কুলাউড়ায় ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেটকার ও অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশিত: ৯:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২৬

কুলাউড়ায় ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেটকার ও অস্ত্র উদ্ধার

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজার, ০৩ জুলাই ২০২৬ : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় পৃথক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Manual3 Ad Code

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) দিবাগত রাত ২টা ৩৫ মিনিটে কুলাউড়া থানার একটি দল উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের মানগাঁও ত্রিমোহনী সড়কে অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সৈয়ারপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মো. কাউছার মিয়া (৩২), সদর উপজেলার বেরিরচক গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩৫), কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বিলেরপাড় গ্রামের মৃত ইসমাইল আলীর ছেলে মো. সালাউদ্দিন (২৯) এবং কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর এলাকার সতিজিরগ্রাম গ্রামের আসুক আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম মামুন (২৮)।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি করোলা প্রাইভেটকার (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-গ-১৩-৪৫৯৮), একটি হলুদ রঙের প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত কাটার, একটি স্টিলের তৈরি সুইস গিয়ার ছুরি, একটি লোহার রামদা এবং একটি লোহার ছোরা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ তালিকামূলে জব্দ করেছে পুলিশ।

Manual1 Ad Code

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার কাউছার মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ১১টি, জসিম মিয়ার বিরুদ্ধে ১২টি এবং সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে।

Manual7 Ad Code

এদিকে, এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজার সদর থানার হাসপাতাল রোড এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কুলাউড়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হলেন রাজনগর উপজেলার কদমহাটা গ্রামের মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন ওরফে আহাদ মিয়া (৪৬)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে আহাদ মিয়াকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মোট ১৪টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার পাঁচজনই সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা প্রাইভেটকারটি ডাকাতি সংঘটনের সময় ব্যবহৃত হতো বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। আন্তঃজেলা অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

পুলিশের দাবি, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ