সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২৫
মানুষের জীবনধারা একটি ছোট্ট নির্দিষ্ট লক্ষ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। নিজেকে নিয়ে নিজের পরিবারকে নিয়ে ভাবতে পারলেই যেন ষোলআনা পূর্ণ।
জীবনটা শুরু হয় সামান্য চাওয়া পাওয়ার মধ্য দিয়ে। প্রথমেই প্রয়োজন পরে একটি নিরাপদ আশ্রয় একটি বাসস্থানের। বাসস্থানের ব্যবস্থা হয়ে গেলেই প্রয়োজন হয় ক্ষুধা নিবারণের জন্য অর্থ উপার্জন করার চেষ্টা। নিজের ক্ষুধা নিবারণের জন্য অর্থ উপার্জন করতে করতে অর্থ সঞ্চয় করার প্রয়োজন তাড়া করে। শুরু করে দেয় অর্থ সঞ্চয় করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম। নিজের আরাম-আয়েশ সুখ- স্বাচ্ছন্দ বিসর্জন দিয়ে অর্থ সঞ্চয় নেশায় মত্ত হয়।
প্রশ্ন হলো- এ সঞ্চয় কার জন্য? হা নিজের সন্তানের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। সন্তানরা যেন সুখে থাকে। সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাতে ওদের যেন কোন কষ্ট না হয়। আর সে জন্যই গাড়ি-বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি পরিপাটি করে রাখার তোরজোর। যার যার সাধ্যমত অর্থ-সম্পদ সঞ্চয় করে রাখতে পারাটাকেই নিজের জীবন সার্থক মনে করা হয়। এসব করেই ভাবছেন কিছু একটা করতে পেরেছেন এবার নিশ্চিন্তে মরতে পারবেন।
এর বাহিরেও যে কিছু করার দায়িত্ব রয়েছে, সমাজের প্রতি, রাষ্টের প্রতি সমাজের মানুষের ভাল-মন্দ দেখা,বোঝা ইত্যাদি সে বিষয়টি সবার কাছেই একেবারে গৌণ।
যাক যা বলছিলাম- আপনি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে, সারা জীবন কষ্ট যন্ত্রণা সহ্য করে, জীবনের সবটা সময় ব্যয় করে সন্তানের জন্য অর্থ সঞ্চয় করলেন!
ধরুন আপনার সে সন্তান যদি কুসন্তান হয়? তবে কি লাভ হল সেই অর্থ সঞ্চয় করে! বরং আপনি ভুল করেছেন। আপনি আপনার সন্তানকে অলস হতে উৎসাহিত করেছেন, উন্মুক্ত অতিরিক্ত বিলাসিতার সমুদ্রে ভাসিয়ে দিয়েছেন। তাকে জীবনের মানে বুঝতে দেননি, বেপরোয়া হতে সুযোগ করে দিয়েছেন। আপনার ছেলে আপনার সঞ্চয় করা অর্থ দিয়ে সমাজে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। সমাজের অন্যসব সন্তানের জন্য সে একটা ভাইরাস হয়ে দাড়িয়েছে। তখন মনে হবে আপনার পুরো জীবনটাই পন্ডশ্রম। প্রতিটি মূহুর্তে আপনি আফসোস করবেন। তখন আর কিছুই করার থাকবেনা।
আর আপনার সে সন্তান যদি সু-সন্তান হয়, তবে তো সে সন্তানের জন্য অর্থ সঞ্চয় করার প্রয়োজনই নেই কারণ সে তার সততা যোগ্যতা আর নিষ্ঠা দিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে নতুন একটা জগত তৈরি করবে। নিজেকে বুঝবে, মানব-জীবনের স্বার্থকতা কি তা অনুধাবন করবে। সে সন্তান হবে সংসারের, সমাজের,পুরো মানবজাতির জন্য গৌরব,অহঙ্কার।
একটি মহা-সত্য হলো এই পৃথিবীতে মানুষের প্রধান এবং মুখ্য কাজ হলো অন্য মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করে তা দূর করার জন্য জীবন-সম্পদ দিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করা। আল্লাহর পক্ষ থেকে খলিফার দায়িত্ব পালন করা। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষ হবে মানবতার কল্যানে নিয়োজিত। মানুষ আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হয়ে স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রীক কি করে হতে পারে!
মনুষ্যত্ববোধ মানবতাবোধই হচ্ছে মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এমন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মানুষ পুরো মানবজাতির মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই বিদ্যমান আছে। বাকি সব মানবতাহীন মানুষরূপী মাত্র।
তাই শুধুমাত্র অর্থ সঞ্চয় নয়। প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন জ্ঞান সঞ্চয় করা প্রেম-ভালোবাসা সঞ্চয় করা। যেন অন্যমানুষের দুঃখ দূর করতে পারে।মায়া-মমতা পূর্ণ সু-সন্তান হয়ে নতুন সভ্যতা নির্মাণ করে মানব জাতিকে একটা শান্তিময় সমাজ উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। তাতে নিজেও উপকৃত হবে জাতিও উপকৃত হবে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি