পাহাড়ের পতিত জমিতে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছেন আজাদ

প্রকাশিত: ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৪

পাহাড়ের পতিত জমিতে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছেন আজাদ

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | কামাল আতাতুর্ক মিসেল | কুমিল্লা (দক্ষিণ), ১৭ ফ্রেরুয়ারি ২০২৪ : কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় এলাকার চাষি আবুল কালাম আজাদ।

Manual1 Ad Code

তিনি পাহাড়ের পতিত জমিতে লেবু, কলা, পেঁপে ও কচুমুখি চাষ করেন। এতে তার গত বছর লাভ হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

Manual4 Ad Code

পাহাড়ের রূপবানমুড়া এলাকায় কলা, লেবু, মাল্টা, আনারস, আম, কাসাবা, পেঁপে ও মদিনানগর এলাকায় কচুমুখি চাষ করে স্থানীয় কৃষকদের তাক লাগিয়েছেন।

সরেজমিনে পাহাড়ে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড় ও তার ঢালুতে সবুজের সমারোহ। সবুজ থেকে চোখ ফেরানো দায়। নির্জন পাহাড়ে চলছে কাজের উৎসব। শ্রমিকদের কেউ লেবু তুলছেন। বাগানজুড়ে লেবুর মিষ্টি ঘ্রাণ। কেউ কলা ছড়িয়ে কাটছেন। কয়েকজন ব্যস্ত কচুর ছড়া তোলায়। হাত দিয়ে ছড়া পরিষ্কার করা হচ্ছে। কেউ পেঁপে পেকেছে কি না তা পরীক্ষা করছেন। আবুল কালাম আজাদের বাগানে ও জমিতে নিয়মিত ১০ জন শ্রমিক ও ফসল তোলার মৌসুমে আরও ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। বসে নেই চাষি আবুল কালাম আজাদও। সমানতালে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। এত পরিশ্রমের পরও তার মুখে লেগে আছে তৃপ্তির হাসি।

Manual5 Ad Code

কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কয়েকটি কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর ছিলাম। এতে খুব চাপ নিতে হয়। পাহাড়ে পরিবারের কিছু পতিত জমি ছিল। সেখানে প্রথমে লেবুর চাষ করি। প্রথম বছর ৫ লাখ টাকার চায়না লেবু-০৩ বিক্রি করি। পরে যোগ করি মাল্টা। এ বছর ৫ টন মাল্টা বিক্রি করেছি। আট বছর ধরে কচুর ছড়ার চাষ করছি। নতুন করে ড্রাগন, কাজুবাদাম ও কফির চারা লাগিয়েছি। কৃষিতে সময় দিয়ে আমি লাভবান হয়েছি। আমার পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে।

কৃষি তথ্য সার্ভিস কুমিল্লার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন মিজি বলেন, কৃষি তথ্য সার্ভিস বিভাগের কাজে আমাদের বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে যেতে হয়। লালমাই পাহাড়ের পতিত জমিতে কৃষক আবুল কালাম আজাদ সবুজের বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি নিজে লাভবান হওয়ার সঙ্গে স্থানীয় বাজারে ফল ফসলের জোগান দিচ্ছেন। এতে স্থানীয়রা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন।
সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাণিজ্যিক কৃষিকে এগিয়ে দেওয়া। আবুল কালাম আজাদ সে রকম একজন কৃষক। তিনি শুধু এক ফসলে পড়ে থাকেননি। তিনি লেবু, মাল্টা, আনারস, আমসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেছেন। তিনি গত বছর কৃষিপণ্য বিক্রি করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লাভ করেছেন। সামনের বছরগুলোতে তার আয় আরও বাড়বে। তার মতো অন্য শিক্ষিত তরুণরাও কৃষিতে এগিয়ে এলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হবে।

 

Manual2 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ