নষ্ট যুগের উপাখ্যান!

প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২২

নষ্ট যুগের উপাখ্যান!

Manual8 Ad Code

মাসুদুল আলম |

বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, অভিজ্ঞ, জ্ঞানের ভারে ভারাক্রান্ত ব্যক্তিদেরও দেখি হিরো আলমের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হতে। হিরো আলমের প্রশংসায় তাদের মুখে মঞ্চস্থ হয় প্রশংসার কমিক নাটক। তখন মনে হয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে অসভ্যতা মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া।
এই নষ্ট যুগে ভাইরাল হতে বা জনপ্রিয় হতে বেশি কিছু প্রয়োজন নেই just একটা গামছা পড়ে অর্ধ উলংগ হয়ে একটা কিম্ভূত কিমাকার dance দেন। দেখবেন আপনিও ভাইরাল ও জনপ্রিয় হয়ে গেছেন। অশ্রাব্য, গালি গালাজ করে বয়োবৃদ্ধ সেফুদাও কিন্তু জনপ্রিয়। ফলোয়ারের অভাব নেই। চোর সিদ্দিকও কিন্তু ভাইরাল হয়ে জনপ্রিয় হয়ে গেছেন। তাকে ছাত্ররা স্কুলে এখন সংবর্ধনা দিচ্ছেন। এরাই এখন এই প্রজন্মের আইডল। এদের লাখ লাখ ফলোয়ার। প্রজন্মের রুচি ব্যাপক পরিবর্তন হয়ে গেছে। সুন্দরের চেয়ে অসুন্দরের দিকেই ধাবিত হয় বেশি তারা। চরিত্রহীন তারকা, অসুন্দর কন্ঠের গায়ক, অসভ্য, ইতর মানুষেরাই এখন স্টার, জনপ্রিয়। ভাড়মি, ইতরামিই এখন এ যুগের ট্র‍্যান্ড।রবীন্দ্র সংগীত এদের কাছে ঠান্ডা আইসের মত পানসে স্বাদের। সৃজনশীলতার চেয়ে ভাড়ামি এদের প্রিয় বেশি।হিরো আলমের কন্ঠে সুর নেই, কবিতা আবৃত্তিও হয় না, তবুও সে জনপ্রিয়। কারন সে গান ও আবৃত্তির চেয়ে ভাড়ামি করে বেশি। তার মূল প্রতিভা হচ্ছে সে যা খুশি তাই করতে পারে। একজন কবি, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, বিজ্ঞানি, দার্শনিক বা চিন্তক, শিক্ষক, গবেষক এই প্রজন্মের আইডল নয়, এই প্রজন্মের আইডল হচ্ছে, টিকটকার, হিরো আলম, সেফুদা, পরিমনি, শাকিব খান, চোর সিদ্দিক।
সুতরাং জনপ্রিয় বা ভাইরাল হতে বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই, অস্বাভাবিক একটা কিছু করেন, দেখবেন ভাইরাল ও জনপ্রিয় হয়ে গেছেন। অন্তর্বাস পড়ে অস্বাভাবিক ভাব ভঙ্গিমায় dance দেন অথবা বেসুরো, মহাজাগতিক সুরে একটা গান গেয়ে ভিডিও করে ছেড়ে দেন, দেখবেন ভাইরাল হয়ে, কিছুদিনের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে গেছেন।

#

Manual7 Ad Code

মাসুদুল অালম
সহকারী অধ্যাপক
ইংরেজি বিভাগ
শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ