট) গলে যাওয়ার কারণে ডিজেলের ওই ধারকটির কাঠামো আলগা হয়ে বিধ্বস্ত হলে আধারটি ভেঙে যায়। এতে হাজার হাজার টন তেল নিকটবর্তী নদীতে ছড়িয়ে পড়ে।
জুনে এই অঞ্চলে দাবানলের কারণে ৫৬ মেগাটন কার্বন ডাই অক্সাইড মুক্ত হয়ে বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়।
একই সময় পার্মাফ্রস্টের ব্যাপক গলনেরও খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি সাইবেরিয়ান রেশম মথের অস্বাভাবিক বড় বড় ঝাঁক গাছপালার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে। এতে দাবানলের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ