মিথ্যা মামলা-গুম-খুনের রাজত্ব শেষ হয়নি

প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৫

মিথ্যা মামলা-গুম-খুনের রাজত্ব শেষ হয়নি

Manual3 Ad Code

মো: আল-আমিন | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ : তৌহিদুর রহমানকে হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও বিচার বহিভূর্ত হত্যার বন্ধের দাবীতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) দুপুরে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় নাগরিক কমিটির শ্রীমঙ্গল শাখার সদস্য ইমরান আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা সার্চ কমিটির সদস্য নিলয় রশিদ তন্ময়। এছাড়াও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক কমিটির শ্রীমঙ্গল শাখার সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম, দেলওয়ার হোসেন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য আরিফ বক্স।

এতে নাগরিক কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবী করছি। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শেষ হলেও গুম-খুনের রাজত্ব শেষ হয়নি। নিরাপত্তার নামে পুলিশ এদেশে জনগণকে আরও বেশি অনিরাপদ করে তুলছে। ‘জনগণ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল। পুলিশি রাষ্ট্র গঠন করা অভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী। অথচ আমরা দেখছি, বর্তমান সরকারের আড়ালেও যারা সরকার পরিচালনা করছে, তাদের দ্বারা এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও খুনের সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বিগত সরকার তাঁর ফ্যাসিস্ট শাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ সেই ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করেছেন, যার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের মধ্যে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে হাসিনার পতন হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে সেই ফ্যাসিবাদী শাসনের কোনো চিহ্ন থাকবে না, গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থাকবেনা।

“তৌহিদুর রহমানকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার ও বিচার বহিভূর্ত হত্যার বন্ধের দাবিতে” ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এই হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য যে, কুমিল্লায় গভীর রাতে বাড়ি থেকে যৌথ বাহিনীর হাতে আটক যুবদল নেতা তৌহিদুলের মৃত্যু হয়।

অমানবিক নির্যাতনের কারণে যুবদল নেতা মো. তৌহিদুল ইসলাম (৪০) মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। নিহতের শরীরে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন থাকার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক ও স্বজনেরা।

Manual5 Ad Code

তৌহিদুল ইসলাম কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। তিনি একই ইউনিয়নের ইটাল্লা গ্রামের বাসিন্দা। তৌহিদুল চট্টগ্রাম বন্দরে একটি শিপিং এজেন্টে চাকরি করতেন। গত রোববার তাঁর বাবা মোখলেছুর রহমানের মৃত্যুর খবরে তিনি বাড়ি আসেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার তাঁর বাবার কুলখানি হওয়ার কথা ছিল। তৌহিদুলের মা প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন। সংসারে তাঁর স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তান রয়েছে।

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক বলেন, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে থানা–পুলিশকে বলা হয় তৌহিদুল ইসলামকে নেওয়ার জন্য। যখন পুলিশের কাছে তৌহিদুলকে হস্তান্তর করা হয়, তখন তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁকে কেন আটক করা হয়েছিল বা কীভাবে তিনি মারা গেছেন, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Manual2 Ad Code

 

 

Manual6 Ad Code