নারী অধিকার ও নারী মুক্তির প্রশ্নটি সবসময়ই অবহেলিত থেকেছে: বকুল

প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২৬

নারী অধিকার ও নারী মুক্তির প্রশ্নটি সবসময়ই অবহেলিত থেকেছে: বকুল

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ : বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্র ও সরকার নারীদের প্রতি তাদের সাংবিধানিক ও মানবিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল।

তিনি বলেন, বারবার নারী অধিকার ও সমতার কথা উচ্চারিত হলেও বাস্তবে প্রতিটি সরকারই এ বিষয়ে উদাসীনতা দেখিয়েছে, যার ফলে নারী মুক্তি ও প্রকৃত ক্ষমতায়ন এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানীর শহীদ রাসেল আহমেদ খান ভবনে অনুষ্ঠিত নারী মুক্তি সংসদের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

“সর্বস্তরের নির্বাচনে, প্রশাসনে ও নেতৃত্বে নারীর সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কমরেড বকুল তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বিদ্যমান লুটেরা বুর্জোয়া ও মৌলবাদী শক্তিগুলো নারী অধিকার ও নারী মুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।

Manual8 Ad Code

তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারীদের যথাযথ সুযোগ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নারীরা এখনও বৈষম্য, সহিংসতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে।

Manual3 Ad Code

তিনি আরও বলেন, “নারীদের আর ঘরে বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হতে হবে। একটি শক্তিশালী নারী আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।” নারী মুক্তি সংসদকে এ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠনে পরিণত করার আহ্বানও জানান তিনি।

সভায় নারী মুক্তি সংসদের সভাপতি ফজিলাতুন নাহারের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিউলি সিকদারের পরিচালনায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারীর অবস্থান, অধিকারবঞ্চনা এবং ক্ষমতায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন নারী নেত্রী জোবাইদা পারভীন, নাসরিন খান লিপি, সাহানা ফেরদৌসী লাকী, স্বপ্না সেন, শাহীনুর বেগমসহ আরও অনেকে।

Manual4 Ad Code

বক্তারা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, সমান মজুরি নিশ্চিত, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

Manual1 Ad Code

তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভা থেকে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নারী মুক্তি সংসদের জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং সারাদেশে নারী অধিকার আন্দোলনকে জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।

সভা শেষে নেতৃবৃন্দ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ