রিকশাচিত্র: রঙে রূপকথা গাঁথা এক শিল্প, কালের গহ্বরে হারাবার পথে

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৫

রিকশাচিত্র: রঙে রূপকথা গাঁথা এক শিল্প, কালের গহ্বরে হারাবার পথে

Manual4 Ad Code

মো. আফজল হোসেইন | বিশেষ প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ : বাংলাদেশের রিকশা কেবল একটি পরিবহনের মাধ্যম নয়, এটি দেশের একটি অনন্য কারুশিল্পের প্রতীক। রিকশাচিত্রের নকশা এবং রঙিন আঁকা ছবি দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হত।

অতীতে রিকশাচিত্রে সাধারণত বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, প্রাকৃতিক দৃশ্য, ধর্মীয় চিত্র এবং সমসাময়িক ঘটনা চিত্রিত হত । শিল্পীরা তাদের কল্পনাশক্তি ও দক্ষতার মাধ্যমে রিকশাকে একটি চলন্ত ক্যানভাসে সৃষ্টি করত।

তবে এই শিল্পটি বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। আধুনিক যানবাহনের প্রচলন এবং রিকশাচিত্রীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই শিল্পের অস্তিত্ব বিপন্ন হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কালের পরিবর্তন এবং আধুনিক যানবাহনের প্রচলনের ফলে পরিবেশ বান্ধব এই যানটি প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। শহরের মধ্যে এইসব প্যাডেল চালিত রিকশা এখন আর চোখে পড়ে না।

Manual1 Ad Code

শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ রোডের রিকশা ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার আগমনে তাদের ব্যবসায় ধস নেমেছে। একসময় প্যাডেলচালিত রিকশা দিয়ে দৈনিক ৩০ টাকা ভাড়া পেতেন তারা। তবে, এখন ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপটে তাদের আয় কমে গেছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এখন অটোরিকশার আধিক্য। দ্রুতগতি আর বেশি যাত্রী বহনের ক্ষমতার কারণে এদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে, প্যাডেলচালিত রিকশা চালাতে অনেক পরিশ্রম হয় এবং আয়ও কম। ফলে, যাত্রীরাও এখন অটোরিকশা ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

Manual6 Ad Code

এ ব্যাপারে রিকশা ব্যবসায়ী মো. রফিক মিয়া বলেন, “আগে দৈনিক ভালো আয় হতো। এখন ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।”

Manual6 Ad Code

প্রৌঢ় রিকশাচালক তোতা মিয়া বলেন, অটোরিকশার দাপটে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। আগের মতো রিকশা চালিয়ে আর ভাড়া পাই না। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের চলতে খুব কষ্ট হয়। যাত্রীরা এখন আমাদের জরাজীর্ণ রিকশায় চড়তে চায় না, তারা অটোরিকশাতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে।”

Manual7 Ad Code

এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও লেখক আরপি নিউজের সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, রিকশাচিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে একতা গড়ে ওঠা মহিলাদের সবলীকরণ, শিশুশ্রম নিরোধ, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা, এছাড়াও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রিকশাচিত্রে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্য অঙ্কিত হতো। এটি মানুষকে স্বাধীনতার জন্য অনুপ্রাণিত করত। বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে রিকশাচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করত। রিকশাচিত্র শুধুমাত্র সৌন্দর্যের জন্যই আঁকা হয়নি। এতে অনেক সময় সামাজিক বার্তাও প্রচার করা হতো। যেমন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সমস্যা ইত্যাদি। এটি জনসাধারণকে সচেতন করার একটি উপায় হিসেবে কাজ করত।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ