নয় দশকেও সম্প্রসারিত হয়নি শ্রীমঙ্গল পৌরসভা, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ

প্রকাশিত: ৯:০১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২৫

নয় দশকেও সম্প্রসারিত হয়নি শ্রীমঙ্গল পৌরসভা, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ

Manual8 Ad Code

মো. আফজল হোসেইন, বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৩ আগস্ট ২০২৫ : শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও আশপাশের এলাকার জনসংখ্যা, ব্যবসা বাণিজ্য ও আর্থসামাজিক ব্যাপক প্রসার ঘটলেও নয় দশকেও পৌরসভাটি সম্প্রসারিত হয়নি। এর ফলে এলাকার স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছেই।

১৯৩৫ সালে প্রথম ২ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো তা আগের নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই রয়ে গেছে। দিন দিন শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও তৎসংলগ্ন এলাকার জনসংখ্যা, ব্যবসা বাণিজ্য, আর্থসামাজিক কার্যক্রম বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সম্প্রসারণের দাবিটি আরো জোরালো হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

বর্তমানে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত শ্রীমঙ্গল পৌরসভা তৎসংলগ্ন এলাকাগুলো সরেজমিনে গেলে স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এসময় অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মো. ইউনুস আলী বলেন, দাবিটি বহুবছরের তবে কার্যত কিছুই হয়নি। আমাদের খাঁসগাও একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল। পৌরসভার একদম কাছে থেকেও আমরা নাগরিক সুবিধা পাচ্ছি না। এত বছর পরেও কেন সম্প্রসারণের কাজটি আটকে আছে, তা আমাদের জানা নেই। এটা খুবই দুঃখজনক যে, আমরা বছরের পর বছর ধরে শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনে যাচ্ছি। নতুন ৮.৮৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকার প্রস্তাবনা আছে, এমনকি বিষয়টা আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে সবই আমরা জানি। কিন্তু বাস্তবে কী হলো? কিছুই না। আমাদের এলাকাগুলো দিন দিন আরও ঘনবসতিপূর্ণ হচ্ছে, অথচ আমরা পরিকল্পিত নগর সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে। চিঠি চালাচালি ও আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এর বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেন।

একই ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরামপুর এলাকার বাসিন্দা রাজু মিয়া বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এলাকাটিকে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এখানকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিশুদ্ধ পানি, সড়কে বাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক সুবিধা থেকেও আমরা বঞ্চিত। বর্জ্য ঠিকমতো অপসারণ না হওয়ায় দুর্গন্ধে বায়ু দূষিত হচ্ছে এবং নানা রোগ-বালাই ছড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বা একটি চারিত্রিক সনদপত্র নিতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমরা এই বৈষম্যমূলক নীতির অবসান চাই। দ্রুত বিরামপুরসহ প্রস্তাবিত সকল এলাকাকে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, এ দাবি শুধু আমার একার নয়, বরং পৌরসভা ও তৎসংলগ্ন এলাকার বসবাসকারী হাজারো মানুষের দাবি।

এদিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা থেকে সরবরাহকৃত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে পর্যায়ক্রমে শ্রেণি উন্নতি হলেও শ্রীমঙ্গল পৌরসভা আর সম্প্রসারিত করা হয়নি। ১৯৮১,১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নতুন এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে শহর হিসেবে ঘোষণা ও সম্প্রসারণের জন্য গেজেট প্রকাশ করা হয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগের চূড়ান্ত অনুমতি না থাকায় সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি বেশ গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন এবং শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সম্প্রসারিত করার জন্য ব্যাপক তৎপর ছিলেন।

১৯৯৬ সালের গেজেটকে বাতিল করে ১৯৮১ ও ২০০১ সালের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি এরকম ভূমি সংযোজন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। প্রস্তাবনায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের কয়েকটি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করা হ। এলাকাগুলোর মধ্যে ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের সুনগইড়-রুপসপুর-শ্রীমঙ্গল-ভাড়াউড়া-উত্তরসুর মৌজা, ৮নং কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ভাড়াউড়া টি ই-ভূরভুরিয়া টি ই-ফুলছড়া টি ই মৌজা, এবং ৬নং আশিদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের সুনগইড়-রামনগর মৌজা এর অন্তর্ভুক্ত।

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইসলাম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পৌরসভার আশপাশ এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সম্প্রসারিত করা।তাদের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কিন্তু আমরাও বসে নেই। প্রস্তাবনাটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কাজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমার কাছে কোনো আপডেট নেই। বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে আছে, সেখান থেকেই সর্বশেষ তথ্য জানতে হবে।

Manual3 Ad Code

শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের দাবীটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “শ্রীমঙ্গল পৌরসভা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যিক শহর, যা চা শিল্প, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বন-জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। সময়ের সাথে সাথে শহরের জনসংখ্যা ও কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে পৌর এলাকার সম্প্রসারণ একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সম্প্রসারণ প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হলে, তা সময়োপযোগী ও অত্যাবশ্যক একটি পদক্ষেপ হবে বলে আমি মনে করি। এ সম্প্রসারণের বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে, নাগরিক সুবিধা বর্ধিত হবে, শহরের অর্থনীতি ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং এটি একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত স্মার্ট শহরে রূপ নিতে সক্ষম হবে।”

Manual5 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ