দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৭০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে গত ১৫ বছরে

প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৩

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৭০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে গত ১৫ বছরে

Manual7 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ : স্বাধীন বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে বা অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে,তাঁর ৭০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে গত ১৫ বছরে। এসময়ে ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ধারাবাহিক তিন মেয়াদে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের রুপান্তর ঘটেছে। এই সমৃদ্ধি আরও এগিয়ে নিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সরকারকে আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা জোরদার, মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আয় বৈষম্য নিরসনে বেশ কিছু সাহসী সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৩) রাজধানীর প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশে অন্তর্ভূক্তিমুলক উন্নয়ন:চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অর্থনীতিবিষয়ক দৈনিক পত্রিকা ‘দ্য বিজনেস আই’ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

দ্য বিজনেস আইয়ের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিন হেলালী,অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং সাংবাদিক অজিত কুমার সরকার বক্তব্য দেন।

Manual5 Ad Code

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল টিভির সিইও সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. আতিউর রহমান গত ১৫ বছরে অর্থনীতি ও সামাজিক নানা সূচকের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বলেন,‘৫০ বছরে দেশের অর্থনীতিতে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তাঁর ৭০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে গত ১৫ বছরে।এসময়ে ৯০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপির আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারে। এছাড়া দারিদ্রতা হ্রাস, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, নারীর কর্মসংস্থানসহ অর্থনীতি ও সামাজিক সূচকে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির পেছনের মুল নিয়ামক ছিলো সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার কারণে দেশে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি মনে করেন দেশে ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্তিমুলক অর্থনীতির একটা কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে,নির্বাচনী পরবর্তী সরকারকে সেটা এগিয়ে নিতে হবে।

কেন্দ্রিয় ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন,অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে এবং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় কি হতে পারে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা স্পষ্ট করে বলেছেন। যেমন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার কমানো, পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও জোরদার। এর পাশাপাশি আর্থিক ও ব্যাংকিংখাতে শৃঙ্খলা জোরদারে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি মনে করেন প্রধানমন্ত্রী পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসে এসব নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করলে আর্থিকখাত অনেক বেশি সুশৃঙ্খল হবে এবং মূল্যস্ফীতিসহ যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো মোকাবিলা অনেক সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধুর যে দর্শন ‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো’ তাঁর অনেক কিছু বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। আর্থিক ও সামাজিকক্ষেত্রে বৈষম্য কমে এসেছে। তবে কার্যকর অর্থে বৈষম্য হ্রাসে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কেবল আর্থিক সহায়তা দিয়ে বৈষম্য হ্রাস করা যায় না। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জন্য সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তাঁদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে তাঁরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে। তাহলে বৈষম্য আরও দ্রুত হ্রাস পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি নির্বাচন পরবর্তী সরকারকে দূর্নীতিবাজ-দুষ্টচক্রের বিষয়ে শুন্য সহনশীলতা দেখানোর পরামর্শ দেন।

বলেন, তাহলে আর্থিকখাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, সরকারের সুচিন্তিত পদক্ষেপ আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে রুপান্তর ঘটিয়েছে। মাথাপিছু আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শতভাগ ঘরে বিদ্যুৎ পোঁছে গেছে।

তিনি আয় বৈষম্য কমাতে প্রগতিশীল আয়কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, সরকারের নীতি সহায়তা এবং শ্রমিক ও উদ্যোক্তার মিলিত পরিশ্রমের কারণে দেশের পোশাকখাত শক্ত ভিত্তি রচনা করতে পেরেছে। আজ আমরা ৪৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করছি। তবে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের দখলে রয়েছে মাত্র ৭.৮৯ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর অর্থ হচ্ছে আমাদের সামনে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাণিজ্য সহজীকরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

Manual6 Ad Code

দ্য বিজনেস আইয়ের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন গত ১৫ বছরে সরকারের নানা অর্জনের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থিকখাতের অপরাধ দমনে যে নির্বাচনী অঙ্গীকার করেছেন, সেটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আশা করি সরকার এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ